Sharing is caring!

এরশাদের আসনে বিএনপি-জামায়াতের

নেতাকর্মীরাও ভোট দিলেন না রিটাকে!

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ সদর আসনের উপ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন এরশাদপুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ। শনিবার (৫ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ শেষে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, জাতীয় পার্টির সাদ এরশাদ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রিটা রহমানের চেয়ে তিন গুণ ভোট বেশি পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। জানা যায়, এরশাদের আসনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরাও রিটা রহমানের পূর্বের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে ভোট দেননি! যে কারণে ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।রিটা রহমানের হেরে যাওয়া প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর বিএনপির স্থানীয় এক নেতা বলেন, রংপুরে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার মতো অনেকেই ছিলেন। তাদের প্রার্থিতা না দিয়ে রিটা রহমানের মতো অজনপ্রিয় বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে রংপুরে বিএনপিকে ধ্বংস করার শেষ পেরেকটা ঠুকে দেয়া হলো। সাদ এরশাদের কাছে রিটা রহমানের হার এটা কাঙ্ক্ষিত-ই ছিলো। রিটার বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরাও তাকে ভোট দেননি।

এ বিষয়ে রংপুর-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, রিটা রহমানকে নিয়ে বিতর্ক আগে থেকেই ছিলো, যা ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপির স্থানীয় দলীয় কর্মীরা রিটা রহমানের মনোনয়নের বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেননি। রিটার অজনপ্রিয়তাও বিপুল ভোটে হেরে যাবার অন্যতম কারণ। তবে রংপুরের স্থানীয় বাসিন্দা না হবার বিষয়টি ভোটের ব্যবধান তিন গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিএনপির রংপুর মহানগরের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, আসলে বঙ্গবন্ধু ও জেলহত্যা মামলার আসামির স্ত্রী হিসেবেই রিটা রহমানকে রংপুরের মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। রিটার ভোট পাবার হার দেখলেই তা পরিষ্কার বোঝা যায়। রিটাকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়ায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই বিস্মিত। স্থানীয় এবং ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কেন দলের পক্ষে মনোনয়ন দেয়া হলো তা কর্মীরা জানেন না। তাই বিএনপি নেতাকর্মীরা রিটাকে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকেন।

এদিকে ফলাফলের বিষয়ে রংপুর মহানগর জামায়াতের এক নেতা বলেন, রিটার স্বামীর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তার স্বামী মেজর মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেলহত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও জেলহত্যা মামলার আসামির স্ত্রীকে রংপুরের মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে এটাই স্বাভাবিক।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রংপুর-৩ আসনের উপ নির্বাচনে সাদ এরশাদ ৫৮ হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রিটা রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১৬ হাজার ৯৪৭ ভোট।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *