Sharing is caring!


স্টাফ রিপোর্টার \ উচ্চ আদালতের নির্দেশে কোন সংসদ সদস্য বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে থাকতে না পারলেও আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত থেকে কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগের সকল প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ গোলাম রাব্বানী। একটি রিটের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১জুন মহামান্য হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি এ.কে.এম জহিরুল হকের যৌথ বেঞ্চ রায়ে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে সংসদ সদস্যদের সভাপতি মনোনীত হওয়া বাতিলের আদেশ দেন। ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাংসদ মোঃ গোলাম রাব্বানীকে শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের সভাপতি পদে মনোনয়ন দেন। কিন্তু ১লা জুন আদালতের আদেশ হলেও সভাপতি পদ না ছেড়ে অদ্যবধি সভাপতি পদে থেকে কলেজের সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আদালতের আদেশের পর নতুন সভাপতি নির্বাচিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই কলেজের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকেন সাংসদ গোলাম রাব্বানী। কলেজ কর্তৃপক্ষও এব্যাপারে কোন প্রয়োজনী ব্যবস্থা না নেয়ায় পরিচালনা পর্ষদে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। গত ২৯ জুন ২০১৬ শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ অবসরে যান। ফলে কলেজের শুন্য হওয়া পদে অধ্যক্ষ নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয় পরিচালনা পর্ষদে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষার জন্য অধ্যক্ষ পদের প্রার্থীদের নিয়োগ নির্বাচন কমিটির সম্মুখে হাজির হওয়ার জন্য দেয়া চিঠিতে গত ৪মে সভাপতি হিসেবে ¯^াক্ষরও করেন তিনি। নিয়োগ বিধি মোতাবেক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৬ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় ২০১৭ সালের ৮ মার্চ ৬ মাস পার হওয়ার পরও পুণঃ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে অবৈধভাবে নিয়োগ বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়। তার এই অবৈধ সভাপতি হিসেবে পদে থেকে অবৈধভাবে শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য মোঃ মফিজ উদ্দিন বাদি হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি আবেদন করেন ১৫-০৫-১৭ইং তারিখে (মামলা নম্বর-৯৫/১৭)। একই দিন আদালত শুনানী শেষে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন এবং আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশও দেন। এই আদেশের ফলে মঙ্গলবার কানসাট পুখুরিয়া মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিতব্য শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কানসাট পুখুরিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাকিব। এই অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে একক সিদ্ধান্তে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ এনে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের ৪জন সদস্য ¯^াক্ষর করে ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়ের কাছে নিয়োগ বোর্ড বাতিল ও সাংসদের সভাপতির পদ প্রত্যাহারের দাবি জানান। এব্যাপারে বাদির আইনজীবী মোঃ আব্দুল মালেক জানান, অবৈধ সভাপতি হিসেবে পদে থেকে শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য মোঃ মফিজ উদ্দিন বাদি হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি আবেদন করেন ১৫-০৫-১৭ইং তারিখ। আদালত শুনানী শেষে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন এবং আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশও দেন। তিনি আরও জানান, আদালতের এই আদেশের ফলে মঙ্গলবার কানসাট পুখুরিয়া মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিতব্য শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। সাংসদ গোলাম রাব্বানী ছাড়াও এ মামলায় বিবাদী করা হয় কলেজের পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও নিয়োগ নির্বাচন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মামুন আর রশিদ, আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি অধ্যাপক আব্দুস সালাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনসার উদ্দীনসহ ছয়জনকে। শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বিষয়ে কলেজের সভাপতি পদে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ গোলাম রাব্বানী’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে, সাংসদের অসুস্থতার কথা জানিয়ে সাংসদের ভাতিজা ও একান্ত সহকারী আলহাজ্ব মোঃ শহীদুল্লাহ্ কায়সার বলেন, আদালতের নির্দেশনার পর সাংসদ গোলাম রাব্বানী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কলেজের সভাপতির পদ ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতির পদে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজ একটি ¯^নামধণ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একজন যোগ্য ব্যক্তিকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। যেসব ব্যক্তি এসব অভিযোগ করছেন, তারা প্রতিষ্ঠানের ¯^ার্থে নয়, প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার জন্যই করছেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আদালতের দেয়া আদেশে নিয়োগ পরীক্ষা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আদালতে যথাযথ জবাব দিয়ে একজন যোগ্য লোককে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করা হবে। অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য কোন আর্থিক বিষয় জড়িত নেই। তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শকের সাথে সোমবার যোগযোগ করা হলে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যগণ সভাপতির দায়িত্বে থাকতে কোন বাধা নেই বলে জানিয়েছেন একথাও জানান শহীদুল্লাহ কায়সার।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *