Sharing is caring!

অবৈধ চাঁদা আদায় ও শ্রমিক নির্যাতনের

প্রতিবাদে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহন

২য় দিনেও বন্ধ : বেদায়দায় আমদানীকারকরা

♦ স্টাফ রিপোর্টার 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থল বন্দরে অবৈধ চাঁদা আদায়সহ বিভিন্নভাবে শ্রমিকদের নির্যাতনের প্রতিবাদে রোবাবার থেকে জেলা ট্রাক মালিক সমিতি ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধের ২য় দিন চলছে। সোমবারও অব্যাহত রয়েছে কর্মসুচী। আমদানী করা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন আমদানীকারকরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ট্রাক ট্রামিনালে জেলা ট্রাক মালিক সমিতি ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা সোনামসজিদ স্থলবন্দরগামী ট্রাক আটকে দিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। সোমবার সকাল থেকে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু (মহানন্দা সেতু) টোল ঘর, শহরের বিশ্বারোড মোড়, জেলা ট্রাক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসের সামনে চাঁপাই-রাজশাহী মহাসড়ক ও নয়াগোলা মোড়ে অবস্থান নিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে শ্রমিকরা। সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে এক শ্রেণীর মধ্য¯^ত্তভোগী দালালদের ট্রাক প্রতি ১২’শ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং ফলের ট্রাক থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে থাকে। একটি ট্রাকের ভাড়া ২৮ হাজার টাকা হলে অগ্রীম ৫ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া ধরতে হয়। মালিক পায় ২৩ হাজার। দালাল ও স্থানীয় নামধারী চাঁদাবাজদের দৌরাত্বে অতিষ্ট ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা। শ্রমিকদের তারা শারিরীকভাবেও লাঞ্ছিত করেছে। বার বার এসমস্যা সমাধানের জন্য বলেও কোন ফল হয়নি। তারা দিন দেয়, জেলার নেতৃবৃন্দ গেলে টালবাহানা করে দিন সরিয়ে দেয়। চাঁদা না দিলে এক দিকে যেমন ভাড়া পাওয়া যায় না, অন্যদিকে ৩/৪ দিন বসে থাকার পর আবার খালি ট্রাক বন্দর থেকে বের করতে হলে পানামা পোর্টকে ১’শ টাকা এবং আর ১’শ টাকা বকসিশের নামে দিয়ে আসতে হয় শ্রমিকদের। অন্যথায় জেলার ট্রাকগুলোকে ভাড়া না দিয়ে হয়রানী করা হয়। এরই প্রতিবাদে এই কর্মসুচি চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ দেশের অন্যান্য জেলার নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে একমত হয়েই এই কর্মসুচী দেয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি ও হয়রানী বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোন খালি ট্রাক সোনামসজিদ বন্দরে যেতে দেয়া হবে না। সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসুচী চলতে থাকবে বলে এসকল অভিযোগের কথা জানিয়েছেন জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সেন্টু এবং জেলা ট্রাক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল খালেক। এতে ট্রাক ট্রার্মিনালে আটকে পড়ে শত শত ট্রাক। বেশকিছু পেঁয়াজভর্তি ট্রাকও আটকা পড়ে। শ্রমিকদের এই অবস্থান কর্মসুচি চলাকালে সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাকও আটকে পড়ে। ক্ষতির মুখে পড়েছে আমদানীকারকরা। এঘটনায় ক্রমশ শূণ্য হয়ে পড়ছে সোনামসজিদে খালি ট্রাকের পরিমান এবং অচিরেই ট্রাক শূন্য হয়ে পড়বে সোনামসজিদ স্থলবন্দর। বন্ধ হয়ে যাবে আমদানী পন্য পরিবহন। পণ্য পরিবহন ঠিকমত না হওয়ায় এরই মধ্যে আটকা পড়েছে বিপুল পরিমান আমাদানি পণ্য। ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, সোনামসিজদ স্থলবন্দরে বিভিন্ন সংগঠনের নামে ট্রাক থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এছাড়াও সময় মতো ট্রিপ না দেয়া, দীর্ঘসময় গাড়ী বসিয়ে রাখা, অবৈধ পণ্য লোড দেয়া, অতিরিক্ত পন্য লোড দেয়া, চালকদের নির্যাতনসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। খালি ট্রাক প্রবেশ বন্ধের ব্যাপারটি রবিবার দুপুর থেকে মাইকিং করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সংশ্লিষ্ট ট্রাক মালিক-শ্রমিকরা বলছেন প্রশাসনের উর্ধতন কর্র্তৃপক্ষ, সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েসন নেতৃবৃন্দ, পানামা পোর্ট লিংকের কর্মকর্তা, আমদানী-রপ্তানীকারক গ্রæপ নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক সমন্বয় নেতৃবৃন্দসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট দাযিত্বশীল সকলপক্ষ মিলে একটি গ্রহনযোগ্য  পরিবহন নীতিমালা প্রয়োগ ও তার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কোন ট্রাককে বন্দরে প্রবেশ করতে দেয়া হবেনা ও সোমবার সকাল থেকে পন্যবাহী কোনও গাড়ীকেও আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছেড়ে যেতে দেয়া হবে না। তারা বলেন, এব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে গত বৃহস্পতিবার স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এদিকে, সোমবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ইরতিজা আহসান জানিয়েছেন, বিষয়টি সুরহার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এদিকে বিষয়টি একপক্ষীয় সমস্যা নয় বলে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সি.এন্ড .এফ এজেন্ট এসোসিয়েসনের সাধারণ সম্পাদক শফিউর রহমান টানু।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *