Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থেকে সোমবার উদ্ধার হওয়া শহরের দক্ষিনচরা এলাকার আব্দুল হান্নানের ছেলে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র সায়েম (১১) ও একই এলাকার মৃত শীষ মোহম্মদের ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ইমন (১৩) নামে ২ শিশু অপহৃত হয়নি। পরিবারের উপর অভিমান করে এঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে উদ্ধার হওয়া ২ শিশুর পরিবার সুত্র। উদ্ধার ২ শিশু জানায়, শনিবার বিকেলে তারা অভিভাবকদের উপর রাগ-অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এসময় তারা সঙ্গে করে ব্যাগে পোষাক নেয়। কিন্তু তাদের নিকট টাকা ছিলনা। তাদের উদ্দেশ্যে ছিল রাজশাহীতে খালার বাড়ি যাবার। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা ষ্টেশনে ট্রেন ভুল করে তারা সোমবার সকালে দিনাজপুর পৌঁছে। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ পৌঁছার পর অভূক্ত থাকায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে ও কান্নাকাটি করে। এসময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে। স্থানীয়রা তাদের ঠিকানা সংগ্রহ করে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা ও অভিভাবকদের খবর দেয়। স্থানীয়রা পুলিশের সহায়তায় তাদের চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে। সোমবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যাওয়া পুলিশ ও অভিভাবকরা শিশুদের ফেরৎ পায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের দক্ষিনচরা এলাকা থেকে গত শনিবার নিখোঁজ দ্ইু শিশু স্কুল ছাত্রকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থেকে সোমবার উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে দিনাজপুর থেকে তাঁদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে আসে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফিরে শিশু দুজন জানায়, তাদের কেউ অপহরন করেনি। পরিবারের সাথে রাগ-অভিমান করে নিজ ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছিল তারা। মঙ্গলবার দুপুরে সদর থানায় শিশু দু’জনকে তাদের অভিভাবকদের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার শিশু দুজন নিখোঁজ হলে পরদিন রবিবার শিশু সায়েমের পিতা আব্দুল হান্নান সদর থানায় নিখোঁজ জিডি করলে পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। শহরে প্রচার হয় ২ শিশু অপহরণের খবর। এঘটনায় পুলিশ ভোলা নামের একজনকে অপহরণকারী সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পুলিশ তাকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর একাধিক স্থানে অভিযানও চালায়। অবশেষে শিশু দু’জনের সন্ধান মেলে দিনাজপুরে। পরে পুলিশ ভোলাকে ছেড়ে দেয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবের আহমেদ বলেন, অভিভাবকদের শিশু সন্তানদের ব্যাপারে অধিক সজাগ ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় যে কোন ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *