Sharing is caring!

অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় প্রকাশের জের
নাচোলে স্বামীর আত্মীয়দের নির্যাতনে গৃহবধু মৃত্যু নিয়ে নানা অভিযোগ

♦ স্টাফ রিপোর্টার 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নামোটোলা গ্রামে সরল সহজ স্বামীর আত্মীয়ের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে ফারিজা (২৫) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। মামি শাশুড়ির অবৈধ সম্পর্কের বিষয় ফাঁস করে দেয়ার কারন হিসেবেই এই নির্যাতন এবং মৃত্যুর ঘটনা বলছেন এলাকাবাসী। আয় রোজগারের কারণে বেশীর ভাগ সময় স্বামী বাইরে থাকার সুযোগে এই গৃহবধুর উপর নির্যাতন চালাতো মৃত্যুবরণকারী মোসা. জাকিরা খাতুন ফারিজার স্বামী মো. ইসমাইল এর মামা মো. ওবাইদুর (৪৫) ও মামি মোসা. ডেইজি (৩২)। পাশের বাড়ির হওয়ায় এবং সরল স্বামী হওয়ায় তাদের অত্যাচার সহ্য করলেও শেষ পর্যন্ত জীবন দিয়েই অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছে ফারিজা। এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছেন ফারিজার মা, স্বামী ও এলাকাবাসীর। ১০ জুন/২০ এই ঘটনা ঘটলেও এ মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখেনি কেউই। এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও কোন সুরাহা করতে পারে নি ফারিজার মা মোসা. রুলি বেগম (৪৫)। ফারিজার গর্ভের পুত্র সন্তান রমজান (৩) কে নিয়ে চরম দূর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছেন মৃত গৃহবধু ফারিজার মা রুলি বেগম। তিনি এই মৃত্যুর প্রকৃত কারন উদঘাটন করে দোষীদের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন। সরজমিন গিয়ে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের মেয়ে মোসা. জাকিরা খাতুন ফারিজার ৪ বছর আগে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের ফতেপুর নামোটালা গ্রামের মারফৎ মন্ডলের ছেলে মো. ইসমাইলের সাথে। সরল সোজা দিনমজুর স্বামী ইসমাইলের সাথে সংসার জীবন ভালোই কাটছিলো ফারিজার। এরই মধ্যে তাদের এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। সংসারের আয় রোজগারের জন্য ইসমাইল প্রায় জেলার বাইরে বিভিন্ন কাজ করতো। স্বামী বাড়িতে না থাকায় এবং সরল ও সোজা মানুষ হওয়ায় প্রায়শই নানা অযুহাতে মানষিক ও শারিরিক নির্যাতন চালানো পাশের বাড়ির মো. ইসমাইল এর মামা মো. ওবাইদুর ও মামি মোসা. ডেইজি। ১০ জুন বিকেলে ফারিজার সন্তান রমজানকে নিয়ে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে নানাভাবে গালিগালাজ ও মারধর করে ফারিজাকে ওবাইদুর ও ডেইজি এবং ফরিজার সন্তান রমজানকে মেরে গোরস্থানে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকী দেয়। দীর্ঘদিন নানা নির্যাতন সহ্য করে এবং স্বামী বা এলাকার মানুষের কাছ থেকে কোন বিচার না পেয়ে অবশেষে ১০/০৬/২০২০ তারিখ সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে প্রাণ দেয় ফারিজা। এঘটনার প্রায় ১০ মিনিট আগে ফারিজা তার মাকে ফোন করে কেঁদে বলে ‘মা তোমার সাথে আর দেখা হবে না, এটাই শেষ কথা, আমাকে মেরে ফেলছে আমার মামা শশুর মো. ওবাইদুর ও মামি মোসা. ডেইজিসহ কয়েকজন’। তারপরেই ফোন কেটে যায়। বার বার ফোন করেও ফারিজার মা রুলি বেগম পাচ্ছিল না মেয়েকে। প্রায় ২০/২৫ মিনিট পর ফোনটি একজন ধরে। সে ওই এলাকার গ্রাম পুলিশ শ্রী সুধীর কর্মকার। ফোন ধরে গ্রাম পুলিশ সুধীর রুলি বেগমকে জানায়, ফারিজা ফাঁসিতে ঝুলছে। ঘটনা শুনে ফারিজার বাড়িতে ছুটে আসে রুলি বেগমের এলাকার মানুষ ও ফারিজার এলাকার মানুষ। ঘটনার পরই ইসমাইল এর মামা ওবাইদুর ও মামি ডেইজি বাড়িতে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। বর্তমানেও তারা স্বপরিবারে পালিয়ে আছে। তবে ঘটনার পর ফারিজার ঘরে এলাকার অচেনা কয়েকজনকে দেখতে পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোসা. ইসমত আরা। ঘটনার সময় ফারিজার স্বামী ইসমাইল ঢাকায় অবস্থান করছিলো। স্ত্রী ফারিজার মৃত্যুর খবর শুনে পাগলের মত বাড়িতে ছুটে আসে ইসমাইল (৩০)। স্ত্রীকে হারিয়ে এবং সন্তান রমজানের লালন-পালনের চিন্তায় চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সরল মানুষ ইসমাইল। ইসমাইলের বাড়ির পাশর্^বর্তী একটি সুত্রে জানা গেছে, এলাকার জনৈক ব্যক্তির সাথে ফারিজার মামি শাশুড়ি ডেইজির দীর্ঘদিনের অবৈধ সম্পর্কের কথা একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে জানাজানি হলে এবং ওবাইদুরকে বিষয়টি ফারিজা জানিয়ে দিলে শুরু হয় ফারিজার উপর অমানষিক নির্যাতন। নানা অযুহাতে মিথ্যা বানোয়াট বিষয় নিয়ে শারিরিক ও মানষিক অত্যাচার চালাতো ওবাইদুর ও ডেইজি। এই নির্যাতনের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই ফারিজা আত্মহত্যা করেছে, নাকি ফারিজাকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে, এমন নানা প্রশ্ন এলাকার মানুষের মুখে মুখে। ঘটনার পর থেকেই ওবাইদুর ও ডেইজি এবং শিশু সন্তানকে নিয়ে পলাতক থাকায় এলাকার মানুষের মাঝে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। ফারিজার মৃত্যুর বিষয়টি আত্মহত্যা বলে নাচোল থানায় একটি ইউডি মামলা হলেও বিষয়টি যেন মেনে নিতে পারছেন না এলাকার মানুষ ও ফারিজার মা। ফারিজার মা ও এলাকার সচেতন মহলের দাবী ফারিজা মৃত্যুর রহস্যটি উদঘাটন করে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও আইনী ব্যবস্থা নেয়ার।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *