Sharing is caring!

অশ্লীল ছবিতে আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

যৌনতা প্রাণিজগতে খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু সমস্যাটা তখনই হয়, যখন তা পর্নোগ্রাফির মতো একটি বিষয়ে আসক্তির পর্যায়ে চলে যায়। আমাদের দেশে যৌনতা এখনও ট্যাবু। কিন্তু এই ট্যাবু ভেঙ্গে বাবা- মা, শিক্ষক এবং বয়স্কদের উচিত শিশু কিশোরদের সঠিক তথ্য জানানো।

ইন্টারনেট সাধ্যের মধ্যে আসার পর যেমন জ্ঞান ও বিনোদনের দিগন্ত খুলে দিয়েছে, তেমনই অশ্লীল এবং নোংরা ছবিকে এনে দিয়েছে নাগালের মধ্যে। দেখা গিয়েছে, ইন্টারনেটে বিশ্বে যত বিষয় সার্চ করা হয়, তার মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে অশ্লীল ছবির সাইটগুলো।

অশ্লীল ছবির ভয়াবহ আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজেকে নিজের প্রতি সৎ থাকতে হবে। প্রথমেই আপনার সংগ্রহে থাকা পর্ণ ভিডিওগুলো ডিলিট করুন। নিয়মিত যেসব অশ্লীল ছবির সাইটে ভিজিট করে আপনি আসক্ত হয়েছেন সেসব সাইট ব্লক করুন।

আপনার পরিবারের সদস্যদের পর্ন জগতের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রাখতে হলে Parental Controls ব্যবহার করুন। প্রথমে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর Settings  এ গিয়ে  Control Panel এ থাকা  > Family Safety > তে ক্লিক করে  Manage settings on the family safety websites সিলেক্ট করুন। তারপর প্রয়োজন মতো বাকি কাজ নিজের মতো করে করুন।

আপনার সন্তানদের  কম্পিউটার টেবিল বাসার এমন জায়গায় সেট করুন যেখান থেকে তার মনিটর দেখা যায়। পাশাপাশি আপনার সন্তানকে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা দিন। এতে আপনার সন্তান অশ্লীল ছবির ছোবল থেকে রেহাই পাবে।

অনেক আসক্তদের কিছুক্ষণ পর পর পর্ণ দেখতে হয় কিংবা কাজের মাঝামাঝি সময়ে পর্ন দেখতে হয়। আপনি যদি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হন তবে পর্ন ছাড়া আপনার পছন্দের কোনো সখ বা বিনোদনের উৎস খুঁজে বের করুন। কাজের মাঝে মাঝে পর্ণ না দেখে সেই পছন্দের কাজ করুন কিংবা গান শুনতে পারেন অথবা ৫ মিনিট হেঁটে আসতে পারেন বাহিরের মুক্ত বাতাসে। এতে আপনার মস্তিষ্ক এবং দেহ থাকবে সতেজ এবং ফুরফুরে।

শুধুই কম্পিউটারে সময় কাটানো অভ্যাসে পরিণত করবেন না। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, যাঁরা বাড়িতে বেশি সময় কম্পিউটারে বসে সময় কাটান, তাঁদের মধ্যে পর্ন ফিল্ম দেখার প্রবণতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই শখ করে পর্ন ফিল্ম না দেখে অন্য কোনও শখে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। যদি কোনও কাজ না থাকে, বই পড়া অভ্যাস করে ফেলতে পারেন। কোনও লাইব্রেরির সদস্য হয়ে যান। দেখবেন ব্যক্তিত্বে অসাধারণ পরিবর্তন আসবে।

সর্বোপরি আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ইতিবাচক চিন্তাই পর্নফিল্মে আসক্তি থেকে মুক্তি দেয় বলেই জানাচ্ছেন মনোবিজ্ঞানীরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *