Sharing is caring!

অসহায় ৩ পরিবারকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা

করলেন অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান

♦ স্টাফ রিপোর্টার

বাড়ির পার্শ্ববর্তী ৩টি অসহায় পরিবারকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বালুবাগানে বসবাসকারী বালুগ্রাম আর্দশ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাইদুর রহমান। বাড়ির পার্শ্ববর্তী ওই ৩টি পরিবারের অসহায় অবস্থা দেখে দীর্ঘদিন থেকেই বিবেকের সাথে যুদ্ধ করছিলেন যে, নিজে বাস করেন একটি সুন্দর বাড়িতে, আর পার্শ্ববর্তী পরিবারগুলো ঠিকমত ঘুমাতেও পারেনা, ভালোমত খেতে পায়না। পরিবারের সন্তানদের নিয়ে শোয়ার জায়গাও হয়না। মেয়ে-জামায় বাড়িতে আসলে পরিবারের অভিভাবকদের বাগানে-গাছের নিচে বসে থাকতে হয়, এসব কথা ভেবে ভেবে। অবশেষে বিবেকের তাড়নায় ওই পরিবারগুলোকে একটু আশ্রয়ের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেন তিনি নিজেই। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়ি গত ৫ জুলাই অসহায় পরিবারদের কাছে হস্তান্তর করেছেন তিনি। অসহায় পরিবার ৩টি হচ্ছে, মৃত জেন্টুর স্ত্রী চেনবানু, কালু রিক্সাওয়ালার স্ত্রী তাজকেরা ও মৃত জেন্টুর ছেলে রুনু। সহায়-সম্বলহীন চেনবানু বাড়ি পেয়ে অনেক খুশি। চেনবানু বলেন, ঝড় বৃষ্টিতে আমার বসত ভিটার ঘরগুলো ভেঙ্গে গিয়ে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছিলাম। আমাদের অসহায়ত্বের কথা ভেবে এবং দেখে আমার অধ্যক্ষ মামা আমাদের থাকার জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন। আমরা তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আরেকজন রুনুর স্ত্রী বলেন, এক সময় আমাদের ঘরের উপর চাল না থাকায় রোদ বৃষ্টি আর ঝড়ে কষ্ট পেতে হতো, বৃষ্টি হলে সারা রাত বসে থেকে রাত কাটাতে হতো, আমাদের আর বৃষ্টিতে কষ্ট করে রাত কাটাতে হবে না। অধ্যক্ষ নানার কাছে আমরা অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। তাঁর জন্য আমরা আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত দোয়া করি। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুর রহমানের মত সমাজের অনেক বিত্তবান রয়েছেন, তারাও যদি একটু আমাদের মত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তবে সমাজ বদলে যাবে। এমন ভালো কাজ করার বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রতিবেশির হকের কথা বিবেচনা করে আমি অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে নিয়মিতই সাহায্য সহযোগিতা করার চেষ্ঠা করি। সে লক্ষেই সহায়-সম্বলহীন অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়েছি। চেনবানুসহ তাদের পরিবারে থাকার জন্য আমি ৩৬ ফুট দৈঘ্য এবং ২৫ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট জায়গার উপর ৩টি পরিবারের জন্য পৃথক বাথরুমসহ পাঁকা টিনশেড দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছি। এজন্য মহান আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া আদায় করছি। এছাড়াও তিনি জানান এ কাজ বাস্তবায়নে আমার পরিবারের সদস্যসহ সমাজের কিছু মহানুভব ব্যক্তিরাও সহযোগিতা করেছেন। তিনি যতদিন বাঁচবেন সমাজের সেবামূলক কাজে জীবনের বাকি সময় ব্যয় করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, তিনি প্রায় ১০ বছর যাবৎ দরিদ্র পরিবারকে সেলাই মেশিন, ল্যাট্রিন নির্মাণ ও ঘরের জন্য ঢেউ টিন প্রদান করে আসছেন। এছাড়াও তিনি অবসরগ্রহণের পর নাচোলের ঝিকরা গ্রামে ভাঙ্গন কবলীত লোকজন বসবাসকারী গ্রামে একটি মসজিদে প্রায় ১০ লাখ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান অসহায় মানুষের পাশেই শুধু দাঁড়িয়েছেন এমটা নয়। সাইদুর রহমান কলেজ শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের সহয়তার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কলেজ শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমিতি(নজেকশিস) প্রতিষ্ঠা করে জেলায় এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেন। অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে তিনি জেলায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন স্মৃতিকে ধারণ করে নতুন প্রজন্ম ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বালুগ্রাম কলেজের অনার্স ভবনে মুক্তিযুদ্ধ ফটো গ্যালারী স্থাপন করেন। অধ্যক্ষ সাইদুর রহমানকে ঢাকাস্থ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতি তার অনবদ্য কর্মকান্ডের জন্য ২০১৯ সালে গুণীজন সম্মাননা প্রদান করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *