Sharing is caring!

খুলনা-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী পেলো ধানের

শীষ, ক্ষোভে দলত্যাগ করলেন বঞ্চিত

বিএনপি নেতা

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আসন বণ্টন নিয়ে দলীয় কোন্দলে জড়িয়ে দলত্যাগকারী নেতাদের কাতার লম্বা হচ্ছে বিএনপির। এবার খুলনা-৬ আসনে ত্যাগী ,পরীক্ষিত নেতা ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল ইসলাম মনাকে কথা দিয়ে মনোনয়ন না দেয়ায় রাগে-ক্ষোভে দলত্যাগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হকের বরাতে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ক্ষোভের সঙ্গে গাজী আব্দুল হক বলেন, খুলনা-৬ আসনটি মূলত কয়রা-পাইকগাছা থানা নিয়ে গঠিত। এই আসনটি বিএনপির ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৪ সালে কৌশলগত কারণে নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপি এই আসনটি হারায়। আমরা সবাই জানতাম, আসনটি উদ্ধার করার জন্য পরীক্ষিত নেতা শফিকুল ইসলাম মনাকে মনোনয়ন দিবে বিএনপি। সেই লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র খরিদ করেছিলেন মনা। মোটামুটি গণসংযোগও শুরু করেছিলেন মনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হলে বিএনপির সমর্থকদের। জানতে পেরেছি, মনাকে বাদ দিয়ে খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। বিষয়টি মনা ও বিএনপি কর্মীদের জন্য অপমানজনক। ঘটনাটি শোনার পর থেকে মুখ দেখাতে পারছি না আমরা। তাই দলের উপর রাগ করে সোমবার প্রেস কনফারেন্স করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মনা। শুধু এতটুকুই বলতে চাই, আবুল কালাম আজাদকে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি জেনে শুনে আসনটি হাতছাড়া করলো। আমরাও দলত্যাগ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। গাছ লাগাবে একজন, আর ফল খাবে আরেকজন সেটি মেনে নেয়া যায় না।

এ প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম মনা বলেন, বিগত দিনে সংসদ ও খুলনা সিটি নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আমি আশাবাদী ছিলাম এবার আমাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। এই অপমান মেনে নেয়া যায় না। গত পাঁচ বছর ধরে বিএনপির হয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জেল-জুলুম সহ্য করেছি। আমাকে সিগন্যাল দেয়া হয়েছিলো যে খুলনা-৬ আসনে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। সেই মোতাবেক আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। শুনতে খারাপ লাগলেও এটি সত্য যে, এই অভাবের সময় আমি দলকে অনেকগুলো টাকা দিয়েছিলাম। নির্বাচনী ফান্ড গঠনের নামে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন রিজভী আহমেদ। আমার ভয় ছিল টাকাটা দেয়ার সময়। কিন্তু রিজভী আহমেদের কনফিডেন্স দেখে আমি টাকা পরিশোধ করি। জামায়াত যে গুপ্ত ঘাতক সেটি আমি টের পেলাম। আবুল কালাম আজাদ অনেকগুলো টাকা দিয়ে এই মনোনয়ন কিনেছেন বলে শুনেছি। জামায়াতকে বিশ্বাস করে বিএনপি চরম ভুল করছে। এর কঠিন পরিণাম ভোগ করতে হবে বিএনপিকে। বিএনপি আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাই আমি আজ প্রেস ব্রিফিং করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিকে ত্যাগ করেছি। বেইমানদের দল করার চেয়ে আইন পেশায় মনোনিবেশ করলে অনেক বেশি লাভবান হতাম।

বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি দাবি করে খুলনা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, শুনেছি মনা সাহেব বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বিএনপি ছেড়ে ভুল করলেন। মনোনয়ন দেয়া কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত। এখানে আমি বা মনা সিদ্ধান্ত নেয়ার কিছু না। মনোনয়ন দেয়ার জন্য এক টাকাও দেইনি। বিষয়টি মিথ্যাচার ছাড়া কিছু না।

এদিকে এই আসনে বিএনপির প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে জামায়াতকে বেছে নেয়ায় হতাশ হয়েছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। সুযোগ সন্ধানী জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদকে মনোনয়ন দেয়ায় এই আসনটি বিএনপি হারাতে পারে বলে মনে করছেন তারা ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *