Sharing is caring!

করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাসায় যেসব

স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে

♦ দর্পণ ডেস্ক

ঢাকা: নভেল করোনাভাইরাসের বা কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময়ের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। সবশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ মে’র পর আর বাড়ছে না এই সাধারণ ছুটি। ৩১ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অফিস ও কলকারখানা খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এসময় বিধি মেনে চলবে গণপরিবহনও।

সাধারণ ছুটি থাকুক বা না থাকুক, করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পালনীয় নির্দেশনা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত ৮ মে অধিদফতরের সমন্বিত কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে এই ‘কারিগরি নির্দেশনা’ প্রকাশ করা হয়। এর আওতায় বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, গণপরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোথায় কী বিধি মেনে চলতে হবে, তা তুলে ধরা হয়েছে।

অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী বাসায় যেসব স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হয়েছে, সেগুলো হলো—

বাড়িতে থার্মোমিটার, মাস্ক, জীবাণুনাশক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণ করুন;
পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে;
পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের জন্য জানালা সবসময় বা অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য দিনে দুই-তিন বার খুলে দিয়ে বাড়ির ভেতরে বায়ু চলাচল অব্যাহত রাখুন;
জীবাণুনাশক দ্বারা বাড়ি ও এর আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন;
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি তোয়ালে সবাই মিলে ব্যবহার করবেন না। ঘন ঘন কাপড় ও লেপ-তোষক রোদে দিন; ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন। যত্রতত্র থু থু ফেলবেন না, মুখ ও নাক টিস্যুতে মুড়িয়ে বা কনুইয়ের ভাঁজে রেখে হাঁচি-কাশি দিন;
সঠিক পরিমাণে ও নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। একটি বৈজ্ঞানিক ডায়েট প্ল্যান করুন, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন, পর্যাপ্ত ঘুমান এবং ইমিউনিটি বৃদ্ধি করুন;
বাইরে থেকে ফিরে এবং হাঁচি-কাশি দেওয়ার পর হাত সাবান-পানি ব্যবহার করে ধুয়ে নিন অথবা ৭০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত জীবাণুনাশক (Sanitizer) দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন;
বন্য প্রাণী খাওয়া বা এ ধরনের প্রাণীর সংস্পর্শে আসা থেকে বিরত থাকুন। হাঁস-মুরগি ও ডিম খাওয়ার আগে সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করুন;
বেড়াতে যাওয়া, দাওয়াতে যাওয়া ও আড্ডা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন;
অসুস্থ হলে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ভিড় এড়িয়ে চলুন। বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরুন। আপনার জন্যে সাধারণ কাপড়ের মাস্কই যথেষ্ট। এটা পরা এবং খোলার নিয়ম অনুসরণ করুন। বারবার ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিবার ব্যবহারের পর হালকা গরম পানিতে সাবান গুলিয়ে ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিবেন;
জনাকীর্ণ এলাকায় যাতায়াত বা অন্যান্য লোকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সময় অবশ্যই মাস্ক পরুন;
আপনি যদি মাঝারি এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে থাকেন, তবে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন বা কমিয়ে আনা বা সীমিত রাখার চেষ্টা করুন; কোয়ারেনটাইনে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা পরিহার করুন এবং বিশেষ প্রয়োজনে মেলামেশার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জীবাণুমুক্তকরণের দিকে মনোযোগ দিন। ব্যক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করুন এবং মাস্ক পড়ুন।

উল্লেখ্য, ২৮ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মচারী এবং সন্তানসম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকার বিষয়ে জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *