Sharing is caring!

shbganj-pic-01শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের গৌড় সোনামসজিদ বি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শি¶ক জিন্নুর রহমান ২ মাস ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের পর অনেক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে গত ২৬/০১/১৬ সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেছেন। জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর বিদ্যালয়ের কাজের জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে কানসাট থেকে নাইট কোচে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। জিন্নুর রহমানের ব্যবহৃত ০১৭১৭-০৮৮৭৯৫ মোবাইল নম্বরটিও সেদিন থেকে বন্ধ  ছিল। এদিকে তার স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তার এবং তার সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বেতনভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠে। এব্যাপারে এলাকাবাসী এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, প্রতিষ্ঠানের ভাব মূর্তি ক্ষুণ্য এবং শিক্ষকদের হয়রানি করার জন্য প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃত বাইরে ছিলেন। তবে প্রধান শিক্ষক জিন্নুরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ৩০ নভেম্বর ২০১৫ ঢাকা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নবাবগঞ্জ পৌছি এবং একটি মাইক্রোতে উঠে বসার পর পরই অজ্ঞান হয়ে যায় এবং আমাকে কোথায় নিয়ে যায় তা জানতে পারিনি। শেষে গত ২৩ জানুয়ারী কে বা কারা আমার চোখ বেধে নাটোর সিডনি পশু হাটে ফেলে যায়। তার পর আমি স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে চোখ খুলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় বাড়ি আসি। এর মধ্যে আমার কারও সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি। তবে কারা নিয়ে গিয়েছিল তা আমি বলতে পারব না। তবে কারও অভিযোগ তিনি ইচ্ছা করেই ভারতে পালিয়েছিলেন। তবে তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে জিন্নুর রহমান প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৫২ শতক জমি দান করেন। যার দলিল নং ৩৯৭২/১৯৯৮ তারিখ ০১/০৩/১৯৯৮। কিন্তু ২০০৫ সালে গোপনে বন্টন নামায় বিদ্যালয়ের নাম না দিয়ে জিন্নুর রহমান তার ছেলে মাসুদ ও মাহমুদ এর নামে বন্টন করেন এবং ২০১৪ সালের জুলাই মাসে উক্ত জমি থেকে সাড়ে ২২ শতক জমি সালেক, এরফান, শাহিদ এর নিকট বিক্রি করে দেয়। পরে ঐ জমি নিয়ে গন্ডগোল সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক জিন্নুর রহমান সহকারী শিক্ষক সাদিকুল, আব্দুর রহমান ও মোবারক হোসেন এর নামে ২টি মামলা করে যার নম্বর ৬০/পি-২০১৪ ও ৬১/পি-২০১৪। বিষয়টি তদন্তের জন্য শাহাবাজপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও শিবগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিসারকে দায়িত্ব প্রদান করা হলে গত ০৭/০৭/২০১৫ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় আসে। পরে প্রধান শিক্ষক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সহি জাল করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে প্রতিষ্ঠানের বেতন বন্ধের জন্য আবেদন করলে বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি ও এডিসিকে দায়িত্ব প্রদান করলে তদন্ত কমিটি এডিসি মাকসুদা বেগম সিদ্দিকা একইভাবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় দেন। শেষে বিভিন্ন কৌশলে লিপ্ত হয় প্রধান শিক্ষক জিন্নুর রহমান। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, আগামী ০৫/০২/২০১৬ তারিখ প্রধান শিক্ষকের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হবে। এজন্যই হয়তো এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *