Sharing is caring!


স্টাফ রিপোর্টার \ আন্তর্জাতিক খ্যাত আম বাজার কানসাটে কোন প্রকার কমিশন ছাড়াই ৪০ কেজিতেই মণ আম বেচা-কেনা জন্য আবার হুশিয়ারি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান। কৃষকদের স্বার্থে কোন অনিয়ম চলতে দেয়া হবে না। মঙ্গলবার দুপুরে কানসাট শাপলা সিনেমা হলের পার্শ্ববর্তী আম বাগানে প্রশাসনে বেঁধে দেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তায়নের দাবিতে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও জেলা আম চাষি উন্নয়ন সমন্নয় কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত আম চাষী ও কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা চাই সবাই মিলে আম উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা সুন্দরভাবে তুলে ধরতে। যেন সারাদেশের মানুষ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ট্রেড মার্ক হিসেবে সব স্থানে বিক্রয় হবে। তাহলে আপনাদের সকলকে মিলে এক সাথে ব্যবসা করতে হবে। এখানে কাউকে বাদ নিয়ে নয়, সমন্নয় করে ব্যবসা করতে হবে। প্রধান অতিথি বলেন, আম বাজারে যারা ব্যবসায়ী, ফড়িয়া রয়েছেন, তারা সবাই হালাল ভাবে ব্যবসা করুন। আম চাষিদের পক্ষে কথা বলতে আমাদের ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ নাই। প্রধান অতিথি বলেন, নাচোলের ইলা মিত্র কেনো আন্দোলন করেছেন আপনারা জানেন? তিনি চাষিদের জন্য আন্দোলন করেছেন। কারণ, চাষিরা চাষ করে, ফসল উৎপাদন করে। সে সময় চাষিদের উপর নির্যাতন চলেছে, এখনো চলছে। আমরা এই জন্য শুধু চাষিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য নাই। তিনি আরও বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে আম বাজারে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনেই আম বেচা-কেনা হচ্ছে। জেলার সকল আম বাজারে একই নিয়ম মোতাবেক আম বেচাকেনা চলবে। সিদ্ধান্ত অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বেনাউল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম। পুলিশ সুপার বলেন, অবৈধভাবে নেয়া কমিশনের টাকা কোথায় যায় এবং কোন খাতে ব্যয় হয়, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। আড়ৎদারদের ব্যাংক এ্যাকাউন্টের লেনদেন এবং এই অর্থ কোন জঙ্গী সংগঠনের কাজে লাগানো হচ্ছে কিনা বা দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে কিনা সে বিষয়েও তদন্ত চালানো হবে। কোন অনিয়ম হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারী দেন তিনি। এসময় অন্যান্যের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম, জেলা আম চাষি উন্নয়ন সমš^য় কমিটির উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যক্ষ আতাউর রহমান, জেলা আম চাষি উন্নয়ন সমš^য় কমিটির উপদেষ্টা ও গোমস্তাপুর উপজেলা আমচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাইনুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম ডিউক, শিবগঞ্জ উপজেলা ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব, কানসাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শ্রী প্রবোধ দত্ত, আম আড়ৎদার আহসান হাবিবসহ অন্যরা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) ওয়ারেছ আলী মিয়া, শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিব। আলোচনা সভা শেষে কানসাট আম বাজারে কোন কমিশন ছাড়াই ও ৪০ কেজিতে মণ ঘোষণা দিয়ে দুটি আড়তের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসানসহ অতিথিগণ। উলে¬খ্য, আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আম ব্যবসায়ী, আড়ৎদার, আম চাষী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মতামতের ভিত্তিতে বাজারে ৪০ কেজিতে আমের মণ এবং ডিজিটাল মিটারে আম ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত মানছিল না দেশের বৃহত্তর আম বাজার কানসাট, রহনপুর ও অন্যান্য বাজারের আড়ৎদাররা। প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জেলার সকল আম বাজারে চাষীদের কাছ থেকে মণে নেয়া হচ্ছে ৪৬/৪৭ কেজি। কিছু আড়তে ডিজিটাল মিটার থাকলেও বেশিভাগ আড়তে এই মিটারের পরিবর্তে সাধারণ পাল্লাতেই চলছে আম বেচা-কেনা। এমন সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশের পর শুরু হয় তোলপাড়। প্রশাসনের উদ্যোগে কানসাট আম বাজার ও রহনপুর আমবাজারসহ জেলার বিভিন্ন আম বাজারে মাইকিং করে আম আড়ৎদার, আম ব্যবসায়ী ও চাষীদের সতর্ক করে দেয়া হয়। গত রবিবার ও সোমবার মাইকিং করে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত না মেনে চললে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারী দেন জেলা প্রশাসন। মাইকিং এ বলা হয়, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলার সকল আম বাজারে ৪০ কেজিতে আমের মণ, ডিজিটাল মিটারে ওজন এবং কোন ধরণের বাড়তি কমিশন নেয়া যাবে না। যদি কোন আড়ৎদার, ব্যবসায়ী বা চাষী এই আদেশ অমান্য করে তাহলে, কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি কোন আড়ৎদার এই আদেশ অমান্য করে তাহলে সেও যেমন অপরাধী, কোন ব্যবসায়ী বা চাষী অমান্য করে তাহলে তারাও একইভাবে দোষী। তাই সকলের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কানসাট, গোমস্তাপুরের রহনপুর, ভোলাহাটসহ জেলার বিভিন্ন আম বাজারে জোর করে কৃষকদের কাছ থেকে ৪৬ কেজিতে মণ এবং শতকরা ৫/১০ টাকা কমিশন নেয়া হচ্ছিল। এমন অনিয়ম ও অত্যাচারের সুষ্ঠু সমাধান চাই কৃষক ও চাষীরা। কৃষকদের সম্যসার কথা চিন্তা করে এই কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *