Sharing is caring!

রিপন আলি রকি, শিবগঞ্জ থেকে \ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের মুকুলের দেখা মিলছে। গাছে গাছে দেখা যাচ্ছে মুকুলের সমারোহ। রাস্তার পাশ দিয়ে চলতে গেলেই দেখা যাচ্ছে সবুজের অরণ্যে সেজেছে সোনালী আভা। তাই এবছর বসন্ত বরণের আগেই এই মোহময় উপহারকে সামনে রেখে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা মুকুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। চলতি শীত মৌসুমে প্রচন্ড শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার মত নানা সমস্যা কাটিয়ে এবছর এখন পর্যন্ত মুকুল এসেছে ৬০ ভাগ। তবে গত বছরের লোকসানের হার বেশি থাকার কারনে বাগান পরিচর্যায় অনিহা থাকা সত্বেও সকল ক্ষতি ও লোকসানের কথা ভুলে বাগান পরিচর্যায় বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ীদের ব্যাস্ততা অনেকটা চোখে পড়ার মত। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একমাত্র অর্থনীতির প্রধান উৎসই হচ্ছে আম। তাই সারা বছরই বাগান পরিচর্যা হিসেবে গাছের গোড়া খোঁড়া, জমিতে সার দেয়া এবং সেচ দেয়া হলেও মকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪/৫ মাস নিবিড় পরিচর্যা করতে হয় আমচাষীদের। জেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা যায়, আম বাগানে বালাইনাশক ছিটানোর কাজ করছে শ্রমিকরা। শিবগঞ্জের তেলকুপি গ্রামের জিয়াউর রহমান একজন আম ব্যবসায়ী। তিনি তার নিজ¯^ ও কেনা বাগান গুলোতে পরিচর্যা শুরু করেছেন। গত বছর এ সময়ে তিনি ৩ বার কীটনাশক স্প্রে করলেও এ বছর তাপমাত্রা কম ও শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় মুকুল একটু দেরীতে আসায় তিনি তার সবকটি বাগানে মাত্র ১ বার কীটনাশক স্প্রে করেছেন। নিয়মিত ঘুরছেন মুকুল ঠিকঠাক বের হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য। বাগানে বালাইনাশক ছিটানোর সময় তিনি নিজে থেকে তদারকি করছেন মুকুলে ঠিকমত স্প্রে হচ্ছে কিনা। জেলার সকল আম ব্যবসায়ীদেরই এমন অবস্থ লক্ষ্য করা গেছে। সবাই এখন বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। এসময় সাধারণতঃ গাছের জন্য ভিটামিন, সেই সাথে গাছে থাকা পোকামাকড় দূর করতে স্প্রে করা হচ্ছে। যাতে করে গাছে ভালো মুকুল আসে ফলনও ভালো হয়। অন্যদিকে, মুকুল দেরীতে আসায় এবং আম ব্যবসায়ীরা এবছর কম পরিচর্যা করায় শ্রমিকদের মনও ভাল নেই। কীটনাশক প্রদান কারী ওয়াসিম আলি জানান, গত বছর এ সময়ের মধ্যে তাদের কাজের গতি অনেকটা থাকলেও এবছর তাদের কাজের তেমন গতি দেখা যাচ্ছে না। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ দেওয়া ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী বলা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির প্রায় ২০ লাখ আম গাছে আমের এবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। আর গত বছর এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার মে. টন। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা এস.এম আমিনুজ্জামান বলেন, শিবগঞ্জেই শুধু মাত্র ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মে. টন। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন আম বাগানে ৬০ শতাংশ গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও গতবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট ক্ষতি পোষাতে এ বছর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বাগানে বাগানে সরজমিনে গিয়ে বিভিন্ন পরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *