Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানা প্রায় ৪ মাস ধরে চলছে অফিসার ইনচার্জ ছাড়ায় তদন্ত ওসি দিয়ে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেফতার বানিজ্য শুরু করেছেন তদন্ত ওসি ফাসিরুদ্দিন। তদন্ত ওসি’র সাথে প্রতি রাতের জন্য মোটা অংকের মাসোহারার চুক্তিতে নাচোল থানা গেটের সামনে চলছে প্রতি রাতেই জুয়ার আসর বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সম্প্রতি ৪ মাস আগে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম পুলিশ প্রশিক্ষনে যাওয়ার পর থেকে বর্তমান তদন্ত ওসি ফাছিরউদ্দিন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে থানার দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই শুরু করেছেন গ্রেফতার বানিজ্য ও জুয়ার আসর। থানা গেটের পাশে স্থানীয় জুয়াড়ী নজরুল ইসলামের দোতলা ঘরে সেখানে প্রতি রাতেই গভীর রাতে বসছে জুয়া খেলার আসর। আর সেই জুয়া খেলার নেতৃত্ব দিচ্ছে স্থানীয় জুয়াড়ী নজরুল ইসলাম। সেই জুয়ার আসর থেকে তদন্ত ওসি ফাছিরউদ্দীন প্রতি মাসে ১০হাজার টাকা করে মাসহারা নিচ্ছেন বলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবির উল ইসলামসহ অনেকেই অভিযোগ করে জানান। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়া বন্ধের জন্য তদন্ত ওসিকে বিষয়টি অবহিত করেও কোন ফল পাননী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাচোল থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গত ২২/১০/১৫ইং এ উপজেলার বেলডাঙা গ্রামের আলমের ছেলে রাজু (২৫)কে ফেনসিডিলসহ ধরলেও ৫০হাজার টাকা নিয়ে কৌশলে পরের দিন ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গত ২৯শে অক্টোবর রাতে নাচোল থানার ২২/১০/১৫ইং দায়েরকৃত মামলা নং- ০৭, ধারা, ৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/১১৪ মোতাবেক মামলার ১নং আসামী বাবু (২৬), ২নং আসামী হিমেল (২০)কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৌফিক পারভেজ গ্রেফতার করে থানা হাজতে রাখে এবং প্রহরীকে সতর্ক করেন। কিন্তু সেই রাতে থানার প্রহরীর দায়িত্বে থাকা ১৩২/নওশাদের কাছে থেকে থানা হাজতের চাবি নিয়ে এএসআই আব্দুর রাজ্জাক থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত না করে মামলা নং ০৭ এর ১নং আসামী বাবু (২৬)কে নিরাপত্তাহীনতায় গভীর রাতে আসামীর দোকানের টাকা পয়সা নিয়ে পরিবারের লোকজনের সাথে দেখা করায়। যা পুলিশ বিভাগের আইনশৃংখলা পরিপন্থী বলে পরের দিন থানার এসআই তৌফিক পারভেজ নাচোল থানার ডায়রি ৮৪৩ নথিতে লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু এএসআই রাজ্জাকের পক্ষে হয়ে কিছুদিন পর তদন্ত ওসি ফাছিরউদ্দিন ডায়রী ৮৪৩ নং পাতা ছিড়ে ফেলে সেখানে নতুন পাতা সংযোজন করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাচোল থানার একাধিক এসআই জানান, বর্তমান তদন্ত ওসি গ্রেফতার বানিজ্য থেকে শুরু করে ফেনসিডিল, মাদক ও জুয়া ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত এবং জামাত, বিএপির লোকজনকে প্রায়শই থানায় আটক করে নিয়ে এসে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে বলে জানান। তাছাড়া গত ১৯শে নভেম্বর উপজেলার মাক্তাপুর গ্রামের জামাতের মুরশেদ মেম্বারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ, কিন্তু তার পরিবারের লোকজনের সাথে উৎকোচের দাম কষাকষি করে ছেড়ে দিবে বলে এখনও আদালতে পাঠাইনী বলে থানার একজন এসআই জানান। মামালায় বা কোন অভিযোগের সাথে কোন সম্পৃক্ততা না থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজনকে মোবাইল ফোনে গ্রেফতারের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করছেন তদন্ত ওসি ফাসিরুদ্দিন বলেও স্থানীয় ও থানা সুত্রে জানা গেছে। এছাড়াও গত ৪ মাসে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম কার্যক্রম চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য বেশকিছু মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করে আইনগত ব্যবস্থাও নিয়েছেন তিনি বলেও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে। উপজেলার সচেতন নাগরিকগণের দাবি উর্ধতন পুলিশ কর্তৃপক্ষ অচিরেই এসব গ্রেফতার বানিজ্য বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং উপজেলায় মাদক প্রতিরোধ ও জুয়া বন্ধে প্রয়েজানীয় ব্যবস্থা নিয়ে নাচোল থানায় একজন ন্যায় পরায়ন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ দেবেন বলে আশা করেন। এব্যাপারে নাচোল থানার ওসি (তদন্ত) ফাসিরুদ্দিন এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগের কথা অ¯^ীকার করে তিনি বলেন, অনেক লোকজন অনেক কিছুই বলতে পারে। কিন্তু এসব দূর্ণীতি, মাদক এবং জুয়ার বিষয়ে কোন ছাড় নেই। ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য কেউ ইর্শ্বান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব রটাতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *