Sharing is caring!


স্টাফ রিপোর্টার \ আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভরা আম মৌসুমেও জ্বলছে জেলার ভাটাগুলোতে আগুন। এসব ভাটার কালো বিষাক্ত ধোঁয়া বের হয়ে সরসারি গিয়ে পড়ছে আমবাগানে। চরম ক্ষতি হচ্ছে আমের। আমের মুকুল থেকে শুরু করে ভরা আম মৌসুমে ভাটা চালু থাকায় চরম হতাশাগ্রস্থ চাষীরা। প্রতিকারের আশা করছেন আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এমনিতেই প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে এবছর আম চাষীরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তার উপর আবার ইট ভাটার কালো ধোঁয়ায় ক্ষতি হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন চাষীরা। আম বাগান বা ফলন্ত বাগান কিংবা মানুষ বসবাসকারী এলাকা থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরত্বে ইট ভাটা স্থাপন করার বিধিমালা থাকলেও সে নিয়মের তোয়াক্কা না করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রায় সকল ইট ভাটাই গড়ে উঠেছে এবং সবগুলোতেই আগুন জ্বলছে। বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া। তবে কিছু ভাটায় ইট পোড়ানো এবছরের মত বন্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায় সকল ভাটায় রয়েছে আম বাগানের পার্শ্বেই। কোন কোন ইট ভাটা রয়েছে আম বাগানেই মধ্যেই। আম সম্পদ রক্ষায় ও উন্নত মানের আম উৎপাদনের জন্য সরকারীভাবে এবং বেসরকারীভাবেও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইট ভাটার কালো ধোঁয়ায় আমের আকৃতি ছোট এবং ¯^াভাবিকতাও হারাচ্ছে। জেলার আম সম্পদ রক্ষায় অনেক কথা বলা হলেও বাস্তবে তার চিত্র উল্টো। জেলায় নেই কোন পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের নাকের ডগার উপরই এসব ভাটা হচ্ছে এবং আমের ক্ষতি করেও ভাটাগুলো আমের মুকুল থেকে শুরু করে অদ্যবধি চালু রয়েছে। আম মৌসুমে ইট ভাটাগুলো চালু থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমের মুকুল আসার আগেই এসব ইটভাটা বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এব্যাপারে জাতীয় বৃক্ষ আম গাছের লেখক সাব্বির আহমেদ বলেন, জেলার আম সম্পদ রক্ষায় বিশেষ করে আম মৌসুমে ইট ভাটাগুলো বন্ধ করতে হবে। ইট ভাটার প্রয়োজন আছে। কিন্তু জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ক্ষতি করে আম মৌসুমে ইট ভাটা চালু রাখা মোটেই উচিৎ নয়। আমের মুকুল আসার পুর্বেই ইট ভাটা গুলো বন্ধ করে দিতে হবে। যেন ইট ভাটার কালো ধোঁয়ায় মুকুলের বা আমের গুটির কোন ক্ষতি না হয়। কিন্তু আমের মুকুল তো দুরের কথা, বর্তমানে আমের ওজন প্রায় ১’শ থেকে দেড়’শ গ্রাম। তারপরও ইট ভাটাগুলো চলছে এবং বিষাক্ত ধোঁয়া আমের চরম ক্ষতি করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যথায় ইট ভাটার কারণে চরম ক্ষতি হচ্ছে প্রতি বছরই। এছাড়া ভাল উৎপাদনের জন্য আমের অতিরিক্ত পরিমানে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কীটনাশক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এবিষয়েও নজর দেয়া প্রয়োজন। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ উদ্যানত্তত্ব গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন বলেন, লোকালয় বা আম বাগান এলাকায় ইটভাটা স্থাপন না হওয়ায় ভালো। আম বাগান এলাকায় ইট ভাটাগুলোর চিমনিগুলো ৪০ মিটারের (১২০ ফুট) উচ্চতায় হলে আমের তেমন ক্ষতি হবে না। তবে জেলার অনেক ইট ভাটার চিমনিই ৪০ মিটারের নিচে রয়েছে। আম বাগান এলাকায় ইট ভাটা স্থাপনার ক্ষেত্রে অবশ্যই চি¤িœর উচ্চতার বিষয়টি নজর রাখতে হবে। আম মৌসুমে ইট ভাটা বন্ধ রাখলে ভালো। তবে এপ্রিল মাস থেকে সকল ইট ভাটা একেবারে বন্ধ রাখলে আমের ক্ষতির হাত থেকে অনেক রক্ষা পাবে। জেলা আম সম্পদকে রক্ষায় এসব বিষয়ে নজর দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন আম বিশেষজ্ঞরা। এব্যাপারে ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি সফিকুল আলম ভোতা জানান, আগে ড্রাম চিমনিতে ইট পোড়ানোয় আমের ক্ষতির বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ হতো। কিন্তু ভাটাগুলোতে ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি হওয়ার পর থেকে আম ব্যবসায়ীদের আর তেমন অভিযোগ নেই। তাহলেই বোঝা যায়, ইট ভাটাগুলোই আর আমের ক্ষতি করে না। আমের ক্ষতি বন্ধে আম মৌসুমে ইট ভাটাগুলো বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এগিয়ে আসবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটায় আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *