Sharing is caring!

রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন

এতিম রোকশানার লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা :

প্রধানমন্ত্রী’র কাছে বিচার প্রার্থণা

♦ প্রেস বিজ্ঞপ্তি 

নওগাঁ জেলার নেয়ামতপুর থানার হাজীপাড়া রসুলপুর গ্রামের এতিম রোকশানা আক্তার ইতি নিজ চাচাদের নির্যাতনের শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রাজশাহীতে এসে এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে বিক্রি করে দেওয়া ও নির্যাতনের লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা করেন। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সুষ্ঠু বিচারও প্রার্থণা করেছে নির্যাতনের শিকার এতিম রোকশানা আক্তার। রোববার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রোকশানা আক্তার ইতি। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আমি নওগাঁ জেলার নেয়ামতপুর থানার হাজীপাড়া, রসুলপুর গ্রামের মৃত শাহ্জাহান আলী’র বড় মেয়ে। আমার তিন বোন ও এক ভাই। তাদের মধ্যে আমি বড়। আমার মা মারা যায় ২০০৯ সালে। মা মারা যাওয়ার পরে আমার পিতা আরেকটা বিয়ে করেন। সৎ মা আসার পরে তিনি আমার পিতাকে আমার সম্পর্কে বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে তার দৃষ্টিতে খারাপ করে তোলে। এক পর্যায়ে ২০১২ সালে আমার পিতা আমার সাথে খারাপ আচরণ করলে আমি রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে আমার মেজ চাচা আব্দুল রাজ্জাক ওরফে মন্টু আমাকে রাজশাহীতে তার নিজের বাসায় রেখে লেখাপড়া করাবেন বলে আশ্বাস দেয়। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন। তার কথামত আমার ছোট চাচা শফিকুল ইসলাম আমাকে বাড়ি থেকে নিয়ে রাজশাহীর একটি গাড়িতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে আমার মেজ চাচা আব্দুল রাজ্জাক ওরফে মন্টু আমাকে রাজশাহী থেকে নিয়ে গিয়ে ঢাকার আব্দুল মোমেন নামের এক এমইএস-এর ঠিকাদারের বাসায় কাজের মেয়ে হিসেবে রেখে আসে। সেই বাড়িতে কাজ করা অবস্থায় বাড়ির লোকজনরা আমাকে কথায় কথায় মারধর ও নির্যাতন করতো। সব মুখ বুঝে সহ্য করে আমি কাজ করতাম ওই বাড়িতে। প্রায় ৬ মাস পরে আমার মেজ চাচা আব্দুল রাজ্জাক ওরফে মন্টু ওই ঠিকাদারের কাছে থেকে আমার সামনেই নগদ ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার টাকা) গ্রহণ করে। তারপর তিনি আমাকে ভালোভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে চলে যান। ওই বাড়িতে কাজ করার সময় বাড়ির লোকেদের নির্যাতন সহ্য করতে না পরে আমি ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে আমার মেজ চাচার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আবারো ওই বাসায় রেখে আসেন। তার কিছুদিন পরে আবারো আমাকে মারধর ও নির্যাতন করলে আমি ওই বাসা থেকে পালিয়ে যায়। তারপর আমি আরেক লোকের বাসায় প্রায় ৩বছর গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করি। এর মধ্যে আমার পিতা আমাকে ওই বাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু আমি আমার পিতার সাথে যেতে রাজি না হওয়ায় তিনি বাসায় ফেরত যান। এরই মধ্যে গত বছর ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের ১৬ তারিখে আমার পিতা মারা যান। পিতার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি আমার ছোট চাচা শরিফুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি আমাকে বাড়িতে আসতে বারণ করেন। আমার সেই চাচা বর্তমানে বিজিবিতে কর্মরত আছেন। পরে আমার আরেক চাচা তরিকুল ইসলামসহ আমার বোনেরা সেই বাসায় গিয়ে আমাকে নওগাঁয় নিজের বাসায় নিয়ে আসে। কথাছিলো আমাকে আমার মেজ চাচা আব্দুল রাজ্জাক ওরফে মন্টু তার নিজের বাসায় রেখে লেখাপাড়া না করিয়ে, মানুষের বাসায় টাকার বিনিময়ে গৃহকর্মী হিসেবে রেখে আসার বিচার করে দেয়া হবে। আমি বাড়িতে ফেরত আসার পরে আমাকে নিয়ে আমার দাদা আলহাজ্ব আজিমুদ্দিনসহ সব চাচারা বৈঠকে বসেন। সেখানে কথা বলার এক পর্যায়ে আমার চাচারা আমাকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করেন। এসব কথা আর কোন দিন বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় চাচারা। আমার পিতা’র সম্পত্তি থেকে আমাকে বঞ্চিত করে আমার চাচারা আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। বিষয়টি আমি বুঝতে পেরে নওগাঁ’র নেয়ামতপুর থানায় চাচাদের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পুলিশ প্রথমে আমার পক্ষ নিয়ে কথা বললেও, তদন্তে আমার বাসায় যাওয়ার পরে ও চাচাদের সাথে কথা বলার পরে নিরব হয়ে যায়। আমি পরে এ ব্যাপারে থানার পুলিশের যোগাযোগ করলে, তারা এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বরং চাচাদের পক্ষ নিয়ে পুলিশও আমার সাথে দূর্ব্যবহার করে। পরে আমি প্রাণ ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করি। বর্তমানে আমি নওগাঁয় গেলে আমার চাচারা আমাকে মেরে ফেলবে এবং আমার দাদা’র বিপুল পরিমান জমিজমা ভোগ দখল করবেন। উল্লেখ্য, আমার পিতা মারা যাওয়ার পরেও আমার দাদার প্রায় ৫০ বিঘা সম্পত্তি চাচারা ভোগদখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং আমার দাদা কর্তৃক বাবা’র পাওনা সম্পত্তি’র অংশ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। সংবাদ সম্মেলনে রোকশানা আক্তার ইতি তার নির্যাতনের বিচার ও তার পৈত্রিক সম্মত্তি ফিরে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগীতাসহ প্রধানমন্ত্রী’র দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *