Sharing is caring!

সচেতন হই

আনোয়ার আল ফারুক

….
আড্ডায় জমাও দোকানপাটে
মানছ না যে রুল,
ধরলে ভাইরাস বুঝবে তবে
পাবে নাতো কূল।
..
নিজের স্বার্থে দেশের স্বার্থে
নিজকে করো লক,
ঠিক ভাবে তাই মেনে চলো
নিরাপদের ছক।
..
থাকলে ভালো তুমি আমি
থাকবে ভালো দেশ,
সাবধানতায় এই ভাইরাসও
হবে নিরুদ্দেশ।
..
আমরা সবাই হই সচেতন
না আর করি ভুল,
না যাক ভেঙে এই বিপদে
মানব শেকড় মূল।
..
থাকবো ঘরে নিজ আলয়ে
আড্ডা নয়তো আর,
এই কামনা রাখছি শেষে
হোক করোনার হার।#

 

চোর

জাহিদ আজিম

পেটের দায়েই সিধেঁল চোরা সিধু
গৃহস্থের ঘরে গিয়ে করতো চুরি,
বউ-বাচ্চাদের নিয়ে সেই চোরায়
কষ্ট-ক্লেশেই দিতো দিন-রাত পারি ।
দশ গেরামের মানুষজন তাঁরে
দেখতো বেজায় ঘৃণার চোখে ,
চোরার মনেও থাকতো যে লাজ
বের হতো না সে দিনের ফাঁকে।
সোনার দেশ আজ ভরে গেছে
মুখোশে ঢাকা হাজার চোরায়,
তাঁদের নানা কীর্তিকলাপ দেখে
সিধু চোরাও ভীষণ লজ্জা পায়।
চরম দুর্দিনে অসহায় দুঃখীদের
ক্ষুধা নিবারণের লাগি ক্ষুদ্র খাবার,
কৌশলে কেড়ে কদাকার দুহাতে
ধূর্ত চোরের দলে করছে সাবাড়।
দুঃখীজনেরা মরুক ধুকে ধুকেই
নিষ্ঠুর নির্দয়দের কি আসে যায়?
নির্লজ্জ চোরেরা লুটেপুটে সবই
সম্পদের বিশাল পাহাড় বানায়।
বোধ-বিবেক তাঁদের পচেই গেছে
নীতি ডুবেছে কালো নর্দমার জলে,
কুৎসিত দুই হাতে ঘৃণ্য চৌর্য বৃত্তি
চলছে নির্বিঘ্নেই প্রকাশ্যে-আড়ালে।
এই ভীষণ বেহায়া লোভী চোরদের
সমাজ-দেশে কি করে হয় যে ঠাঁই?
কেমনে পায় বসার উঁচু উঁচু চেয়ার
কবে ফুরোবে খাদকদের খাই খাই ?

 

পেটের ক্ষুধা

মনিরুল ইসলাম কুতুব

ঘর থেকে বাহিরে যাই না,
করোনায় যদি ধরে।
ঘরে বসে থেকে সবে ,
যাবো কি এখন মরে।।

কাজকর্ম সব বন্ধ হলো,
নেই কোনো উপার্জন।
ছেলে মেয়ে কান্দে বসে,
পেটের ক্ষুধায় বিষণ।।

 

অনাগত দিনের প্রতিক্ষা “

…….রফিকুল ইসলাম

আতঙ্কে গৃহ বন্দী কোটি কোটি প্রাণ
অন্তরীণ গগনচুম্বী বিজ্ঞান,
নগর সভ্যতা হারিয়েছে সময়ের কাছে
নির্ঘুম প্রচেষ্টা সব আজ মৃয়মাণ।
তখন জনশূন্য সৈকতে খেলে ডলফিন
আর অবাধ সাতাঁরে ব্যস্ত বালিহাঁস
প্রচণ্ড শব্দে উড়ে চলে না আর বিমান
দখল করেছে পাখিরা আকাশ।
নতুন ভাইরাস আমাদের ঝুঁটিধরে
সাম্য সভ্যতার বানান শিখায়
বোধহীন দৌড়ে শুধু মারতে শিখেছি
আর জীবন কতটা বিলাসী করা যায়,
হে মানব ! একবারও ভাবনি কতটা
নিরাপদ আর ভালো থাকার উপায়।
বিষাদনীল বিশ্বে চলমান মৃত্যুর মিছিল
ভাইরাসের সাথে অঘোষিত লড়াই ,
অজানা ভয় কি জানি হয় আয়ুরেখা
বুজি অদৃশ্য জীবাণুতে মিলায় ।
হাজার বছরের মানবজীবন থেমে গেছে
মহাপরাক্রমশালী ঝড় উঠেছে
বদলে যাবে কি মানব-সভ্যতার গতিপথ
সব সাফল্যের গল্প উপকথা
রচিত হবে কোন নতুন গল্পের পৃষ্ঠা।
লেখা হবে মানুষের নতুন রোজনামচা
বদলে যাবে সভ্যতা, বদলে যাবে
জীবনচর্চায় আকণ্ঠ ভোগের লালসা
অনাগত দিনের প্রতিক্ষা রহস্যময় মরুর মরিটিকা।
ক্রান্তিকাল শেষ হবে চলে যাবে পরজীবী
অনেকেই বেঁচে যাবে …
বেঁচে থাকবে হয়তো অন্য এক পৃথিবী।

 

লাশের পরে লাশ

মাহবুব-এ-খোদা

জন্ম-মৃত্যু বিধির লিখন
ধর্মগ্রন্থে প্রকাশ,
বিশ্বজুড়ে হাহাকারে
প্রকম্পিত আকাশ।
কাঁদছে পিতা কাঁদছে মাতা
কাঁদছে ভাই আর বোন,
এই করোনায় হারিয়ে যাচ্ছে
তেজে ভরা মন।
লাভ হবে না কোনো কিছু
যতই করো ফন্দি,
ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে
থাকবে গৃহবন্দী।
রাষ্ট্রপ্রধান দেশবাসীকে
বলছে বিনয় করে,
রাস্তাঘাটে আর না গিয়ে
থাকবে আপন ঘরে।
চতুর্দিকে তাকিয়ে দেখো
করছে যেন গ্রাস,
একের পর এক যাচ্ছে পড়ে
লাশের পরে লাশ।

ক্ষমা করে দাও প্রভু

সেলিম সিকদার

মহামারী ব্যাধি কাঁদি নিরবধি
প্রাদুর্ভাব বিশ্ব দরবারে,
যেতে মানা গির্জা প্যাগোডায়
মন্দির মসজিদ ও বাজারে৷

ঘরে ঘরে চলে প্রভুর উপাসনা
কাঁদছে সবে গভীর নিশিতে,
তুমি সৃষ্টি তুমি অবসান
পাপীদের পারো মুক্তি দিতে।

চন্দ্র সূর্য গ্রহ রাজি চলছে
প্রভু তোমার ইশারাতে,
তোমার ইশারাতে অস্তে রবি
সূর্য উঠে আবার প্রভাতে।

দয়াময় আরোগ্য দানকারী
মুখ ফিরিয়ে নিওনা কভু,
তুমি ছাড়া নাই কোনো ইলাহা
ক্ষমা করে দাও প্রভু।

হৃদ আয়নার মাঝে
তুলোশী চক্রবর্তী

কেনো গো তোমার চাঁদ বদনে
হিরকসম হাসির প্রভা?
কেনো গো তোমার নয়ন দুখানি
হৃদয়হরা মনোলোভা?

কতো দেখি তোমায় আমি
সকাল দুপুর সাঁঝে
তোমার মুখ খানি যে গেঁথে গেছে
আমার হৃদ আয়নার মাঝে,

মাঝে মাঝে অবাক হয়ে
দেখি তোমায় দেবতা রুপে
মুগ্ধতায় কখনোবা খুঁজে পাই
ভালোবাসার দেব গৃহের প্রদীপে।

ইসলামি গান-১

জহির টিয়া

হে জাহানের মালিক আমার
রাব্বিল আলামীন
তোমার কাছে চাই গো ক্ষমা
আমার অনেক ঋণ ।

সুন্দর দেখে এই পৃথিবী
লোভে পড়ে যাই ,
লোভে লোভে পাপের বোঝা
হচ্ছে বড় তাই ।
জন্ম যেদিন দিলেন মায়ে
ছিলাম যে পাপহীন ।

হেলায় হেলায় পার করেছি
কতই দ্বীনের কাজ ,
এখন বুঝে দেখছি আমি
নেই তো সময় আজ ।
আল্লাহ তোমার দয়া ছাড়া
কষ্ট সীমাহীন ।

মুজীব

রুস্তম আলী

মুজীব তো বেঁচে আর
নেই দুনিয়ায়
তার নাম লিখা আছে
ইতিহাসের পাতায়।
মনের মাঝে জেগে তাই
উঠে সেই স্মৃতি,
মুজীবের প্রতি জাগে
বাঙালির প্রীতি।
স্বাধীনতার অবদান
তার অতুলনীয়
বাঙালির কাছে তিনি
তাই চিরস্মরণীয়।
———

আল্লাহ্ আমাদের কে ক্ষমা করো

মোঃ অনিক দেওয়ান

নামাজ পড়ো দোয়া করো
আল্লাহ্ কাছে হাত তুলো,
ক্ষমা করো আমাদের তুমি
রক্ষা করো আল্লাহ্ তুমি।

বিপদ হতে মুক্তি করো
আল্লাহ্ তুমি দয়া করো,
বিপদের মুখে বাঁচাও তুমি
সবাই কে ক্ষমা করো তুমি।

তোমার কাছে হাত তুলি
ক্ষমা করো আমাদের তুমি
বিপদ থেকে মুক্তি দাও তুমি
আমাদের বাঁচাও তুমি।

হাত তুলেছি তোমার কাছে
ক্ষমা করো আমাদের কে
রক্ষা করো সবাই কে
মুক্তি দাও আমাদের কে
ক্ষমা করো ক্ষমা করো
সবাই কে তুমি ক্ষমা করো।

করোনা

শাবলু শাহাবউদ্দিন

করোনা এলো দু’এক ঘরে
ব্যবসায় এলো টান
মাস্ক হয়েছে পেঁয়াজ বাজার
বাঙালি সন্তান কী পান ?
সরকার দোষে বিরোধীদলীয়
বিরোধীতার টান
বিরোধীতায় বাঙালি মরবে
করোনা ঘরে আন !
ব্যবসায় এখন ঘরে ঘরে
কে কারে আপন করে
করোনা কিন্তু সরাব তরে
সাবধানে টাকার গাদি বাণ ।

কাঁদছে মানব

কাঞ্চন দাশ

আমি বেশ ভালো আছি
এই গৃহ বন্দীর অবলীলায় আমার দিন কাটছে কোনোমতে
কারো কাছে নিজের মনের অভিলাষটুকু বুঝাতে পারি না
অহংকারী এক অচেনা শত্রু ঘিরে রেখেছে আমায়।

আজ এই অদেখা শত্রুর নিকট আমরা অপারেজয়
সাহসের দাম্ভিক প্ররোচনায় অকালে বিদ্ধ হচ্ছি।
নতুন করে আবার গড়ে উঠছে পৃথিবী
প্রকৃতি হাঁসছে তার নিজের মনের মতো করে।

আজ কাঁদছে মানব প্রকৃতির প্রয়োজনে
কোথায় সে সমাজ? যে সমাজ শুধু লড়াই করতে শেখায়
কোথায় সে সমাজ? যে সমাজ শুধু ধর্মের বড়াই করে
আজ সে সমাজ নেইূনিজের তাড়িতে তাড়িত।

প্রকৃতির প্রয়োজনে আজ কিছু মানবের মৃত্যু অনিবার্য
তবুও আমাদের মনের সচেতনতা তৈরিতে সক্ষম হচ্ছি না!
এটাই হয়তো আমদের দুর্বোধ্যের মহৎ কারণ
আজ বাধ্য হয়ে মানতে হচ্ছে অনেক বারণ।

ঘরেই থাকো

আশরাফ আলী চারু

যাচ্ছে কেমন ও হারাদন
জিগায় মামা ফোন করে
সকালবেলা কি রাঁধছিলা
খায়ছিলা কি পেট ভরে?

খাও বা না খাও বাইরে না যাও
ঘরেই থাকো সুখ মনে
বেঁচে থাকার উপায় আবার
মানতে হবে প্রাণপণে।

হাত ধুয়ে নাও পানিও খাও
ঘনঘন সাবধানে
আর কটা দিন যাক পরাধীন
এরপরে ঠিক আসবানে।

বললো মামা একাই কথা
হারাদনের নাই খবর
ঘরে থেকে চেখে মেখে
দিন কাটে তাঁর খুব জবর।

“চৈত্রি “

জিল্লুর রহমান পাটোয়ারী

চৈত্রি মাসে পড়ছে আগুন,
কাঠফাটা রোদ দুপুরে –
নদ নদীতে জল শুকেছে,
জল শূন্য পুকুরে।
আকাশে নাই মেঘের ভেলা,
রোদ করেছে খেলা –
গাছের ছায়ায় গরম বাতাস,
যাচ্ছে কেটে বেলা।
যাচ্ছে বেলা মনের মেলা,
চৈত্রি রোদের মতো –
সংশয়ে দিন কাটছে সবার ,
দুঃখ আসে যতো।
মরণ ব্যাধির ঘুরছে বাতাস,
ঘুরছে সবার পিছে –
কখন যে কার জীবন কাড়ে ,
জীবনটাই যেন মিছে।

আমি

শ্যামল বণিক অঞ্জন

আমি একটু ভিন্ন ধাঁচের
কথা বলি স্পষ্ট,
ধার ধারিনা কে খুশি আর
কে-ই পেলো বা কষ্ট।
সত্য কথা জোর গলাতে
ভালোবাসি বলতে,
তোয়াজ তোষণ তেল ধান্দার
পথ এড়িয়ে চলতে।
বাসতে পারি ভালো আমি
লোককে বিনা স্বার্থে,
সাধ্য মতো চেষ্টা করি
সেবা দিতে আর্তে।
নেই তো আমার ধনের পাহাড়
অঢেল অর্থ বিত্ত,
চরিত্রতে নেই কোন দাগ
শুভ্র সতেজ চিত্ত।

কেন এমন বিপদ ?
রাক্বী মায়মূন তানভীর

বাড়ছে শুধুই হতাশা আজ
থামছে না করোনা,
কাড়ছে কেবল দু’হাতে সে
করছে না করুণা ।

মরছে মানুষ চারিদিকে
চলছে আহাজারি,
প্রাণঘাতী করোনা তবু
করছে বাড়াবাড়ি ।

বন্ধ গাড়ি, বন্ধ দোকান
রাস্তা-ঘাটও ফাঁকা,
দারিদ্র সংসারের এখন
চলছে কেমন চাকা ?

সরকারী ত্রাণ যাচ্ছে দেখি
নেতা মিয়াঁর বাড়ি,
দুস্থ মায়ের চুলায় কেন
অন্ন বিহীন হাঁড়ি ?

ভাবতে হবে শান্ত মনেথ
‘কেন এমন বিপদ’,
নিজের দোষেই মরছি সবাই
বাঁচতে খোঁজো দ্বিপথ !

করোনায় হালচাল

শিমুল হোসেন শূন্য

অবরুদ্ধ পৃথিবীর -ক্ষমতা দাপট
কোথায় অস্ত্র বারুদ মিত্রের সাপোর্ট?
কোথায় সে এ্যাটমবোম, সমর সৈনিক
যাদের হাতে মানুষ মরেছে দৈনিক?

অদৃশ্য শক্তির খেলা সামান্যতে শুরু
তাতেই এমন হাল? বুক দুরুদুরু!
এতো শীঘ্রই অচল সকল প্রযুক্তি?
উপায় জানে না কেউ, কিসে হবে মুক্তি!

ল্যাবে শেষ রাতদিন, কেউ খোঁজে সূত্র
জ্ঞানীর বেশে মুর্খরা গিলছে গোমূত্র!
কেউ খোঁজে কার ঘরে জন্মেছে করোনা
কেউ বলে হাত ধোও, মাস্কটা ছেড়ো না।

ঘরে থাকো সারাক্ষণ বাইরে এসো না
একাধিক লোকজন একত্রে বসো না,
কত শত নিয়মের মহড়া চলছে
লিফলেট হাতে দিয়ে মাইকে বলছে।

পৃথিবীর প্রাণীকুল হয়ে আছে রুদ্ধ
জানি না থামবে কবে এ নিরব যুদ্ধ,
পাপী যত অসহায় করোনার হালে
আমরা নিরব বন্দী আকাশের জালে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *