Sharing is caring!

Naogaon Manob Pacher 3.6.15নওগাঁ থেকে আহাদ আলী \ নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রতারক দালালদের খপ্পরে ৫ যুবক প্রতারনামুলক ভিসার মাধ্যমে ওমান গিয়ে একদিকে যেমন সর্বশান্ত হয়েছেন, অন্যদিকে জেলখানায় আর পালিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। এদের মধ্যে একজন ওমানে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খেটে দেশে ফিরে এলেও এখনও একজন জেলে এবং অপর ৩ জন পালিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন কাটাচ্ছে ওমানে। এসব পরিবারে এখন শুধুই হতাশা আর কান্নার রোল। এব্যপারে ভুক্তভোগীদের পক্ষে স্থানীয় দালালদের বিরুদ্ধে নিয়ামতপুর থানাসহ বিভিন্ন দপ্ততরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, স্থানীয় দালাল উপজেলার সাবইল গ্রামের মো: রফিক দর্জ্জি ও তার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন মিলনের মাধ্যমে মাসে ৪০ হাজার টাকায় চাকরি করতে উপজেলার তেঘরিয়া লংপুর গ্রামের মো: ছাইদুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২২), গুজিশহর গ্রামের মৃত ইমাজ উদ্দিনের ছেলে আনারুল (৩২), কুমারগাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলঅমের ছেলে মিষ্টার আলী (২৭), সাবইল গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩৮) এবং বালিচাঁদ গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে গোলাম মোরশেদ (২৮) ওমান যায়। এজন্য প্রত্যেকে ঐ দালালদের ৪ লাখ করে টাকা দিতে হয়েছে। ঢাকা বিমান বন্দরে বিমানে ওঠার আগে তাঁরা জানতে পারে তাদের ওমানে নিয়ো যাওয়া হচ্ছে। ওমান বিমান বন্দরে নেমে সাখাওয়াত হোসেন মিলন তাদের একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে এবং ওমানে এসে গেছি তোমরা এখন কাজ খুঁজে নাও এই বলে সটকে পরে। ওমানে পুলিশের হাতে ধরা পরলে তারা বুঝতে পারে তাদের ভিসা ছিল মাত্র তিন মাসের জন্য ট্যুরিষ্ট ভিসা। ৩ মাস কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে সময় অতিবাহিত করে শরিফুল ও আনারুল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। বাঁকী ৩ জন এখনও অজ্ঞাত অবস্থায় পালিয়ে রয়েছে। এদিকে ৩ মাস কারাভোগের পর শরিফুল ইসলাম জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ওমানের স্থানীয় এক পুলিশের সহায়তায় বাংলাদেশে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে গত ৭ মে বাড়িতে ফিরে এসে তাদের এই দুর্বিপাকের কথা জানান। আনারুল এখনও ওমানের জেলে রয়েছে। আর মিষ্টার আলী, জয়নাল আবেদীন আর গোলাম মোরশেদ অজ্ঞাত অবস্থানে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। তাঁদের কোন খোঁজ নাই। সর্বস্বান্ত এই পরিবারগুলোতে এখন শুধুই হাহাকার আর  স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি। তারা অনাহার অর্ধাহারে কোন রকমে দিনাতিপাত করছেন। অথচ দালাল চক্র রফিক দর্জ্জি ও তার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন মিলন এলাকায় মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এব্যপারে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে দালাল রফিক দর্জ্জি ও সাখাওয়াত হোসেন মিলনের সাথে কয়েকদফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কোন ফল হয়নি। দালালরা কোন কথাই মানতে নারাজ। পরিবারের সদস্যরা তাদের নিকট টাকা ফেরত এবং স্বজনদের দেশে ফিরে আনতে বললে উল্টো তাদের হুমকী প্রদান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিবাসীদের স্বজনদের বিভিন্নভাবে হুমকী অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *