Sharing is caring!

কক্সবাজার-২ আসনে যুদ্ধাপরাধী হামিদুর

রহমান আযাদের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী!

নিউজ ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার–২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন থেকে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা বিভাগের সেক্রেটারি ও চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। বিএনপির পক্ষ থেকে একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী এবং দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে পুনরায় এই আসনে মনোনয়ন দেয়ায় ভোটারদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজার-২ আসনের সাধারণ ভোটাররা বলছেন, একজন দুর্নীতিবাজ, রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীকে পরাজিত করতে এ আসনের ভোটাররা বদ্ধপরিকর। ভোটযুদ্ধের মাধ্যমে তাকে প্রতিহত করা হবে।মহেশখালী-কুতুবদিয়া এলাকায় ‘পাকিস্তানি মিত্র’ বলে পরিচিত এই ব্যক্তি ১৯৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালি ও তাদের ধনসম্পদের ওপর হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়েন। নিজ দায়িত্বে পাক হানাদারদের ওই এলাকায় জায়গা করে দিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্র বলছে, ৭১ সালে এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ মুক্তিকামী বাঙালিদের তালিকা করে পাক হানাদারদের কাছে তুলে দিয়েছিলেন।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে লুটপাট, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের মাধ্যমে বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে যান তিনি। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষক, চরমপন্থীদের পৃষ্ঠপোষক, ঘের দখল, বিভিন্ন সরকারি দফতরের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, কাজ পাইয়ে দিতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ক্ষেত্র বিশেষ কমিশন গ্রহণ করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন জামায়াতের এই নেতা।

এ প্রসঙ্গে মহেশখালী উপজেলার ভোটার আশেক আলী মণ্ডল বলেন, যখন দেখি বিভিন্ন আসনে বিএনপি যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের মনোনয়ন দিচ্ছে তখন ভাবতেই ঘৃণা হয় যে তারা দেশের কতবড় ক্ষতি করছে। অথচ এই দেশ একদিন যুদ্ধ করে, রক্ত দিয়ে স্বাধীন করতে হয়েছিলো। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি তারা কোনদিন হামিদুর রহমান আযাদকে সমর্থন করতে পারবো না। তার মত যুদ্ধাপরাধীদের জন্য শুধু ঘৃণা ও অভিশাপ থাকবে আমাদের পক্ষ থেকে। সে কোনদিন এই আসন থেকে বিজয়ী হতে পারবে না। তাকে ভোট দিলে- দেশকে, মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা হবে। তাই এই আসনের ভোটারদের কাছে আমার অনুরোধ- আসুন, সবাই মিলে একজন যুদ্ধাপরাধীকে প্রতিহত করি।

সূত্র বলছে, হামিদুর রহমান আযাদ কেবল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধেই বাংলাদেশের বিপক্ষে কাজ করেননি, তিনি এখনো দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সক্রিয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন বানোয়াট-মনগড়া সরকারবিরোধী পোস্ট দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার এই প্রবণতা আরও বেড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *