Sharing is caring!

আমি মুক্তিযোদ্ধা \ স্বাধীনতার সৈনিক

 

pic taslim uddinআমি মুক্তিযোদ্ধা। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই আমি গর্ব করি। আমার ছেলে-মেয়েরাও গর্ব করে, গর্ব করে দেশের মানুষও। মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিলাম একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে। ১৯৭১ সালের ¯^াধীনতা সংগ্রামে মুজাহিদ বাহিনী শতঃস্ফুর্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। এই সংগ্রামে সাধারণ মানুষের সাথে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরাও সিংহভাগ শরিক হয়। সাধারণ মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে এই যুদ্ধে। আমি মসজিদ পাড়ার কুতুবুদ্দিন এবং মহারাজপুরের সৈয়দ লাল মোহাম্মদ ছিলাম ইপিয়ারের সহায়ক শক্তি। আমাদের ক্যাম্প ছিল নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ এর কমন রুমের পার্শ্বে। এখানে ছিল লংগরখানা। বিভিন্ন এলাকার জনগণ আমাদের জন্য রসদ পাঠাতো। শহরের দোকান মালিকেরা জোয়ানদের জন্য দিত বিড়ি সিগারেট, মগ, থালা, গ্লাস, কেডস্ও দিত। মনে হতো মানুষ মুক্তি পাগল। সিক্স উইং ব্যাটালিয়নের পাঞ্জাবী অফিসাররা পালিয়ে যাওয়ার ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কমান্ডিং অফিসার বিহীন হয়ে পড়ে। অবশেষে আমরা পেলাম কমান্ডিং অফিসার হিসেবে ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন আহমদ চৌধূরীকে। (বর্তমানে তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) (বীর উত্তম), তিনি রাজশাহী কাসিয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে সে সময় পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য প্রশাসনেও ছিল স্থবিরতা। পাক হানাদার বাহিনী রাজশাহী দখল করে নিলে তৎসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জও দখল করে নেয়। আমরা চলে যায় ভারতে। সেক্টর গঠনের পর আমরা আবার সংগঠিত হয়ে শুরু করি সশস্ত্র সংগ্রাম। এটা ছিল ৭ নম্বর সেক্টর। ভারতের মালদহ জেলার মোহদীপুর ছিল সাব-সেক্টর। বিনোদপুর খাসের হাট এবং শ্যামপুর, দূর্লভপুর ও রাধাকান্তপুরে ছিল ডিফেন্স। এসব ডিফেন্সে দায়িত্বে ছিলেন ডাঃ মঈনুদ্দিন আহমদ (মুন্টু ডাক্তার)। তিনি ছিলেন অফিসার ইনচার্জ। তারই আদেশে আমরা সাব সেক্টর মোহদীপুর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রেশম সামগ্রীসহ অস্ত্র ও গুলি-গোলা সরবরাহ পেতাম। এরমধ্যে, শেষ মুহুর্তগুলো আমাদের জন্য ছিল চরম উৎকণ্ঠার। অবশেষে ধোবড়ার পাকফৌজদের দুই এক দিনের জন্য হাতছাড়া হয়। এরপর ব্যাপক গোলা-গুলির মধ্যে তারা বিনোদপুর খাসেরহাট দখল নেয়। সেখানে তারা হত্যাকান্ড চালায়। অফিসার ইনচার্জ ডাক্তার মন্টু গৌড় বাগানে অবস্থিত আর্টিলারীকে দিয়ে ব্যাপকভাবে ধোবড়া ও কানসাটের উপর আক্রমন চালায়। পাকফৌজেরা পালিয়ে যায় শিবগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে। অবশেষে এই সাব সেক্টরের দায়িত্ব নেন ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর। শুরু হয় নতুনভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শত্রুমুক্ত করার। ত্রীমুখি আক্রমন শুরু করে। এখানে নেতৃত্ব দেন ৭ নম্বর সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল নুরুজ্জামান। ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন চৌধূরী দায়িত্ব নেন ভারতের লালগোলা সাব সেক্টরের। ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর ও দলদলি সাব সেক্টর মিলে আক্রমন করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে। অবশেষে ১৩ ডিসেম্বর তাঁরা আক্রমন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর। ১৪ ডিসেম্বর রেহায়চর নামক স্থানে পাক হায়নাদের গুলিতে শহীদ হন ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর। এদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শত্রুমুক্ত হয়। তাকে দাফন করা হয় গৌড়ের সোনামসজিদ চত্বরে। এখানে আরো একজন মেজর নাজমুল হক সড়ক দূর্ঘটনায় শহীদ হন। তাকেও একই স্থানে দাফন করা হয়। তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তৈরী করা হয় স্মৃতিফলক।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *