Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছেলেধরা গুজব প্রতিরোধে সংবাদ সম্মেলন

অশুভ চক্রের ছেলেধরা গুজবে কান

দিবেন না: পুলিশ সুপার

♦ স্টাফ রিপোর্টার

সম্প্রতি দেশব্যাপী ছেলেধরা সন্দেহে নানা ঘটনা প্রতিরোধে ছেলেধরা গুজবের বিরুদ্ধে জনসচেতনা বাড়াতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ছেলেধরা শব্দটি একেবারেই নিছক গুজব। এ নিয়ে সারাদেশে যে কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত বের করে তদন্ত শেষে দেখা গেছে, সবগুলো ঘটনায় ব্যক্তিগত সর্ম্পকের জেরে অথবা অন্য কোন কারনে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, সারাদেশে ছেলেধরা গুজবের ভয়াবহতার অনেক ব্যাপকতা থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখন পর্যন্ত তেমন কোন বড় দূর্ঘটনা ঘটেনি। নাচোলে দুটি এবং সদর উপজেলায় একটি ঘটনা ছিলো এবং তারা ছিলো মানসিক ভারসাম্যহীন। সাধারন ডায়েরী করে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এই মূহুর্তে ছেলেধরা, মাথাকাটা, রক্ত লাগবে, বিদ্যুৎ থাকবে না ইত্যাদি ৪ থেকে ৫টি ইস্যুকে ঘিরে এসব নিয়ে একটি অশুভ চক্র নানারকম গুজব ছড়াচ্ছে। আর এর প্রচারণা চালাচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে। অনেকেই আবার এটিকে ব্যক্তিগত রচনার ক্ষেত্র বানিয়ে ফেলেছেন। এমন পর্যায়ে এটি চলে গেছে যে, ব্যক্তিগত শত্রæতার জের ধরে এর ফায়দা নিচ্ছে অনেকেই, এগুলো শুধুই নোংরা মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। সারাদেশে যেভাবে ছেলেধরা গুজব ছড়ানো হয়েছে, এর বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জনসচেতনতা বাড়তে এই মূহুর্তে জেলার ৫টি থানাতেই মাইকিং চলছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে উঠান বৈঠকের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন সকল কর্মকর্তা প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব গুজবে কান না দিতে আহব্বান জানাচ্ছেন এবং কোন এলাকায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে যাতে আইন নিজ হাতে না তুলে পুলিশকে অথবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিতে সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছে জেলা পুলিশের ইন্সপেক্টর হতে উপরের সকল কর্মকর্তা এবং তারা প্রত্যেকেই প্রতিদিন নূন্যতম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জনসচেতনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। সেখানে বাবা-মাসহ পরিবারের সকল সদস্য ও প্রতিবেশীদের সচেতন করতে আহব্বান জানানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রতি। তিনি আরো বলেন, মসজিদগুলোতে খুৎবায় এ নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রত্যেক মসজিদের ইমামদের চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও গ্রাম্য পুলিশের সদস্যদেরকে যথাযথ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে তারা সর্তক রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তারাও জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে, এটিও আমরা নিশ্চিত করেছি। বৃহস্পতিবার থেকে জেলা পুলিশের উদ্যোগে লিফলেট রিতরণ করা শুরু হয়েছে বলেও জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা। পুলিশ সুপার বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে কোন দূঘটনা বা হত্যাকান্ড ঘটলে এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং দায়ী যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে, এতে কোন ছাড় দেয়া হবে না। এসময় তিনি ঈদুল আযহা’র আইন-শৃক্সখলা পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, গতবছরের ন্যায় এবছরও বিশ্বরোড মোড় হতে জেলা পুলিশের তত্বাবধানে গুরুর গাড়িগুলো পরীক্ষা করে ও ব্যানার দিয়ে ছাড়া হবে। এতে রাস্তায় তারা কোন ধরনের চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন হয়রানীর হাত থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়াও তিনি জানান, আগামীতে লোডসেডিং কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) ফজল-ই-খুদা, ডিআই-১ মো. জাকারিয়া, সদর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান পিপিএম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হুদা অলক, সাপ্তাহিক সোনামসজিদ পত্রিকার সম্পাদক জোনাব আলীসহ জেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *