Sharing is caring!

517x344শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ পাথর আমদানীকে কেন্দ্র করে আবারো সোমবার থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে সকল প্রকার পন্য ও রোববার সকাল থেকে পাথর আমদানী বন্ধ হয়ে গেছে। বন্দর সূত্র জানায়, রবিবার বিকেলে শুধুমাত্র পিঁয়াজ ও ফলের ৩/৪ টি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও পাথরের কোন ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি এবং সোমবার বিকেল ৪ টা পর্যন্ত কোন পন্যবাহী ট্রাকই বন্দরে প্রবেশ করেনি। একটি সূত্র জানায়, ভারত থেকে রপ্তানিকারকরা যে সমস্ত পাথর রপ্তানি করে থাকে তা অত্যন্ত নি¤œ মানের এবং প্রতি ট্রাকে প্রচুর পরিমাণে ডাস্ট থাকে। এ ছাড়াও ভারতীয় রপ্তানিকারকরা অযৌক্তিক ভাবে যখন তখন পাথরের মূল্য বৃদ্ধি করে থাকে এবং পাথর টনের হিসেবে দেয়ায় পাথরের পরিমাপ ঠিক থাকেনা। এই সবের প্রতিবাদে বাংলাদেশী পাথর আমদানীকারকেরা ভারতীয় রপ্তানি কারকের সাথে গত ফেব্রুয়ারী মাসে কয়েক দফা আলোচনায় বসে উভয় পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশী আমদানীকারকদের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়। তবে ভারতীয় রপ্তানীকারকরা ২০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ১ সপ্তাহ মোহদীপুর সীমান্তে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা প্রায় দেড় হাজার পাথরবাহি ট্রাক স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এবং এসব ট্রাকের পাথর আমদানীকারকরা আমদানি করবে। কারন ২০ ফেব্রুয়ারীর আগ পর্যন্ত ভারতীয় অংশে মোহদীপুর বন্দরে দাড়িয়ে থাকা লোড হওয়া পাথর বাহী ট্রাকগুলোই শুধু ছাড় দেয়া হয়েছে। আর ২০ ফেব্রæয়ারী ২ দেশের ব্যাবসায়ীদের নিয়ে ভারতীয় মোহদীপুর স্থলবন্দরে পর্যালোচনা সভা এবং উভয় দেশের পন্যবাহী ট্রাক ওজনমাপক যন্ত্র ওয়েব্রীজগুলোর ওজন পর্যালোচনা করা হয়। সে সাথে ২০ ফেব্রুয়ারীর পর বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের যুক্তিযুক্ত দাবীগুলো পুরোপুরিভাবে মেনে না নেয়া হলে আবারো পাথর আমদানী বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও ভারতীয়দের জানিয়ে দেয়া হয়। এরপরও রপ্তানিকারকেরা বার বার সিদ্ধান্ত প্রত্যাক্ষান করেন। ফলে গত শনিবার সোনমসজিদ স্থলবন্দর আমদানী রপ্তানিকারক গ্রুপের পাথর বিষয়ক উপ-কমিটির এক জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জরুরী সভায় আমদানীকারকরা কুচি পাথর আমদানী বন্ধ ঘোষণা করে। ভারতীয় পাথর রপ্তানিকারকদের রোববার সকাল থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাথর না পাঠানোর জন্য জানিয়ে দেয়। বাংলাদেশী আমদানী কারকদের পাথর সক্রান্ত ব্যাপারে নির্দেশনার পর ভারতীয় মহদিপুর স্থলবন্দর এক্সপোর্ট এ্যাসোসিয়েশন জরুরী মিটিং করে রোববার থেকে পাথর রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। সেসাথে অজ্ঞাত কারনে সোমবার থেকে সকল পন্য রপ্তানী বন্ধ করে দেয় ভারতীয় রপ্তানীকারকরা। এ বিষয়ে পাথর বিষয়ক উপ-কমিটি প্রধান সাহাবুদ্দিন জানান, ২১ ফেব্রæয়ারীর সীদ্ধান্ত ভারতীয় রপ্তানীকারকরা না মানায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভারতীয় রপ্তানী কারকেরা গত ২১ ফেব্রæয়ারী তারিখের যৌথ সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করায় রোববার থেকে সব ধরণের পাথর আমদানী বন্ধ করেছে আমদানী কারকেরা।  অন্যদিকে উভয় বন্দরের আমদানী রপ্তানি বন্ধের ব্যাপারে ভারতীয় মহদিপুর এক্সপোর্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সাহা ও মহদিপুর স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী ভ‚পতি মন্ডলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বাংলাদেশী আমদানীকারকদের চিপস পাথর আমদানীর ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসন না হাওয়া পর্যন্ত ভারতীয় মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে সকল প্রকার পণ্য আমদানী রপ্তানি বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য, ৬ ফেব্রুয়ারী প্রথমে চিপস পাথর ও পরে বোল্ডার পাথর বন্ধ ঘোষণা করার প্রেক্ষিতে ভারতীয় রপ্তানি কারকেরা সকল প্রকার পণ্য রপ্তানি বন্ধ করার হুমকি দিলে আমদানী কারকেরা ১০ ফেব্রæয়ারী মহদিপুর স্থলবন্দরে এক্সপোর্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাথে আলোচনা করার পর তিনটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু রপ্তানি কারকেরা ওই সিদ্ধান্ত মানা হবে না বলে পাথর আমদানী কারকদের জানানোর পর আবারও বন্ধ হয়ে যায় পাথর আমদানী। এই ঘটনার পর রপ্তানি কারকেরা কৌশল করে মহদিপুর স্থলবন্দর ট্রাক পার্কিং যানজট নিরসন ও ভারতীয় ট্রাক চালকদের ভয়ে ভীত হয়ে পাথর আমদানী কারকদের সাথে আলাপ করে রপ্তানি শুরু করে এবং ২১ ফেব্রæয়ারী পুনরায় উভয় স্থলবন্দরের আমদানী রপ্তানি কারকেরা আলোচনায় বসে স্থায়ী সমাধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ২১ ফেব্রæয়ারীর সিদ্ধান্ত গুলিকে অমান্য করে আবারো পূর্বের মতই চিপস ভর্তি ট্রাকে আর্বজনা মিশিয়ে ও নিম্ন মানের পাথর রপ্তানি অব্যাহত রাখে। ফলে বাংলদেশে আমদানী কারকেরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকে। এ একই কারণেই আবারো একমাস পর রোবরাব থেকে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানী বন্ধ করার ঘোষণা দেয় আমদানী কারক গ্রুপ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *