Sharing is caring!

ড. শরফ উদ্দিন, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জ \ শুনাগেল আশ্বিনা আম শেষ..কি আশ্বর্চ এত তাড়াতাড়িৃ? প্রকৃতপক্ষে তাড়াতাড়ি নয়..ফজলি আম তো শেষ হয়েছে ২ মাস আগে। আর রাজশাহী জেলায় আশ্বিনা আমই শেষ হয়েছে প্রায় দুই মাস হয়ে গেল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে আমের দেখা নেই মাস খানেক আগে থেকেই। শুনা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আম পাওয়া যাচ্ছে তবে দাম ১৫০-২০০ টাকা। এরপর শুনা গেল ২০০-৩০০ টাকা কেজি দরে আশ্বিনা আম কেনাবেচা হচ্ছে। গত কয়েকদিন থেকেই ইচ্ছে করছে এই আম বাগানগুলো সরেজমিনে দেখবো। আমচাষীর সাথে কথা বলবো। কিভাবে আমগুলো এতদিন তারা গাছে রেখেছে। হঠাৎ গতকাল জানতে পারি এই বছরের মতো আশ্বিনা আম শেষ। কয়েকজন বড় আমচাষীকে ফোন করলাম। অনেক খোজা খুজির পর তারা জানালেন শুধুমাত্র একজন চাষীর ১০-১৫ কেজি ব্যাগিং আম গাছে আছে। একটু ভালো লাগছে। আম দেখা যাবে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে ৪৭ কিমি দুরে। কেউ মনে করবেন না যে আমরা আবার ভারতে প্রবেশ করেছি কিনা। আসলে ভাবার বিষয় কিন্তু আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে ৩৭ কিমি দুরে সোনামসজিদ স্থল বন্দর আর যেতে হবে ৪৭ কিমি। আসলে গ্রামের নাম খাসপাড়া। চাষীর নাম মি. এমারুল। অনেক খুজাখুজির পর পাওয়া গেল তাকে। কিন্তু খবরটি সুখকর নয়। গতকালই আমগুলো বিক্রি করেছেন ১৪ হাজার ৭০টাকা মণ দরে। অনেকটাই হতাশা। এতদুর….সাথে আছেন আমার স্যার ড. মো. হামিম রেজা। যদি আমের দেখা না পায়। এরপর জানা গেল জাইদুর রহমান, এখলাসপুর আশ্বিনা আমে ব্যাগিং করেছেন। ঐ খানে পাওয়া যেতে পারে। হ্যাঁ পাওয়া গেল জাইদুর রহমানকে। ততক্ষণে তার গাছের আম আর গাছে নেই। আম ভেঙ্গে রওয়ানা হয়েছেন সাথে ৩ ডালি আম ও একটি ভ্যানগাড়ি। প্রথমেই তিনি জানালেন আমি আম বিক্রি করে দিয়েছি ১৪০০০ টাকা মণ দরে। আমার কিন্তু গবেষণার জন্য আম দরকার। ওখান থেকে চলে গেলাম। মনে হলো আর একটু দেখি পাওয়া যেতে পারে…..কিন্তু পাওয়া গেল না…..যিনি আমগুলো কিনেছেন দেখা হলো তার সাথে। যিনি কিনেছেন তিনি বললেন দামাদামি নেই। একদাম ৪০০ টাকা কেজি তারমানে ১৬০০০টাকা মণ। আমি বললাম ৩টি আম ওজন করো। সে জানালো ৮৬০ টাকা। মনে পড়ে গেল এই তো মাস দুয়েক আগে আশ্বিনা আম গড়াগড়ি করছিল স্থানীয় বাজারে। ১৩০০-১৪০০ টাকা মণ দরে। আজ সেই আশ্বিনা আম একদামে কিনছি ৪০০ টাকা কেজি দরে। আসলে এটিই বাস্তবতা। আমচাষী শুধুমাত্র ভালোমানের নিরাপদ আম ব্যাগিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন করেছেন। ক্রেতারা জানেন ব্যাগিং আমে বিষ প্রয়োগ অনেক কম। সে জন্য আশ্বিনা আম ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনছেন হর হামেশেই। ঢাকার বাজারে যাওয়ার সুযোগ পাবে কিনা আমি নিশ্চিত নয়। যদিও পাওয়া যায় প্রতি কেজি ৫০০ শত টাকার কম নয়। দেশের সব জেলাতে আমের উৎপাদন হলেও ফজলি ও আশ্বিনা আমের রাজত্ব রাজধানীতেই থাকবে। রপ্তানির আশায় বসে থাকার প্রয়োজন নেই। দেশের মানুষ আম ভালোবাসেন। শুধুমাত্র ভালোমানের নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম নিশ্চিত করতে পারলেই আমের ভালো দাম পাবেন আমচাষীরা এমনটিই আমরা আশা করি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *