Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ আবু তালেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ছোট-হাদিনগর কামাটোলা গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলী ছেলে। তাদের ছিলনা কোন দালান কোঠা, ছিলনা তেমন জায়গা-জমি। পরের বাড়িতে কাজ করে, শ্রমিক হিসাবে মুজুরি খেটে, কখনও বরই গাছের লাহা কেটে, আবার কখনও চুরি-ডাকাতি করে দিনযাপন করতো এই তালেব। শুধু তালেব নয়, তার ভাই মান্টুও একই কাজ করতো। এছাড়াও স্কুল জীবনে ছাত্র হিসাবেও মোটেই ভালো ছিলনা তালেব। তবে, সে বর্তমানের শিবগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কোটিপতি বটে। কিন্তু তাঁর এই কোটিপতি হওয়ার পিছনে কি রহস্য রয়েছে তা অনেকেরই অজানা। এদিকে, জামায়াতের মদদদাতা, একাধিক অপরাধীর চক্রের মূল হোতা ও বিএনপি নেতা আবু তালেবের জিরো থেকে হিরো হওয়ার রহস্য অনেকটাই উদঘাটিত হয়েছে। আবু তালেব বাল্যকালে অর্থাৎ স্বাধীনতার পূর্বে শ্যামপুর ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে মরহুম আলহাজ কশিমুদ্দিনের বাড়িতে চাকর হিসাবে থাকতো। পাশাপাশি কশিমুদ্দীন হাজির বাড়ির গরু-ছাগল চরানো, দেখাশোনা ও কশিমুদ্দিনের ছেলেদের গালামালের (লাক্ষা) ব্যবসায় সহযোগি হিসাবে শুধু দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা বহন করতো। অন্যের বাড়িতে কামলা খাটতে খাটতে কিছুদিনের মধ্যেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান এই আবু তালেব। সে শুধু শিবগঞ্জ উপজেলার নয় জেলার শ্রেষ্ঠ ধনিদের মধ্যে একজন। সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে,  আবু তালেবের জিরো থেকে হিরো হওয়ার পিছনে বের  হয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। আবু তালেবের নিজস্ব এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কয়েকজন মুরব্বীরা জানান, আবু তালেব স্বাধীনতার পূর্বে শ্যামপুর ইউনিয়নের বাবুপুর  গ্রামে মরহুম আলহাজ কশিমুদ্দিনের বাড়িতে চাকর হিসাবে থাকতো। এক সময় সে কশিমুদ্দিনের ছেলেদের গালামালের ব্যবসায় সহযোগি হিসাবে শুধু দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা বহন করতো। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার পিতা মৃত সাজ্জাদ আলী শান্তি কমিটির সদস্য হিসাবে পাক-বাহিনীর সাথে এলাকার নির্দেশক হিসেবে থেকে স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনের উপর নির্যাতন চালানোর সময় আবু তালেব তার পিতার সাথে সহযোগী হিসাবে কাজ করতো। এসময় দেশীয় লোকজনের বাড়িতে লুটপাটকৃত ধনসম্পদ পিতার নির্দেশে আবু তালেব নিজ বাড়িতে লুকিয়ে রাখতো। স্বাধীনতার পর আবু তালেব বড় বড় আম ব্যবসায়ীর সহযোগী হিসাবে কাজ করতো। এক সময় তিনি চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং একবার হিরোইনসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী নেতার আত্মীয়ের তদবিরের মাধ্যমে ছাড় পেয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি জড়িয়ে পড়েন সবধরনের চোরাচালানের সাথে। একদিকে চোরাচালান  ও অন্যদিকে আমের ব্যবসা। আমের ট্রাকে পাচার করতে থাকে কোটি কোটি টাকা মদ, হিরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল অস্ত্র। নিজের ব্যবসাকে সচ্ছল রাখতে তিনি সুনির্দিষ্ট কোন দল করেন না। যখন যে দল ¶মতায় আসে, তখন সে দলের বড় বড় নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন এবং তাদের মাধ্যমে সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে থাকেন। দিন-মজুর থেকে কিভাবে শ্রেষ্ঠ ধনি ও কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হলেন তা জানতে চাইলে বড় হাদিনগর গ্রামের মোহাঃ আবু বাক্কার সিদ্দীক ঘোষ বলেন, আজকে এলাকার শীর্ষ ক্ষমতাবানই বলেন, আর টাকা ওয়ালায় বলেন, সেই হচ্ছে আবু তালেব। আর টাকার কারণেই সে এলাকার কোন মানুষকে মানুষ মনে করে না। তালেব ও তার ভাইয়েরা এক সময় আমার সাথে দিন মজুরের কাজ করেছে। এছাড়া আমাদের বাবপুর গ্রামের মৃত কশিমুদ্দীন হাজির বাড়িতে গরু চরানো ও সেই গরুর মল (গোবর) মাথায় করে ফেলে আসতো বাড়ির বাইরে। কিছুদিন কাজ করার পর আমার সাথে মাঠে গিয়ে গাছের আঠা উঠিয়ে বাজারে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতো। এখন সে এই কথাগুলো ভুলে গেছে। কারণ, সে বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা করে ও ভারতের লোকের টাকা আত্মসাৎ করে অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে। আর সেই কারণে তালেব এলাকার কোন মানুষকে আর মানুষ মনে করে  না।  এলাকার কারো সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হলেই তাকে কিভাবে শায়েস্তা করা যাবে, সেই ষড়যন্ত্র ও তাঁর বাহিনী দিয়ে হামলা এবং লুটপাট চালায় সে। হয় তাকে তার লোকজন দিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিবে না হয় তার নামে চার/পাঁচটি মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে ছাড়বে। যার ফলে এলাকার কেউ প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়না। তিনি আরো বলেন, আমি আপনাদের সাথে কথা বলছি, এটা যদি তালেব বা তার লোকজন জানতে পারে তাহলে হয়তো আমাকে ও মেরে ফেলার চেষ্টা করতে পারে। তার এখন অনেক টাকা, অনেক লোকজন, এমনকি পুলিশও নাকি তার। সে যেটা বলবে, পুলিশ সেটায় শুনবে। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনামসজিদের জনৈক ব্যবসায়ী বলেন, আবু তালেব সবচেয়ে বেশী সুবিধা ভোগ করেছেন বিএনপি শাসন আমল ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। এসময় বিএনপির মাধ্যমে তিনি সোনামসজিদ স্থলবন্দরে এলসির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। অবৈধভাবে উপার্জন করেন কোটি-কোটি টাকা। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলেন এবং গোপনে অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা করতে থাকেন। না প্রকাশ না করার শর্তে শ্যামপুর ইউনিয়ন শাখা যুবলীগের এক নেতা বলেন, আবু তালেব কয়েক বছর আগে বিএনপির রাজনীতি করতো। সে সুবিধাবাদী নেতা হওয়ায় পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। ২০১৪ সালে গোলাম রাব্বানী এমপি মহাদয়ের বাড়ি পুড়ানো মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান মিঞা যখন গ্রেফতার হয়, তখন আবু তালেব তাঁর বাড়ি এলাকায় গরু জবাই করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের খাইয়ে শ্যামপুর ইউনিয়ন জামায়াতে যোগাদান করে। তবে সে জামায়াতের কোন পদে নাই। তিনি আরো বলেন, বিগত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে শ্যামপুর ইউনিয়নের জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থীতার নাম ঘোষণা করা করা হয় আবু তালেবের। কিন্তু তাঁর ছেলেদের অনুরোধের কারণে সে নির্বাচন থেকে সরে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের হাতে পঙ্গুত্ব বরণকারী কয়েকজন আক্ষেপের সাথে জানান, যে আবু তালেব আওয়ামীলীগ নিধনে জামায়াত বিএনপিকে মদদ দিলো, সে এখনো বহাল তবিয়তেই রয়ে গেল। এর চাইতে কি দুঃখের হতে পারে? তিনি আরো বলেন, সা¤প্রতিক কালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্যামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার জন্য  জামায়াতে যোগদান করে এবং গরু জবাই করে শ্যামপুর ইউনিয়নের জামায়াতের নেতাকর্মীদেরকে দাওয়াত খাওয়েছেন বলে এলাকার মানুষের মুখেমুখে শুনা গেছে। বর্তমানে তার নেতৃত্বে শিবগঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি মাস্তান বাহিনী কাজ করছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার গ্রাম ও পার্শবর্তী গ্রামের অনেকেই জানান। এব্যাপারে আবু তালেবের সাথে যোগাযোগকরা হলে, তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলি অস্বীকার করে বলেন, আমি গরীবের ঘরে জন্ম গ্রহণ করলেও নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতা বলে সৎ উপায়ে ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছি। আমি কোন রাজনীতি করিনা। আমি কোনদিনই কোন অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলাম না। বর্তমানেও নেই।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *