Sharing is caring!

শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রানীহাটি কলেজের সামনে মুক্তিযোদ্ধা করবস্থানের জন্য বরাদ্দকৃত অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা জমিতে স্থানীয় অসহায় দরিদ্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চাষ করার ইরি-বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলগুলো বাঁচানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো। দেশ মাতৃকার জন্য জীবন বাজি রেখে যাঁরা যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করলো, তাঁরাই আজ জীবন যুদ্ধে নেমে পরাজিত হতে বসেছে। সামান্য কিছু জমিতে পার্শ্ববর্তী কিছু বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের সন্তানরা ফসল ফলিয়ে কিছুটা সুফল ভোগ করছিল। কিন্তু সেইটুকু সুফল ভোগ করাও তাঁদের ভাগ্যে সইল না। এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অমর্যাদা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বেশী সময় না হলেও তাঁদের চাষ করা ফসলগুলো ঘরে তোলা পর্যন্ত তো সময় দিতে পারতো প্রশাসন। কিন্তু তা না করে জমিতে সেচ দেয়া যন্ত্র বন্ধ, এমনকি পানি তোলার জন্য বসানো পাইপগুলোও নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এটা সত্যিই একটি দুঃখজনক। ওই এলাকায় কিছু অসহায় ভিটেহারা মুক্তিযোদ্ধাকে থাকার জন্য জায়গা দেয়া হয়েছে। মানবতার দিক ভেবে হলেও ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পানি সেচের যন্ত্রটি চালুর ব্যবস্থা নেবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটায় আশা করছেন মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাগণ। উল্লেখ্য, দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাগণ হলেও অনেক অসহায় মুক্তিযোদ্ধা এখনও চরম অসহায়ের মত জীবন যাপন করছেন। পরিবারের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দেয়ার জন্য নিজেরা চাষাবাদ করেছিলেন শিবগঞ্জের কয়েকজন অসহায় দুঃস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা। শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রানীহাটি কলেজের সামনে মুক্তিযোদ্ধা করবস্থানের জন্য বরাদ্দকৃত অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করে। কিন্তু এসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক কষ্টে চাষাবাদ করা জমির ধানে পানি দেয়া সেচ যন্ত্র গত ১২ ফেব্রæয়ারী প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে এসব অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের ধানের জমিগুলো ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অনেকের ধারণা প্রশাসনকে ভূল বুঝিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের এই ধানের জমিগুলোর ফসল নষ্ট করা হচ্ছে। জমিগুলো চাষাবাদ করে কিছু উপকার পেত এসব অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। কমপ্লেক্সের ভিতরে প্রায় ধান ২২বিঘা, টমেটো সাড়ে ৩বিঘা, বগামোটর ২৫ কাঠা, গম ১বিঘা, খেসারী ১০কাঠা, মটর ১০কাঠা সর্বমোট প্রায় সাড়ে ২৮বিঘার জমির ফসল বিনা সেচে নষ্ট হয়ে গেছে। এই সুযোগে এলাকার কিছু অসাধূ ব্যক্তিরা ২৫টি গাছের বরই (কুলফল) ১০মন মাছ নষ্টও করেছে। পারদিয়াড় মৌজার আর.এস ২৫২নং দাগে ১২একর ৫৬শতক জমি  সি.এন্ড.বি অফিস হতে স্থানীয় ১০/১২জন গরীব মুক্তিযোদ্ধা টেন্ডারের মাধ্যমে ১৯৮২সাল হতে ১৯৯৯সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিল। ২০০০সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক উক্ত সম্পত্তি ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থান ও কমপ্লেক্স হিসাবে বরাদ্দ দেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *