Sharing is caring!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ফখরুলের জন্য অগ্নিপরীক্ষা

বিএনপির সপ্তম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা মির্জা ফখরুল ১৯৮৮ সালে এইচ এম এরশাদ সরকারের সময়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এবং পরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা ফখরুলকে দেয়া হয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব। পাঁচ বছর বিএনপির মহাসচিবের পদ শূণ্য থাকার পর অবশেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-ই এখন বিএনপির প্রধান ধারক ও বাহক।

বিএনপি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে। তারেক রহমান ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বেচ্ছাচারিতায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে যে রাজনৈতিক ভুল করেছিল তার মাশুল বিএনপিকে গুণতে হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দলটি রাজনৈতিক সংকটে ভুগতে ভুগতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে খালেদা ও তারেক রহমানের ব্যাপক আপত্তির মধ্যেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দলটি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পরও তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারিতায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।

তারেক রহমানের প্রধান লক্ষ্য নির্বাচনে জয়ী হয়ে হোক কিংবা আন্দোলন সহিংসতার মাধ্যমে হোক, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কারাগারে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। দল ও দলের কার্মীদের চেয়ে তারেক রহমানের কাছে তার মায়ের মুক্তিই সবচেয়ে বড় কথা। এজন্য দলের অনেকে মনে করছেন বিএনপি নির্বাচনের মাঠে শেষ অবধি থাকবে না।
তারেক রহমান চায় নির্বাচনের দিন নির্বাচন বর্জন করে রাস্তায় লোক নামিয়ে সারাদেশে অস্থিরতা তৈরি করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তা ও বিভিন্ন আদেশ নির্দেশ থেকে তাই বোঝা যায় । এছাড়া দলের অনেক নেতারাও তারেক রহমানের কথামতো সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে নির্বাচনের মাঠে থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এটুকু বুঝতে পেরেছেন যে, নির্বাচনের দিন নির্বাচন থেকে সরে আসার অর্থ হলো আরেকবার ‘আত্মহত্যা’ করা। তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার স্বেচ্ছাচারিতায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিএনপি যে ভুল করেছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেই ভুল আর করতে চাননা। এর আগে খালেদা জিয়া বারবার ঈদের পর আন্দোলনের ডাক দিলেও রাস্তায় সে ডাকে মানুষ সাড়া দেয়নি যা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেন। ঢাকা অবরোধ করতে গিয়ে খালেদা জিয়া নিজেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন দূরদর্শীসম্পন্ন মানুষ। উনার বুঝতে বাকি নেই যে উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত একটি দেশের মানুষকে রাস্তায় নামানো খুবই কঠিন।

মনোনয়ন বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিদ্রোহী নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল, দলীয় অন্তর্কোন্দল, আইএসআইয়ের সাথে তারেক রহমান ও মোশারফ হোসেনের কথোপকথন গণমাধ্যমে ফাঁস, ভোট বাণিজ্যে আইএসআইয়ের অর্থ সহায়তার তথ্য ফাঁস, তারেক রহমানের হঠকারিতায় দিক-বিদিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি অবস্থান করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *