Sharing is caring!

আগুনে পুড়ে যাওয়া ওয়াহেদ ম্যানশনে

অক্ষত সব কোরআন-হাদিসের বই

চকবাজারের চুড়িহাট্টার হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। সেই আগুনের সূত্রপাত কীভাবে সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এই আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশন! অবাক করার বিষয় হলো আগুনে ওয়াহেদ ম্যানশনসহ পাঁচটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপার বিস্ময়ে অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদ।

আগুনে মসজিদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। পাশে রাজমনি হোটেলের সামনের শাটার, হাড়িপাতিল ও আসবাবপত্রও পুড়ে গেলেও পুরোপুরি অক্ষত ছিল হোটেলে প্রবেশদ্বারের ওপরে লেখা কালেমা তৈয়্যবা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)’।

আর পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া ওয়াহেদ ম্যানশনের ভেতরে রয়েছে আরেক বিস্ময়! আগুনে ভবনের ভেতরে থাকা সব আসবাব পুড়ে কয়লা হলেও অক্ষত আছে ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে থাকা পবিত্র কোরআন শরিফ ও হাদিসের গ্রন্থসহ অন্য বইগুলো।

সকালে ওয়াহেদ ম্যানশনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির নিচতলা থেকে শুরু করে প্রতিটি ফ্লোরই আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু নিচতলার একটি গোডাউনে এখনো প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ অক্ষত অবস্থায় মজুদ রয়ে গেছে।

ভবনের সব ফ্লোরে আগুনের ভয়াবহতার চিহ্ন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা ভবনটি! সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলে দেখা যায়, আগুনে পোড়া জিনিসপত্রগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রান্নাঘরে চুলার উপরে থাকা হাঁড়ি, কড়াই সব পুড়ে কয়লা হয়ে আছে, খাবার ঘরে টেবিলে রাখা জগ, গ্লাস, প্লেট সবই পুড়ে গেছে।

ওয়াহেদ ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের রুমগুলো আগুনে পুড়ে কয়লা হলেও দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে রাখা অনেকগুলো কোরআন শরিফ ও হাদিসের বইসহ সব বই আছে পুরোপুরি অক্ষত! বিস্ময়ের ব্যাপার হলো যে ভবনের ভেতর-বাইরে সব পুড়ে কয়লা, এমনকি আশপাশের ভবনও সেখানে খোদ ভবনের ভেতরেই অক্ষত আছে পবিত্র কোরআন-হাদিসের বইগুলো! সেখানে থাকা একটি বইও আগুন স্পর্শ করেনি

কোরআন ও হাদিসের বই সাজিয়ে রাখা কক্ষটিতে থাকা কয়েকটি চেয়ার এবং ছোট টেবিল পুড়ে কয়লা হয়ে আছে, কিন্তু বুক সেলফ ও বইগুলো আছে ঠিক আগের মতো সাজানো গুছানো! দেখে মনে হবে এখানে যেন কোনো কিছুই হয়নি।

চকবাজারে আগুনে পুড়ে তিন স্বজন হারানো বাদশার সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে কোরআন-হাদিস অক্ষত থাকার বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি বলেন, ‘ভাই, ভবনের পাশে মসজিদও তো কিছু হয়নি!

পুরো একটা ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেলো অথচ সেখানে থাকা কোরআন-হাদিসের কিছুই হলো না, এটা আল্লাহর অশেষ রহমত ছাড়া আর কিছু নয়।’

বাদশা মিয়া আরো বলেন, ‘আগুনের ঘটনার পর বাঁচার জন্য অনেকে আশপাশের ভবন ও দোকানে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কেউ বেঁচে নেই।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *