Sharing is caring!

imagesশিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরবাসির মধ্যে চরমভাবে কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে। পৌর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে শত শত বেওয়ারিশ কুকুর। এসব বেওয়ারিশ কুকুর প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় প্রবেশ করে গরু-ছাগল এমনকি মানুষকে কামড়াচ্ছে। কুকুরের তান্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পৌরবাসি। শিবগঞ্জ পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে মাসে প্রায় ১০/১৫ টি গরু-ছাগল ও মানুষকে কামড়েছে। এ হিসাবে মাসে পৌর এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা শতাধীক। চকদৌলতপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম এক সপ্তাহ আগে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে বর্তমানে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। প্রতিদিন চিকিৎসার ৫২০ টাকা করে খরচ করতে হচ্ছে তাকে। সেলিমাবাদ-দেওয়ানজাইঙ্গীর গ্রামের ষাট বছরের বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম, দেবীনগর গ্রামের এক শিশু ও এর আগে শিবগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আশিকুর রহমানের বাড়ির কাজের মেয়েকে কামড় দিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এ ব্যাপারে পৌর নাগরিক ও সাংবাদিক আহসান হাবিব জানায়, পৌর এলাকা দিনদিন কুকুরের অত্যাচার বেড়ে চলেছে। ৭ বছর আগে একবার কুকুর নিধন করা হলেও পরে আর কোন নিধন না হওয়ায় গরু-ছাগলের মতো কুকুরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কুকুরের অত্যাচারে গরু-ছাগল তো দূরের কথা সাধারণ মানুষও রক্ষা পাচ্ছেনা। মনে হচ্ছে গরু-ছাগল ও মানুষের চেয়ে কুকুরের দাম বেশি। কুকুর থেকে আমাদের রক্ষা করার কেউ নেই। কুকুরের কারণে ছোট ছোট বাচ্চারাও স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। কুকুরের ভয়ে অনেক অভিভাবক তাদের বাচ্চাদের স্কুলে যেতে দিচ্ছেনা। এছাড়া আলিডাঙ্গা এলাকা রফিকুল, আবদুস সালাম, করিম, সফিক, চকদৌলতপুর এলাকা মিলন, শান্ত, নুরুল, মোহাম্মদ আলি, জসিমসহ অনেকেই বলেন একই কথা। আদালতের নিষেদাঙ্গা থাকলেও জন¯^ার্থে কুকুর নিধন অব্যাহত রাখতে হবে। আর তা যদি না হয় তবে ঝুঝতে হবে মানুষ, গরু-ছাগলের চেয়ে কুকুরেরই দাম বেশী। কয়েকজন পৌর নাগরিক নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, গত কয়েকদিন আগে রহনপুর পৌরসভায় ৫ দিন, নাচোল পৌরসভায় ৩ দিন ও সদর পৌরসভায় ১১ দিন কুকুর নিধন অভিযান চালানো হলে সেখানকার পৌর নাগরিকরা পৌর প্রশাসনকে সাধূবাদ জানান। কেউ কোন প্রশ্ন তোলেননি। আর শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় কুকুর নিধন করলেই সমস্যা হয়? আমাদের প্রশ্ন গরু-ছাগল ও মানুষের চেয়ে কি কুকুরের মূল্য বেশি ? এব্যাপারে শিবগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষতি ১ আসনের কাউন্সিল মোসাঃ মঞ্জিলা বেগম জানান, গত দেড় মাসে শুধু আমার এলাকায় শতাধিক গরু-ছাগল ও মানুষ কুকুরের আক্রমনের শিকার হয়েছে। কুকুরে অত্যাচারের সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষতিগ্রস্থ, রয়েছে আতঙ্ক। ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঈন উদ্দিন, ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জুম্মন আলী, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজিউজ্জামান বাবু ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম বাবুসহ অনেকে জানান, নির্বাচনের আগে সাধারণ ভোটাররা আমাদের কাছে প্রথম দাবি করেছিলো কুকুরের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। প্রকৃত অবস্থার আলোকে এবং পৌর নাগরিকদের দাবি পূরণের জন্য সোমবার মাত্র কয়েকটি কুকুর নিধন করা হয় অভিঙ্গদের দিয়ে। কুকুর নিধন করার জন্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে কি নাই তা আমাদের জানা নেই। অসমর্থিত সূত্র থেকে কুকুর নিধনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার খবর পেয়ে আমরা নিধন করা বন্ধ করে দিয়েছি। শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কারিবুল হক রাজিন বলেন, পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে চলেছে। কুকুরের অত্যাচারের জন্য আমাদের কাছে অভিযোগ আসে অজস্র। কুকুর হাত থেকে রক্ষা ও নিধনের জন্য দাবি করেন পৌরবাসি। তাদের দাবি পূরণের জন্য সোমবার শিবগঞ্জ পৌর এলাকার কয়েকটি এলাকায় পাগলা কুকুর নিধনের জন্য অভিযান চালানো হয়। তবে, কুকুর নিধনের জন্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে তা আমাদের জানা নেই। আদালতের নিষেধাজ্ঞা শুনার পর আমরা কুকুর নিধন করা বন্ধ করে দিয়েছি। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা আইনজীবি সাথে যোগাযোগ করছি এবং আলাপ করছি কুকুর নিধন করা যাবে কি না এ প্রসঙ্গে। এছাড়া শিবগঞ্জ পৌরসভা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল বাতেন জানান, কুকুর নিধনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আমাদের কারও জানা ছিলনা। কুকুর নিধনে মহামান্য আদালতে নিষেধাঙ্গার বিষয়টি সত্যতা যাচাই-বাছাই ও আইনজীবির সাথে কথা বলে পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং একদিন পরই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তনেয়া হয়েছে বলে জানান মেয়র রাজিন। এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: সুব্রত কুমার সরকার জানান, কুকুর যদি কোন প্রাণি বা মানুষকে কাঁমড় দেয় তবে সাধারণত বাঁচেনা। তবে, আক্রান্ত ব্যাক্তি, গরু-ছাগলের সাথে সাথে চিকিৎসা দিলে কিছুটা আশঙ্কা কাটে। কিন্তু কুকুর কাঁমড়ালে তাৎক্ষনিক ভ্যাকসিন ইনজেকশন দিতে হবে। তিনি আরো জানান, একটি কুকুর সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছর বাঁচে। এর মধ্যে অনেক কুকুর র‌্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। আর র‌্যাবিস আক্রান্ত কুকুর কাউকে কামড়ালে না বাঁচার সম্ভবনাই বেশি। কুকুর নিধনে আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষযটি তার জানা নেই বলে জানান। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, কুকুর নিধনে আদালতে নিষেধাঙ্গার রয়েছে কিনা তা তার জানা নেই। তিনি আরো জানান, কুকুর র‌্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এন্ট্রি রেভিস ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা থাকলেও গত এক বছরে আক্রান্ত কুকুরকে দেয়া হয়েছে এমন তথ্য একটিও নেই।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *