Sharing is caring!

কেবল ঋণখেলাপির দায়ে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের

২৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, লজ্জিত নেতারা!

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির অন্তত ২৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৩ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থী তালিকা থেকে কেবল ঋণ খেলাপির দায়ে তাদের বাদ দিয়েছেন।বিষয়টি শুনতে সহজ হলেও এসব তথাকথিত ‘নেতা’ নামের ঋণখেলাপি ব্যক্তিরা দেশ ও দশের চোখে ঘৃণিত অপরাধী। তারা দেশ ও দশের শত্রু বলেও মত প্রকাশ করেছেন অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) থেকে পাঠানো তালিকার তথ্য অনুযায়ী ঋণখেলাপি হওয়ার জন্য, ঢাকা-৪ আসনে বিকল্পধারার কবির হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মালেক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম; ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির সেলিম ভূঁইয়া, ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির নাসিরউদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপির দায়ে।

এদিকে একই অভিযোগে বাদ পড়েছেন, ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-১০ আসনে গণফোরামের খন্দকার ফরিদুল আলম; ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক ও ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির সুলতানা আহমেদ। এছাড়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-কাট্টলী) আসনে আসলাম চৌধুরীর, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে সামির কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে এম মোর্শেদ খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকীর, টাঙ্গাইল-১ (ধনবাড়ী-মধুপুর) আসনে বিএনপির ফকির মাহাবুব আনাম স্বপন ও টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে বিএনপির নুর মোহাম্মদ খান, বগুড়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপু সুলতান, বগুড়া-৫ আসনে বিকল্পধারার মাহাবুব আলী, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির শাহজাহান খান, ভোলা-১ আসনে বিএনপির গোলাম নবী আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হবিগঞ্জ-১ আসনে গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়ার, শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপির হযরত আলী, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপির আব্দুল খালেক, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মেজর (অব.) আকতারুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপির আখতার হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপির কাজী নাজমুল হোসেন, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিএনপির আবুল বাশার আকন্দ প্রার্থিতা থেকে বাদ পড়েন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, সাধারণ দৃষ্টিতে ‘ঋণখেলাপি’ শব্দটি সহজ মনে হলেও যারা এমন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা দেশের শত্রু। কেননা, যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেননি তারা আসলে জনগণের কষ্টে উপার্জিত টাকা গায়েব করে নিজেরা অর্থের পাহাড় গড়েছেন। তারা রাষ্ট্রে ও জনগণের চোখে প্রথম সারির অপরাধী।

এমন বাস্তবতায় ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়া দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, ঋণখেলাপির দায়ে যেসব নেতারা বাদ পড়েছেন তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব ছিলো। ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় আমরা নিজেরাও লজ্জিত।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *