Sharing is caring!

মোহাঃ ইমরান আলী শিবগঞ্জ থেকে \ বাজারে আম আসতে শুরু হতে না হতেই যানজটের মহা উৎসব শুরু হয়েছে এখন আন্তর্জাতিক খ্যাত আম বাজার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে। আম নিয়ে আম ব্যবসায়ীরা উৎসবে মেতে থাকলেও যানজট নিয়ে উদ্বিগ্ন পথচারিরা। যানজটে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থবন্দর সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে আসা বিভিন্ন পণ্য বাহী ট্রাক। আর মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হওয়ার মুলক কারণ ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা। এই অটো রিক্সা রাস্তার উপর অবস্থানের জন্য যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এই ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ চায় ভূক্তভোগীরা। এদিকে বছর শেষ হতে না হতেই আবারো ফিরে এসেছে আম মৌসুম, আর গেল ১ জুন থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি নামক কানসাট আম বাজারে শুরু হয়েছে বেচা-কেনা। আর আম নিয়ে চরম বিপাকে আম চাষি-ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আম ক্যালেন্ডার প্রণয়ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আম ব্যবসায়ী, আড়ৎদার, আম চাষী ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের মতামতের ভিত্তিতে নেয়া ৪০ কেজিতে আমের মণ এবং ডিজিটাল মিটারে আম ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত মানতে না রাজ দেশের বৃহত্তর আম কানসাটের আড়ৎদাররা। প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এখনো জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট আম বাজারে চাষীদের কাছ থেকে মণে নেয়া হচ্ছে ৪৬ কেজি। এছাড়া আম আড়ৎদাররা শতকরা ৫ থেকে ১০ টাকা কমিশনও নিচ্ছে জোরপূর্বক। এতেও প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই। অন্যদিকে কিছু আড়তে ডিজিটাল মিটার থাকলেও বেশিভাগ আড়তে এই মিটারের পরিবর্তে সাধারণ পাল্লাতেই চলছে আম বেচা-কেনা। ৪৬ কেজিতে মণ হলেও আবার সাধারণ পাল্লায় ওজনে এমনিতেই আরও ২/৩ কেজি বেশী নেয়া যায় চাষীদের ঠকিয়ে আম। তাই পুরাতন প্রথা ছেড়ে নতুন প্রথা মানতে রাজি নয় আড়ৎদাররা। এদিকে আম বাজারে আম আসতে না আসতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কে যানজটের মহা উৎসব সৃষ্টি হয়েছে। সামনের দিকে দিন যতদিন এগাচ্ছে ততদিন আমের মহাউৎসব বেচা-কেন বেশী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি যানজটও পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলবে। এদিকে নির্ধারিত আম বাজার থাকা সত্বেও বর্তমানে মহাসড়কের দুই পার্শ্বে আম বোঝাই ভ্যান দাঁড় করিয়ে ক্রয়-বিক্রয় করছে আম ব্যবসায়ীরা। যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে মহাসড়কে এই মহা যানজট। আর যানজট নিরসনে কোন নজরদারি নেই উপজেলা ও পুলিশ-প্রশাসনের। তবে, হাতেগোনা মাত্র ২০ থেকে ৩০টি আম বোঝায় ভ্যানের কারণেই যানজট সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বিগ্ন ও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ পথচারিরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছরে তীব্র্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে। পথচারিরা বলছেন, বছরের শুরুতেই যদি এমন যানজটের সৃষ্টি হয়, তাহলে বাকি সময় কি পরিমাণের যানজট সৃষ্টি হবে তা বলার কথা নয়। এছাড়া, আগের বছর দেখা গেছে, এই যানজটের কারণে অনেক রোগি চিকিৎসা নিতে গিয়ে সময়মত মেডিকেলে পৌছাতে না পারলে হয়তো বা রাস্তায় প্রাণ হারাতে হয়। এছাড়া স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা কিংবা অফিস আদালত, বিভিন্ন শি¶া প্রতিষ্ঠান এমন কি ব্যাংকের কর্মকর্তারা সময়মত পৌছাতে পারেন না তাদের কর্মস্থলে। তিনদিন থেকে আম বাজারে আম আসতে শুরু হওয়ায় যদি এমনটি তীব্র যাটজট সৃষ্টি হয় তাহলে বাকি তিন/চার মাসে কি পরিমাণের যানজট সৃষ্টি হবে এটা হয়তো সবাই অনুমান করতে পারছেন। বিধায় এমন যানজটের নিরসনের জন্য প্রশাসনের হস্ত¶েপে একান্ত ও জরুরি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাধারণ পথচারি-সংশ্লি¬ষ্টরা। সরজমিনে দেখা গেছে, কানসাট গোপালনগর মোড়ের চৌ-রাস্তায় একজন মাত্র ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে এই মহাসড়কের যানজট নিরসনে কাজ করলেও বেশিরভাগ সময় ছায়ায় বসে ও দাঁড়িয়ে সময় পার করছেন। এব্যাপারে আম বাজার ইজারাদার মালিক আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমান বাজারে তেমন আম আসেনি এবং বেচা-কেনাও শুরু হয়নি। হাতে গোনা কয়েকটি ভ্যান ও সাইকেলে আম আসছে। এতে আমের জন্য মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়নি। বর্তমানে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সার জন্য। তারা রাস্তার মধ্যখানে দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠা-নামা করছে। তিনি আরো বলেন, আড়ৎদারদের ¯ে^চ্ছারিতা ও প্রশাসনের কথা না মানার কারণে আম চাষীরা বাজারে আম নিয়ে আসে না। ফলে অনেকে বাগান থেকে নিজ উদ্যোগে বাইরে জেলায় নিয়ে আম বিক্রয় করছে। মাঝখান থেকে আমরা লোকসানে পড়ছি। এব্যাপারে কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বেনাউল ইসলাম বলেন, কানসাট আম বাজারের যানজট নিরসনের জন্য উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছে। যানজট নিরসনের জন্য আম বাজারের কয়েকটি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করবে। এছাড়া আড়ৎদাররা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে না মেনে নিজেদের ¯^ার্থের জন্য আম ৪৬ কেজিতে মণ নিচ্ছে। এর সাথে আবার শতকরা ৫-১০ টাকা কমিশন নিচ্ছে। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত বিধিবহিঃভূত। যা নিজেদের ¯ে^চ্ছাচারিতা মাত্রই। সাধারণ আম চাষীদের কথা না ভেবে, আম আড়ৎদার সমš^য় কমিটির নেতাকর্মীরা বাইরে থেকে আসা ব্যাপারীদের পকেট ভরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমি এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সকল আম আড়ৎদারকে অনুরোধ জানাই, চাষীদের কথা মাথায় রেখে ব্যবসা করার জন্য। তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর আম মৌসুমে তীব্র্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ পথচারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তারা তাদের কর্মস্থলে সময়মত পৌঁছাতে পারেন না।
এদিকে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিল জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামজিদ মহাসড়কে আম বাজারে যানজট নিরসনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সাজেন্টসহ ট্রাফিক পুলিশ ও থানা পুলিশ সর্বক্ষণ কাজ করছে। মহাসড়কে আমরা গাড়ি চলমান রাখবো। কোন সময়ের জন্য সড়কে গাড়ি দাঁড়াবে না। তিনি বলেন, সর্বসাধারণের যাতায়াত নিশ্চিত করতে সাজেন্ট, ট্রাফিক পুলিশ সহ ৫/৬ জন পুলিশ বর্তমানে যানজট বর্তমানে যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া আম বাজারে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়া হবেনা। যদি কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে তাহলে পুলিশ প্রশাসন কোন ছাড় দিবে না।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *