Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদ স্থলবন্দর। গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরে নিয়ম বহিঃর্ভূতভাবে প্রায় ১০ বছর থেকেই সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এভাবেই চলমান রয়েছে কমিটি গঠন। স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বন্দরের অযোগ্য লোকদের নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের তালিকায় কোন নির্বাচন ছাড়াই হওয়া এই কমিটি দিয়ে বন্দর পরিচালনার জন্যই সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বিশৃক্সখলা ও দূর্ণীতি বলে মনে করছেন সাবেক সিএন্ডএফ নেতৃবৃন্দ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসন (শিবগঞ্জ) এর বিগত ও বর্তমান ২ মেয়াদের সংসদ সদস্যদের স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থের বিনিময়ে এবং নিয়মিত অর্থ উপার্জনের কারণেই এভাবে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের কমিটি গঠনের কার্যত পদক্ষেপ বলেও মনে করেন তারা। সঠিকভাবে যোগ্য সিএন্ডএফদের সমন্বয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেয়া হলে আবারও প্রাণ ফিরে পারে সোনামসজিদ স্থলবন্দর বলেও আশা করেন তাঁরা। বন্দরের লেবার নেতারা যখন সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি-সেক্রেটারী পদে বসেন, তখন দেশের বা এই স্থলবন্দরের ¯^নামধন্য বা যোগ্যতাসম্পন্ন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের অনেকটা লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায় এবং এনিয়ে কথা বলার আর কিছু থাকে না। তবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি-সেক্রেটারী সবচেয়ে অযোগ্য বলেও দাবী করেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা। এই অবস্থা থেকে বন্দরের উত্তোরণের দাবি জানিয়েছেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মোঃ শরিফুল ইসলাম স্বাধীন। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদ। এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিনই  বিভিন্ন পন্য আমদানি হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫’শ থেকে ৬’শ বিভিন্ন পন্য বোঝাই ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করে এই বন্দরে। ফলে দেশের রাজস্ব আয়ও হয়। এই বন্দরে বিভিন্ন পন্য আমদানি-রপ্তানির অন্যতম মাধ্যম সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশন। এই সংগঠনের মাধ্যমে ভারত থেকে পন্য আমদানি-রপ্তানি বিভিন্ন সমস্যাদির সমাধান হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে এই সংগঠনটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালনা হয়ে থাকে। কিন্তু সোনামসজিদ স্থলবন্দরে সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের প্রায় ১০ বছর অতিক্রম করলেও কোন নির্বাচন হয়নি। নির্বাচনকালীন সময়ে আহবায়ক কমিটি দায়িত্ব পালন করবেন। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ২ বছর পরপর প্রত্যক্ষ ব্যালটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কথা রয়েছে। কিন্তু নিময় বহিঃর্ভূতভাবে আহবায়ক কমিটি গঠন তো দূরের কথা, স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীরই করে দেয়া একটি কমিটি দায়িত্বে থাকতে থাকতেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদের মূল্য নির্ধারণের পালা শুরু হয়। লোক যেমনই হোক টাকার অংক বেশী হলেই এবং মাসিক মাসোহারার পরিমান যার যত বেশী হবে তাকেই পরবর্তী সিএন্ডএফ নেতা করে দেয়া হয়। বিভিন্ন সুত্রে সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের দাম ১০ লক্ষ টাকা বা তারও বেশী নির্ধারণ হয়ে থাকে বলেও জানা গেছে। এদিকে সিএন্ডএফ’র গঠনতন্ত্র সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সংশোধিত সংবিধানের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রণালীতে বলা হয়েছে, কোন নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির কার্যকালের মেয়াদ ২ বছরের বেশি হবে না। নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হবার পূর্বেই গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সাধারণ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যগণ নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৩০ দিন পূর্বে নির্বাহী কমিটির সভায় অথবা সাধারণ সভায় সমিতির সদস্যদের মধ্যে যাহারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক নয়, তাদের মধ্য হতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে। যার কাজ হবে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় নিয়ম-কানুন সম্বলিত বিধিমালা ও তফশীল তৈরী করা ও নির্বাচন পরিচালনা করা। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৭ দিন পূর্বে উহার দিন তারিখ, সময় এবং স্থান সম্পর্কে রেজিষ্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন্সকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। অথচ এই অনুচ্ছেদটাকে কোন আমলে না নিয়ে এবং ক্ষমতা বলে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কোন নির্বাচন না দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সিএন্ডএফ’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ সকল পদে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করে দিচ্ছেন এই প্রভাবশালী নেতারা। বন্দরের এসব সমস্যা ও করণীয় নিয়ে সোমবার দুপুরে কথা হয় সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ শরিফুল ইসলাম স্বাধীনের সাথে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর আগে থেকেই অর্থাৎ বর্তমান সরকারের আমলে বিগত মেয়াদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি ব্রি. অব. এনামুল হক ও বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের কমিটি গঠনের অনিয়ম শুরু হয়। প্রথমেই সাবেক এমপি ব্রি. অব. এনামুল হক অনিয়মের মাধ্যমে বন্দরে বেশকিছু অযোগ্য লোকদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে চেয়ারে বসিয়েছেন। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীও অযোগ্য লোকদের মোটা অর্থের বিনিময়ে দায়িত্বে বসিয়েছেন এবং বর্তমানেও বসিয়ে রেখেছেন। অর্থের কারণে এসব অযোগ্য লোকদের দিয়ে বন্দর পরিচালনার জন্য এক সময়ের প্রাণবন্ত স্থলবন্দর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চলছে ব্যাপক দূর্ণীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা। এসব অযোগ্য নেতৃত্বের কারনেই যোগ্য ব্যবসায়ীরা স্থলবন্দরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন। বন্দরের কুলি-শ্রমিক যদি সভাপতি-সেক্রেটারী হয়ে সিএন্ডএফ এর মতো একটি স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারে বসেন, তখন যোগ্য ব্যবসায়ীদের সম্মানের বিষয়টির অবস্থা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এসব অযোগ্য লোকদের না আছে সিনিয়র কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সভ্যতা বা যোগ্যতা, না আছে সমঝোতার মাধ্যমে বন্দরকে প্রানবন্ত করা। শুধু বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করে নিজেদের পকেট ভর্তি এবং নেতার কমিশন সঠিকভাবে পৌছে দেয়া হলেই হলো। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, এসব কারনেই বর্তমানে বড় বড় ব্যবসায়ীরা সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ফলসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে না এসে, অন্য বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানী করছেন। তিনি আরও বলেন, একটি ফলের ট্রাক থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা নেয়া হয়। বিভিন্ন খরচের সাথে সংসদ সদস্যের জন্য আড়াই হাজার টাকা নির্ধারিত থাকে এই ট্রাক ফলের ট্রাক থেকে। এভাবেই বর্তমান সিএন্ডএফ কমিটির মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নির্যাতনের শিকার হয়ে সোনামসজিদ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে সরকার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাজস্ব আহরণ থেকে। এই অবস্থা থেকে অবশ্যই সোনামসজিদ বন্দরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে যোগ্য সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের। বন্দরের রাজস্ব বাড়াতে এবং অচলাবস্থা কাটাতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে হবে। নিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান চললে বন্দর ও ব্যবসায়ীরা উভয়েই লাভবান হবে বলে দৃঢ়কন্ঠে বলেন এই সাবেক সিএন্ডএফ নেতা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *