Sharing is caring!

অবশেষে আন্দোলনের পথে হাঁটছে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আবারও আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটি খালেদা জিয়ার মুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আন্দোলন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর মানসিক ও সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত বিএনপি মাঠের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে সন্দেহ দানা বেঁধেছে।এ প্রসঙ্গে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই সময়েও বিএনপি দীর্ঘ এক বছর সব ধরনের আন্দোলন-কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি বিরত ছিল। যদিও বিএনপি নেতারা মুখে মুখে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে বাস্তবে মাঠের কর্মসূচিতে থাকা নেতারাও ছিলেন একেবারে নীরব। তাদের উচিত হবে- খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরো বলেন, বিএনপি রাজপথে নামার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে তা দেশের শান্তিপূর্ণ অবস্থাকে আগুন সন্ত্রাসের পথে ধাবিত করে কিনা তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। কারণ বিগত বছরগুলোতে বিএনপি তাদের আন্দোলনের কর্মসূচিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল। তাদের কর্মসূচিগুলো যেন অগ্নিসন্ত্রাসের পথে না যায় সেদিকে বিএনপি নেতাদের খেয়াল রাখতে হবে। অন্যথায় বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

এদিকে আন্দোলন পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরামের এক নেতা বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর সারাদেশের নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দলের সর্বোচ্চ দু’জন নেতা আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। আজ এক বছর যাবৎ দলের শীর্ষ নেতা দুর্নীতির দায়ে কারাগারে রয়েছেন। এতে বিএনপির ভেতর অভ্যন্তরীণ কোন্দলও চরম মাত্রা পেয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি লড়াই যেমন চালাতে হবে তেমনি কোন্দল ভুলে রাজপথের আন্দোলনও অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই সফলতা আসবে। অন্যথায় মির্জা ফখরুল আর ড. মোশাররফের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই দলের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

অপরদিকে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের আগে সারাদেশে ফৌজদারি অপরাধে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ শুরু করতে চায় দলটির একটি পক্ষ। বিএনপির সেই বিদ্রোহী পক্ষটি ইতোমধ্যেই গঠন করেছে দশটি বিভাগীয় কমিটি।

জানা যায়, এসব কমিটির নেতারা একদিকে ফৌজদারি অপরাধে আটক নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য কাজ করবেন, অন্যদিকে নির্বাচন পরবর্তী হতাশায় আবর্তিত নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে প্রত্যেক জেলা সফর করবেন। এ কর্মসূচি শেষে আগামী এক মাসের মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ফের আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন দলটির বিভাজিত সেই অংশের নেতারা। তারা মনে করছেন, শুধু আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব হবে না। এর জন্য রাজপথের আন্দোলনে সারাদেশে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করলেই সফলতা আসবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *