Sharing is caring!

ঋণখেলাপি বাবার পরিবর্তে মেয়ে

আবদুল কাদের সিদ্দিকী, তিনি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী নামেও পরিচিত। তিনি অবদান রেখেছিলেন দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও। সেই সময় তাকে বাঘা কাদের নামে উপাধি দেয়া হয়েছিল। এই বাঘা কাদের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। কিন্তু আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দৌড়ে তিনিও অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দৌড়ে টিকতে পারলেন না বেশিক্ষণ।

আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর ভেতর বিভিন্ন দলের স্থানান্তরিত হওয়ার প্রবণতা বেশ আগে থেকেই পরিলক্ষিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় তিনি আওয়ামী লীগ, এরপর নিজেই একটি দল করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে তিনি এই দুই দলের কোনো দল থেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। তিনি মনোনয়ন নেয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ঐক্যফ্রন্টের হয়ে। অর্থাৎ কাদের সব দলের সদস্য হয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান। এজন্যই তার বিভিন্ন দলের হয়ে কাজ করতে ও মনোনয়নের জন্য ইচ্ছা পোষণ করতে দেখা গেছে।

কিন্তু বরাত মন্দ কাদের সিদ্দিকীর। ঐক্যফ্রন্টের হয়ে তার আর অভিজ্ঞতা অর্জন করা হলো না। ঋণ খেলাপি, দুর্নীতি, ভুল তথ্য প্রদান, টাকা আত্মসাৎসহ বেশ কিছু কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিএনপির প্রার্থীদের। কিন্তু ঋণখেলাপি কাদের চাইলেও আর মনোনয়নপত্র নিতে পারবেন না। কারণ মনোনয়নপত্র নিতেও প্রয়োজন বিশাল অংকের অর্থ। আর বর্তমানে মানুষ এই বিশাল অংকের অর্থ কেউ নিজের কাছে রাখে না। রাখে হলো ব্যাংকে।

কিন্তু কোনো ব্যাক্তি যখন ঋণখেলাপি হন তখন তার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পথও বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক এরকম অবস্থাই হয়েছে কাদের সিদ্দিকীর।

কাদের সিদ্দিকী এই বিশাল অর্থ দিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। উচ্চমূল্যে মনোনয়ন বিক্রির দৌড়ে টিকতে না পেরে নিজ মেয়েকে প্রদান করেছেন। ঋণখেলাপির কারণে বাবা কাদের সিদ্দিকীর বদলে কুড়ি সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো পরিচিত হতে পারেননি কুড়ি সিদ্দিকী। এজন্য জয়লাভ নিয়ে রয়েছে সংশয়। এখন দেখার বিষয় কুড়ি সিদ্দিকী কি পারবে নির্বাচনের দৌড়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে ?

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *