Sharing is caring!

কামালের কেলেঙ্কারি

ড. কামাল হোসেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত-সমালোচিত এক রাজনীতিবিদ। উপরে উঠতে উঠতে নিচের দিকে নেমে যাওয়া ব্যক্তি বলতে যা বোঝায়, ড. কামাল ঠিক তা-ই।

বঙ্গবন্ধুর সময়ে একবার সাংসদ হয়েছিলেন, তাও বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া আসনেই। সেটিই প্রথম, সেটিই শেষ। এরপর আর কোনদিনই মহান সংসদে যাবার সৌভাগ্য হয়নি তার। ভোটের মাঠে জামানত হারানোকে তো তিনি নিয়ে গিয়েছেন শৈল্পিক পর্যায়ে।
তবে একদিক দিয়ে ড. কামাল ঠিকই সৌভাগ্যবান। আকন্ঠ দুর্নীতিতে ডুবে থেকেও জ্ঞানপাপী কামাল থেকেছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে। নিজে বড় দুর্নীতিবাজ হয়ে মুখে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে খই’ ফুটিয়েছেন। কিছু রাজনৈতিক এতিম নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তুলে দিবাস্বপ্ন দেখছেন ক্ষমতায় যাবার। তবে ভোটশেষে যেভাবে ‘জামানতের’ দেখা পান না তিনি, তেমনি রাষ্ট্রক্ষমতার দেখা পাওয়াও জনবিচ্ছিন্ন কামালের জন্য একেবারেই অসম্ভব। তবে তার কর ফাঁকি ও আইন লঙ্ঘনের প্রমাণের দেখা ঠিকই পেয়েছে দুদক ও এনবিআর। তাই এ যাত্রায় হয়তো আর শেষরক্ষা হচ্ছেনা রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় নামা কামালের।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে বেশ জোরালোভাবেই। অভিযোগ রয়েছে কামালের স্ত্রী হামিদা হোসেনের নামে সরকারের কাছ থেকে লিজ নেওয়া প্লটের ওপর নির্মিত বাড়ি শর্ত ভেঙে ভাড়া দিয়েছেন তার দুই মেয়ে। বিষয়টি তদন্ত করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কামাল হোসেনের সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কর ফাঁকির অভিযোগটি অস্বীকার করে জানান, তার নামে এমন কোনো ব্যাংক হিসাব নেই যেটি তিনি কর বিবরণীতে প্রদর্শন করেননি। যে অ্যাকাউন্টের কথা বলা হচ্ছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
লিজ নেওয়া সরকারি জমির প্লট ভাড়া দেওয়া প্রসঙ্গে কামাল বলেন, ‘প্লটটি বহুদিন ধরেই ভাড়া দেওয়া রয়েছে। এটি বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই…নতুন কোনো বিষয় নয়।’ রাজনৈতিক কারণে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনারা ভালো জানেন। আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

সূত্র জানায়, কামাল হোসেন সার্কেল ১৬৪, ঢাকা কর অঞ্চল ৮-এর একজন করদাতা। বিভিন্ন করবর্ষে তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় দুটি, সিটি সেন্টারে দুটি, যার একটি ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট এবং আইএফআইসি ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্টসহ মোট পাঁচটি অ্যাকাউন্টে জমা টাকার ওপর কর পরিশোধ করেছেন।
তবে কর গোয়েন্দারা এই আইনজীবীর নামে এমন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পান যেটিতে জমাকৃত টাকার ওপর তিনি কোনো কর পরিশোধ করেননি। এমন কি ওই অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে এনবিআরে কোনো তথ্যও দেননি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় ‘ কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’ নামে করা, যার নং-০১-১৮২৫৪৪৫-০৩। এখানে তার পেশাগত ফি জমা হলেও আয়কর রিটার্নে এই আয় দেখানো হয়নি।
২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা জমা হয়। শুধুমাত্র গত অর্থবছরে সেখানে প্রায় ১১ কোটি ১২ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং বছর শেষে নগদ স্থিতি ছিল ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা প্রায়। অভিযোগ উঠেছে এই বিপুল পরিমাণ আয় তার পেশাগত ফি, যা আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করেননি এবং সেই ব্যাংক হিসাবটিও তিনি গোপন করেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অপ্রদর্শিত ব্যাংক হিসাব থেকে প্রাপ্ত ব্যাংক স্থিতি ড.কামাল হোসেনের সম্পদ ও দায় বিবরণী হিসেবে বিবেচিত হবে; কিন্তু তিনি সেটি তার কর বিবরণীতে প্রদর্শন করেননি। ওই সম্পদ গোপন করে কর ফাঁকির দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ড. কামালের কর ফাঁকির অভিযোগটির বিষয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে দুদক। গত ১৯ নভেম্বর এই আইনজীবীর আয়কর রিটার্নের বিষয়ে জানতে এনবিআর-এ চিঠি পাঠিয়েছে ওই কমিশন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *