Sharing is caring!

আবারো বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার

শিকার জগন্নাথপুরের হিন্দু সম্প্রদায়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে থেকে আবারো উত্তপ্ত হচ্ছে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা। নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতার উদ্বেগের মধ্যেই শুক্রবার ভোরে ঠাকুরগাও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিংগিয়া শাহাপাড়া গ্রামের কৃষ্ণ ঘোষের বাড়িতে আগুন দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ভোর ৪ টা থেকে ৫ টার মধ্যে কৃষ্ণ ঘোষের বাড়িতে আগুন দেয় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। এতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে। এসময় ১০ টি ঘর, সাতটি ছাগল, ৬০ মণ ধান ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়।

হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে এই সহিংসতার ঘটনায় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান লিটন জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। একই রাতে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের শেখ বাজারে নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা।

জগন্নাথপুরের এই হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ঠাকুরগাও জেলা পূজা উদযাপন কমিটি। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো বলেন, ‘২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্মম নির্যাতন করেছিল। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এখন আবারও শুরু হয়েছে। তাই এসব অপশক্তিকে শক্তভাবে দমন করতে হবে। এ ঘটনার বিচার করতে হবে। নইলে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে।’

এর আগেও এই অঞ্চলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটে। ৫ মে ২০১৩ এরপর থেকে দেশে যে বহুমাত্রিক সংঘাত শুরু হয়েছিল তাতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি প্রধান টার্গেট ছিল এই অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়। যুদ্ধপরাধের বিচার বানচালের উদ্দেশ্য নির্মম সহিংসতা চালায় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আগুন দেয়া ছাড়াও দোকানের সম্পত্তি লুট, মন্দিরে আগুন, লুটপাট ও ধর্ষণযজ্ঞে মেতে ওঠে এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তিরা। এরপর ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের সময় আবারো বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার শিকার হয় ঠাকুরগাওয়ের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা বলে আসছে। সংখ্যালঘুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আসনের তালিকাও তৈরি করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এর আগের সংসদ নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা, বিভিন্ন এলাকায় নানা সময়ে সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা করা হয়।

যেখানে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব আসনের মোট ভোটারের কোথাও ১২ শতাংশ, কোথাও ৪৮ শতাংশই সংখ্যালঘু। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটার ১২ শতাংশের বেশি, দেশে এমন সংসদীয় আসন রয়েছে ৯৬টি। এর মধ্যে ৬১টি আসনই সংখ্যালঘুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

এরই মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার (ঠাকুরগাঁও-১ আসন) জগন্নাথপুর ইউনিয়নে সিংগিয়া শাহাপাড়া গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে আগুনের ঘটনা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে বরাবরের মতো বিএনপি-জামায়াতের ঘটানো এই সহিংসতার বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *