Sharing is caring!

1শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মঈনুদ্দীন মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ এমপি’র শিবগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য এবং উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের ৩ নেতাকে বহিস্কারের সুপারিশ ও উপজেলার দাদনচকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি পুড়ানোর প্রতিবাদে শিবগঞ্জ উপজেলা শাখা আাওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে বৃহস্পতিবার সকালে মানববন্ধন হয়েছে। বৃহৎ এই মানববন্ধনে বিভিন্ন ধরণের ব্যানার, ফেষ্টুন হাতে নিয়ে হাজার হাজার তৃণমুল নেতাকর্মী ও সাধারণ নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করে। একটানা তিনঘন্টা চলা মানবন্ধন এই বিশাল মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা  আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আতাউর রহমান, উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুর রহমান বাবু, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র কারিবুল হক রাজিন, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম জুম্মা সহ উপজেলা এবং পৌর আ.লীগ ও এর সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধনে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র কারিবুল হক রাজিন বলেন, আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে জেলা কমিটি কোন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে না। কিন্তু পৌরসভা নির্বাচনের মত ইউপি নির্বাচনেও জেলার কতিপয় নেতা মোটা অংকের টাকার বাণিজ্যের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এমনকি দাদনচকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি নামিয়ে তার উপর নাচতে পারে এবং আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে, সে আর যাই হোক, কিন্তু আওয়ামীলীগ নেতা বা কর্মী হতে পারে না। অথচ এই ধরণের নেতা মির্জা শাহাদাৎ হোসেন খুররম, আবু আহমেদ নজমুল কবীর মুক্তাকে ইউপি নির্বাচনে টাকার বিনিময়ে মনাকষা ও দুর্লভপুরে মনোনয়ন দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে। এই সব বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি পুড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি মুলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের জেলায় বসে পুরস্কৃত করেছে। কিন্তু আমরা শিবগঞ্জের মানুষ বেঁচে থাকতে তা কোন ভাবেই মেন নেব না। তিনি আরো বলেন, ইউপির প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিয়নে মিটিং দেওয়া হোক। তারাই প্রার্থী নির্বাচিত করে উপজেলায় পাঠাবে। উপজেলা সেই তালিকা জেলার হতে তুলে দিবে এবং জেলা কমিটি সেই তালিকা কেন্দ্রে পাঠাবে এটাই আ.লীগের নিয়ম। এর বাইরে জেলা একক ভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কিন্তুটাকা বাণিজ্যের কারণে জেলার দু-একজন নেতা জেলায় বসেই শিবগঞ্জের ১৫ টি ইউপির ১৫ জন প্রার্থী ঠিক করে ফেলছে। যাদের মুখ দলের নেতা কর্মী দেখেনি। যাদেরকে শিবগঞ্জের মানুষ ভাল ভাবে চিনে না। তাই আমরা কেন্দ্রের নিকট জোর আবেদন জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে দলের স্বার্থে এই জেলা কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হোক। কারণ দু’একজন পালিয়ে যাওয়া নেতার কারণে গোটা জেলার বদনাম হতে পারে না। বাণিজ্য করা এই সব নেতা অতিতে আওয়ামীলীগকে বিপদের মুখে জামায়াত বিএনপির সন্ত্রাসের খোরাক হিসেবে রেখে পালিয়ে গিয়াছিল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শিবগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থাকে দূর্বল করার জন্য জেলার কতিপয় আওয়ামীলীগ নেতা এমন ষড়যন্ত্র করেছেন। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সজাগ থাকবেন সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বেই শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সংগঠিত হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতেও তাঁর নেতৃত্বেই শিবগঞ্জে আওয়ামীলীগ সর্বক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখবে। কারিবুল হক রাজিন বলেন, গেল ৩০ ডিসেম্বর শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর কতিপয় আওয়ামীলীগের নেতার গাত্রদাহ হয়। এক সময়ের জামায়াত-বিএনপির ভয়ে যে আওয়ামীলীগ নেতারা শিবগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন জেলার বাইরে এমনকি দেশের বাইরে। ওইসব নেতারা যখন আওয়ামী লীগ পূর্ণগঠিত হয়েছে গোলাম রাব্বানী এমপির নেতৃত্বে ঠিক ওই মূহুর্তে ওইসব নেতারা আবারো বিভ্রান্তি ছড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চক্রান্তকারী আওয়ামীলীগ নেতাদের কথায় কান না দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি জোরালা আহŸান জানান। একই সাথে তিনি আরো বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আওয়ামীলীগের সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার জন্য জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ভেঙ্গে ও বঙ্গবন্ধুর ছবি পুড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন বা সংগঠনকে শাস্তি মুলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এই সব বেঈমান নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা শিবগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয় অভিমুখে লং মার্চ করতে বাধ্য হবো।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *