Sharing is caring!

shibaganj- mango-pic-02ইমরান আলী, শিবগঞ্জ থেকে \ চলছে আম মৌসুম, সবেমাত্র আন্তর্জাতিক খ্যাতি নামক চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট আম বাজারে নামতে শুরু করলেও এখনো জমে উঠেনি আম বাজার। প্রতি বছর এসময় কানসাট আম বাজারে সারাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ব্যবসা এবং ভ্রমনের জন্য ছুঁটে আসত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ১০ দিন থেকে শুরু হওয়া আম বাজার যেনো এখনো রয়েছে হাতেগোনা ৫০ থেকে ৬০ ভ্যান আম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফরমালিনের মিথ্যা অযুহাতে অন্যায় ভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ শিবগঞ্জ উপজেলা এ অঞ্চলের আমচাষী ও আম ব্যবসায়ীদেরকে আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ করতে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছে এক শ্রেনির অসাধু চক্র। এছাড়া বাজারে আম আমদানি হওয়া সত্বেও ক্রেতা কম আসাই বাজারে আমের দাম কম এবং বিক্রয়ও কম। আমচাষিরা সন্তুষ্টজনক আমের দাম না পাওয়ার কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হচ্ছে। আমের দামের কারণে আমচাষীদের মাথায় হাত। গত বছর এসময় ভরা মৌসুম ছিল, ছিল আম ক্রেতা, ছিল সন্তুষ্টজনক আমের দামও।  গত বছর এসময়ে বাজার হিমসাগর (খিরসাপাত) আম বিক্রয় হয়েছে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা মন, বর্তমান তা বিক্রয় হচ্ছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা মন। বিভিন্ন জাতের গুটি গত বছর বিক্রয় হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৫’শ থেকে ২ হাজার টাকা মন এবং বর্তমান আম বাজারে তা বিক্রয় হচ্ছে ৪’শ থেকে ৮’শ টাকা মন। লক্ষনভোগ গত বছর প্রতি মণ বিক্রয় হয়েছিল ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা মন, বর্তমান তা বিক্রয় হচ্ছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা মন। এছাড়া ল্যাংড়া আম গত বছর বিক্রয় হয়েছিল ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা মন, বর্তমান তা বিক্রয় হচ্ছে ৮’শ থেকে ১ হাজার ৫’শ টাকা মন। একইভাবে এ মৌসুমে আমচাষী এবং আম ব্যবসায়ীদের আম বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে কম দাম হওযার ফলে আমচাষী ও আম ব্যবসায়ীগন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আম চাষিদের আম পরিচর্যা খরচ উঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। শিবগঞ্জের আমচাষি স্বাধীন জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর আম পরিচর্যায় খরচ তিনগুন বেড়েছে। কিন্তু বাজার আম দাম গত বছরের চেয়ে অনেক কম। ফলে, আমার প্রায় ২০ বিঘা আম বাগানের আম বিক্রয় করে বিষ খরচ উঠায় কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মাথায় হাত দিয়ে সব সময় বসে থাকতে হচ্ছে।  অপরদিকে কানসাট কলাবাড়ি এলাকা আমচাষি সেতাউর, সাদ্দাম, শাহলালসহ বেশ কয়েকজন জানায়, আমরা আমের উপর নির্ভরশীল। আম উৎপাদন করে বাজারজাত করি এবং এ আম বিক্রয় করে যে টাকা পাই তা দিয়ে আমাদের পরিবার চালায়। কিন্তু গত বছর ফরমালিনের মিথ্যা অযুহাতে অন্যায় ভাবে আমাদের মারাত্মক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। আর এবছর আমের দাম কম হওয়ায় আমরা আবারও একই ক্ষতিগ্রস্থের মধ্যে এসে পড়েছি। গত বছরের মিথ্যা অপবাদ আর এ বছরের দাম কম হাওয়ায় আমরা সর্বত্ত হারাতে বসেছি।  অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, দেশে যে পরিমান আম উৎপাদিত হয় shibaganj- mango-pic-01তার সিংহ ভাগই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-শিবগঞ্জ অঞ্চলের এবং সবচেয়ে সু-স্বাদু ও মিষ্টি আম এ অঞ্চলে উৎপাদিত হয়ে থাকে। গত বছর ফরমালিনের মিথ্যা অযুহাতে অন্যায়ভাবে এ অঞ্চলের আমচাষী ও আম ব্যবসায়ীদেরকে মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। এছাড়া এবছর প্রথম থেকেই দুর্যোগপূর্ণ আবহওয়া ও শিলাবৃষ্টির কারনে প্রচুর পরিমান আম নষ্ট হয়েছে। তার পরেও বিভিন্ন বাধা ও আবহাওয়াগত কারনে আমের সঠিক মূল্য থেকে ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আমের দাম প্রায় অর্ধেক। এই কারনে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির কারনে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এদিকে কানসাট আম আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমন্বয় কমিটির সভাপতি আবু তালেব ও সাধারণ সম্পাদক কাজি এমদাদুল হক বলেন, আমে ফরমালিন দেয়া হয় এটি যেমন চরম মিথ্যা, তেমনি আমকে ধ্বংসের জন্য একটি স্বার্থান্বেসী মহল চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমে ফরমালিন দেয়া হয় এমন মিথ্যা কলঙ্কে কলঙ্কিত করে চরমভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমচাষী, ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সর্বনাস করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমে এর আগে কখনই ফরমালিন দেয়া হয়নি। বর্তমানেও তা দেয়া হয়না। তারা আরো বলেন, আমরা ব্যবসায়ী ও চাষীরাসহ আড়তদাররা বর্তমান ও ভবিষ্যতেও আমে ফরমালিন ও কার্বাইড ব্যবহার না করার অঙ্গিকার করেছি। আমকে বাঁচাতে জেলা প্রশাসনের কাছে সব অপচেষ্টা নস্যাতে এগিয়ে আসার আকুতি জানান ব্যবসায়ী ও চাষিরাসহ আড়তদাররা। এছাড়াও  ভারত থেকে ফরমালিন মেশানো আমদানীকৃত আম বন্দরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষার পর ছাড় দেয়া এবং ভারত থেকে আামাদনীকৃত আমে ফরমারিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তা ধ্বংশের দাবীসহ দেশের আম বাঁচাতে ভারত থেকে আম আমদানী ৩ মাস বন্ধ রাখারও দাবী জানান ব্যবসায়ী ও চাষিরাসহ আড়তদাররা। জেলা প্রশাসনের কাছে কানসাটে বিএসটিআই কর্তৃক আম পরীক্ষা করে ছাড় দেয়ারও দাবী সংশ্লিস্টদের। আম ব্যবসায়ী, চাষি ও আড়তদাররা আম পরিবহনের সময় সড়কে গতবারের মত মিথ্যা অজুহাত দিয়ে এবং বিতর্কিত মেশিন দিয়ে আম পরীক্ষা করে আম নষ্ট না করা হয় তার জন্য জেলা প্রশাসনসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আবেদন ও সহযোগিতার দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *