Sharing is caring!

Chapai-Raj.-pic.-08-11-15শিবগঞ্জ সংবাদদাতা \ চাঁপইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটের ঐতিহ্যবাহী কুঁজে রাজার বাস ভবনটি রক্ষনা-বেক্ষনের অভাবে ধ্বংস হওয়ার পথে। বর্তমানে ভবনটির আশপাশ বে-দখল ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কুঁজে রাজার বাস ভবনটি ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তি ধরে রাখার জন্য প্রত্নতত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তরের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। সূত্র মতে জানা যায়, ময়মনসিং এর মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা শশিকান্ত আচার্য্য বাহাদুর রায় চৌধুরী (কুঁজে রাজা নামে পরিচিত) কানসাটের জমিদারি দেখা-শোনা করত। জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের পর কুঁজে রাজার বাস ভবনসহ তার রক্ষিত এলাকার বাড়ীঘর ও বিভিন্ন জিনিসপত্র পর্যটকদের দর্শনের জন্য সু-রক্ষিত থাকে। রাজ বাড়ীটি কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকালেও দির্ঘদিন থেকে রক্ষনা-বেক্ষন ও সংস্কারের কোন উদ্দ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের। স্বাধীনতার পর ঐ রাজ বাড়ীটি ছিল সরকারের থানা/উপজেলা রাজস্ব অফিসারের কার্যালয়। দির্ঘদিন ঐ বাড়ীটির দ্বিতীয় তলায় ছিল সরকারের উপজেলা রাজস্ব কর্মকর্তা ও নীচে ছিল রাজস্ব আদায়ের কাচারী ঘর। গত ১৯/০৫/১৩ইং তারিখ ঐ বাড়ীটি ঝুকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। অন্যদিকে, উপজেলা রাজস্ব অফিসটি প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে উপজেলা সদরে স্থানান্তর করা হয়। ফলে কানসাটের রাজ বাড়ীটি হয়ে যায় অরক্ষিত। এলাকাবাসীর দাবী, ভবনটি প্রত্নতত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলে আগামী ২’শ বছর ভবনটি দর্শনার্থিদের কাছে আকর্ষনীয় হয়ে থাকবে। কুঁজে রাজার ঐ বাস ভবনটির ব্যাপারে সম্প্রতি কানসাট বাজারে স্থানী লোকজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানায়, বর্তমানে ভবনটি অরক্ষিত, মাদক সেবনকারীদের আড্ডাখানা ও বাজারের সকল আবর্জনা ফেলা হয় ভবনের নিচ তলায়। এ ব্যাপারে কানসাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলে একজন কর্মকর্তা জানান ০৬/০৭/১৪ইং তারিখ কানসাট ভূমি অফিস থেকে ভবনটি সংস্কার ও রক্ষনা-বেক্ষনের জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। উক্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে ০৭/০৯/১৪ইং তারিখ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দফতরে উপরোক্ত ভবনটি রক্ষনা-বেক্ষনের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভবনটি রক্ষনা-বেক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। কানসাট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহ্শীলদার) জানান ২ একর ২৪ শতক জমির উপরে কুঁজে রাজার বাস ভবন ও এরিয়া। ১৯৭২ সালে উক্ত জমি বাংলাদেশ সরকারের ১নং খতিয়ানে রেকর্ড ভুক্ত হয়েছে। ভবনটি প্রতœতত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে পুরাকীর্তি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার দাবী শিবগঞ্জ উপজেলাবাসীর।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *