Sharing is caring!

ডেঙ্গু মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের ছুটি বাতিল

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ‘আযহা’ : জেলাজুড়ে

উৎসবের আমেজ

♦ স্টাফ রিপোর্টার

আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের অন্যতম সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎবব ঈদ উল আযহা উদ্যাপিত হবে। ইতোমধ্যেই প্রস্তুতির প্রায় সবটুকুই সম্পন্ন হয়েছে। মুসলমানদের ত্যাগ আর বিসর্জনের জন্য এই উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। এটি মুসলমানদের উৎসব হলেও এর তাৎপর্য সর্বস্তরের মানুষের মহামিলন। এই মিলন সম্প্রীতি, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জেলার সর্বস্তরের জন সাধারণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক ও পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ঈদকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। ফকিরপাড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, জেলার সবচেয়ে বড় ঈদগাহ মহারাজপুর ঈদগাহসহ জেলার সব ঈদগাহের প্রস্তুতির কাজ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে। সংস্কার, রঙ করা, সামিয়ানা টানানো থেকে সব ধরনের কাজের শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি চলছে এখন। ঈদ উপলক্ষে ঈদগাহগুলোতে বাড়তি যতœ নেয়াসহ ঈদগাহগুলোর সামনে তৈরি করা হয়েছে সুদৃশ্য গেট। তবে আবহাওয়া অফিস ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিনে সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলায় মোট ২’শ ৭৫টি ঈদগাহে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হবে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। যত্রতত্র স্থান ব্যবহার না করে পশু কোরবানীতে নিদিষ্ট স্থান ব্যবহার করতে আহব্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে কয়েকদিন আগে থেকেই বিভিন্ন সচেতনতামূলক সভা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পক্ষ হতে পশু কুরবানীর পর রক্ত ও উচ্ছিষ্ট অংশ মাটির নিচে পুতে ফেলা বা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অনুরোধ জানিয়ে জেলা শহরে মায়কিং করা হয়েছে। এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করায় সরকারের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে ফেরত আসা ঈদমুখী মানুষের কারনে ঈদের সময়ে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েকগুন বাড়তে পারে, এমন সঙ্কায় নেয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। সবধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম ও অন্যান্য ব্যবস্থা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের সার্বক্ষনিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর খোঁজ-খবর রাখছেন জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিদের্শনায় জেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এডিস মশা যাতে বংশবিস্তার না করতে পারে, সেজন্য পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম অব্যহত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। কেনাকাটা থেকে শুরু করে ঈদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন সবাই। যদিও কেনাকাটার পর্ব শেষের দিকে। তাই এখন চলছে ঈদ উদ্যাপনের নানা প্রস্তুতি। এখন থেকেই শিশু-কিশোরদের মধ্যে বইছে আনন্দ-ধারা। এখন আয়োজন দিকে দিকে, ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর ব্যস্ততা ঘিরে। আর চলছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও মোবাইলের মেসেজে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। এদিকে প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে আসার যাত্রা শুরু হয়েছে গত কয়েকদিন থেকে। জেলা শহরের বিশ্বরোড মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকে করে নাড়ীর টানে জেলায় ফিরছে ঘরমুখো মানুষ। এবছর টানা কয়েকদিন সরকারি ছুটি থাকবে এবং ছুটি শেষে আবার ছুটতে হবে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। সাথে সঙ্গী হবে অনেক অনেক আনন্দ, নতুন নতুন স্মৃতি। আজ রাত থেকেই ঘরে ঘরে শুরু হবে সাধ্যমতো উপাদেয় খাবার তৈরির আয়োজন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘আনধাঁসা’র (তেলপিঠা) গন্ধে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চারিদিক মুখরিত হবে। ঈদে নানা রকম সেমাইয়ের সঙ্গে থাকবে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, পোলাও, কোর্মাসহ সু¯স্বাদু খাবারের আয়োজন। বিশেষ আয়োজন থেকে বাদ যাবে না সরকারী শিশু পরিবার, হাসপাতাল, কারাগার বা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মীরাও। হাসপাতাল, এতিমখানা ও বন্দিদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে বরাবরের মতোই। সরকারি শিশু পরিবার, বিদ্ধাশ্রম গুলোতে থাকবে বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা। প্রতিবারের ন্যায় এবারও ঈদের নামাজের পর থেকেই ‘শেখ হাসিনা’ সেতু, বীরশ্রেষ্ঠ কাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সেতু, ওদুদ পার্ক, সোনামসজিদ, গোদাগাড়ির সাফিনা পার্কসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে থাকবে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। এদিকে, পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম এর নির্দেশনায় পবিত্র ঈদুল আযহা’র সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিভিন্ন ঈদগাহ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত টহল পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবেন আইন-শৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ জানায়, আইন-শৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা নজরদারির কারনে ঈদ কেন্দ্রীক বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও সার্বক্ষনিক শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *