Sharing is caring!

কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও চাঁপাইনবাবগঞ্জের

এনজিও সিয়াম : সর্বশান্ত অনেক পরিবার

♦ স্টাফ রিপোর্টার

গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেসরকারী একটি সংস্থা “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন”। “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” এ রাখা টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় এলাকার অনেক নারী-পুরুষ এখন সর্বশান্ত। টাকার দুঃশ্চিন্তায় এখন অনেকের পথে বসার জোগাড় হয়েছে বলেও মত স্থানীয়দের। বেশী লাভের আশায় “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” এ অনেক টাকা জমা স্থানীয় লোকজন রাখার কারণেই অনেকটা লোভে পড়েই টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” এর পরিচালক মাসুদ রানা বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, ২০০৭ সালে “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” নামে একটি বেসরকারী এনজিও অফিস করে কাজ শুরু করে মাসুদ রানা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর, সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের লক্ষিপুর, লাহারপুর, মহারাজপুর, নাচোলের বেশ কিছু স্থানের লোকজনকে বেশী লাভে টাকা রাখার একটি প্রতারণার জাল তৈরী করে “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” এর পরিচালক মাসুদ রানা। সাধারণ ব্যাংকের চেয়ে কয়েকগুন বেশী লাভ পাওয়ার কথা ভেবে সাধারণ মানুষও তার কথায় সাঁই দিয়ে তার “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” এর লক্ষ লক্ষ টাকা জমা রাখে। প্রতরণা পাকাপোক্ত করতে নতুন নতুন গ্রাহকদের মাস পেরিয়ে গেলেই সময়মত লাভের টাকা পৌছে দিতো প্রতারক মাসুদ। প্রতারক মাসুদ রানার কথার জাদুতে ভুলে অনেকেই চাকুরী থেকে অবসরে যাওয়া টাকাও মাসুদের এনজিও “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” এ রাখতে কোন সন্দেহ করেনি কোনভাবে। অনেক পরিবার নিজের জমানো পুরো টাকাটাই বিশ্বাস করে জমা রেখেছিলো পরিচালক মাসুদ রানা “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” এ। কিন্তু দিনে দিনে সে টাকার পরিমান বেড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ কোটি টাকা হবে বলে বিভিন্ন স্থানের সুত্রে জানা গেছে। সেই জমানো কোটি কোটি টাকা গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করেন স্ব-পরিবারের বিদেশে পাড়ি দেয় কয়েকদিন আগে। বিষয়টি জানাজানি হয় শনিবার বিভিন্ন স্থানে মাসুদ লাভের টাকা না দিতে আসায়। খবর নিতে গিয়ে টাকা জমা দেয়া গ্রাহকরা জানতে পারে মাসুদ পালিয়েছে। মুহুর্তের মধ্যেই চারিদিকে ছাড়িয়ে মাসুদের পালানোর বিষয়টি। অনেক গ্রাহকই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পাগলপ্রায় হয়ে প্রলাপ বকতে শুরু করে। বর্তমানে “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” এর সকল অফিসেই তালা ঝুলছে। পরিবার নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে ফাউন্ডেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” এর প্রধান অফিসে ধর্ণা দিচ্ছে গ্রাহকরা। সরেজমিনে সিয়ামের অফিসগুলোতে গিয়ে জানা যায়, শতাধিক গ্রাহক তাদের জমা দেয়া টাকা নেয়ার জন্য ভীড় জমিয়েছে। স্থানীয় আকবর আলী জানান, সিয়ামের কর্মী বাড়ি গিয়ে তার এক বোনের কাছ থেকে প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা করে লাভ দেবার কথা বলে প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরে আরও ২ লাখ টাকা জমা দিয়ে মোট ৩ লাখ টাকা জমা দেয়। শনিবার সে টাকার লভ্যাংশ দেবার কথা ছিল। কিন্তু লাভের টাকা দিতে না আসায় খোজ হয় মাসুদের। এভাবেই বারঘরিয়ায় হাজার হাজার মানুষ আজ পথে বসে বসার উপক্রম হয়েছে। লক্ষিপুর গ্রামের মো. আজম আলী জানান, লক্ষিপুরসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার যেসব মানুষ মাসুদ রানার কাছে প্রতারণার শিকার হয়ে তার অফিস ও বাড়িতে ভীড় জমাচ্ছে, সেসব মানুষের হাহাকারে বাতাস ভারী হয়ে আসছে। এক একজন বৃদ্ধ মানুষের কান্না ও গড়াগড়ি দেখে স্থানীয় মানুষ হতবাক। এসব মানুষদের শান্তনা দেয়ারও কোন কর্মকর্তা নেই। সাধারণ মানুষ শুধু আফসোষ করা ছাড়া আর কোন কথা বলতে পারছেন না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিয়াউর রহমান পিপিএম জানান, “সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশন” এর ম্যানেজার শুক্রবার থানায় তাদের পরিচালকের নিখোঁজের অভিযোগ জমা দিয়েছে। তদন্ত করার পরই সকল ঘটনার বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। তবে খোজ নিয়ে জানা গেছে, সিয়ামের লোকজন অফিস বন্ধ করে সকলে পালিয়ে গেছে। স্থানীয় যারা সিয়ামে কাজ করত তারাও পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। বর্তমানে সিয়ামের প্রতিটি ইউনিট কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। বারঘরিয়া ইউনিয়দ পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল খায়ের জানান, সিয়ামের পরিচালক মাসুদ রানা বর্তমানে বিদেশে পালিয়ে গেছে এমটাই শোনা যাচ্ছে। তারা গ্রাহকের প্রায় ৫০কোটি টাকারও বেশী টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। এলাকার অসহায় গরীব মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে এই প্রতারণার বিষয়টি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের নেতৃস্থানীয়দের। এ ব্যাপারে সিয়াম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. মাসুদ রানার সাথে মুঠোফোনে (০১৭৪৪-১১০০২০) নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *