Sharing is caring!

কোয়েল পাখির খামারে স্বাবলম্বী

ভোলাহাটের রজব আলী

♦ ভোলাহাট প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলা ইমাম গ্রামের মানোয়ার হোসেনের ছেলে রজব আলী (৩২) কোয়েল পাখির খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তবে টাকার অভাবে খামার চালাতে হিমসীম খাচ্ছেন তিনি। ছোট খামারীদের জন্য অত্যন্ত কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদানের দাবী রজব আলীর। অনেক কষ্টের মাঝে জীবন কাটালেও বিভিন্ন খামারে খাব একটা লাভ করতে না পেরে অবশেষে কোয়েলের খামার করেই সফল হয়েছেন তিনি। স্থানীয়রা জানায়, রজবের জন্মটা খুবই ভাল ছিল, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, ৬ বছর বয়সেই বাবা তার মাকে রেখে ২য় বিয়ে করে ছেড়ে চলে যায় অন্য এক সংসারে। শুরু হয় রজবের জীবনযুদ্ধের লড়াই। জীবনের কিছু বুঝে উঠার আগেই কাঁধে চেপে বসে সংসারের দায়িত্ব। কষ্টের মধ্যেও ৮ম শ্রেনী পাশ করে রজব। মা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ট্রলি চালিয়ে সংসার চালাতে থাকেন, অভাবের সংসার চলে অনেক কষ্টে। ২০১৬ সালে যুব উন্নয়ন থেকে পোল্ট্রি ও প্রাণী বিভাগে ট্রেনিং নিয়ে গরু মোটা-তাজা করনের সিদ্ধান্ত নেয়। উপায়ান্তর না পেয়ে গরু ও পাওয়ার টিলার বিক্রি করে ৩ বছর আগে ১ লাখ ৮০হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে নিজ বাড়ীর সামনে কোয়েল পাখির খামার। ঘরসহ খরচ হয় ২ লাখ ২০হাজার টাকা। প্রথমে ২ হাজার ৫০০ কোয়েল পাখি দিয়ে শুরু করেন খামার। কোয়েল খামার করে সফল হয়েছে এলাকার রজব আলী। তার এই সফলতায় এলাকার আরও বেকার যুবকরা এগিয়ে আসছে কোয়েল পাখির খামার গড়তে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কোয়েল খামারী রজব আলী জানায়, কোয়েল পাখির খামার করবো বলে নিজে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোয়েল পাখির খামার দেখতে গিয়ে ১৯ হাজার টাকা ব্যয় করেছি। আর্থিক অভাবের কারণে কোয়েল পাখির খামার করার ইচ্ছা থাকা সত্বেও খামার করতে পারছিলাম না। গরু ও পাওয়ার টিলার বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করি নিজ বাড়ীর সামনে কোয়েল পাখির খামার। ৩ বছর আগে ঘরসহ কোয়েলের খামার তৈরীতে খরচ হয় ২লাখ ২০হাজার টাকা। খামারে প্রথমে ২৫০০ কোয়েল পাখি নিয়ে আসি। বর্তমানেও রয়েছে ২৫০০ কোয়েল পাখি। ৩/৪ মাস মেয়াদে খামারে কোয়েল রাখি। প্রতিদিন কোয়েলের ডিম পায় ২ হাজারের বেশি। ১টা ডিম বিক্রি হয় ২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। খামারের পাখি খাবারসহ অন্যান্য খরচ শেষে মাসে এখন আয় ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু এতো টাকা আয় করেও টাকার টানাটানি মেটেনো। বাড়িতে ক্যান্সারে আক্রান্ত অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হয়না। বর্তমানে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে খামার চালাচ্ছি। রজবের দাবি করে বলেন, সরকারীভাবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়া হয়, তাহলে আমার খামারের আরও প্রসার ঘটাতে পারবো এবং খামারে এলাকার অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *