Sharing is caring!

গত ১০ বছরে অর্থনীতিতে দক্ষতার

স্বাক্ষর রেখেছেন শেখ হাসিনা

সরকার হলে চোঁখের পলকেই সমস্যার সমাধান করে ফেলা যাবে ভাবাটা অবান্তর। উন্নয়নের সুফল পেতে সরকারকে ধারাবাহিকতার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে গত ১০ বছরে শেখ হাসিনা সরকার চেষ্টা করেছে, কখনও পেরেছে, কখনো পারেনি। তবে গত দশ বছর শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিক মেয়াদের জন্য উন্নয়নও দৃশ্যমান। তলাবিহীন ঝুঁড়ি থেকে দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। যার চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।

স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সরকার একটানা দশ বছর ক্ষমতায় থেকেছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুর্নীতিতে পর্যদুস্ত বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপিকে বিপুল আসনের ব্যবধানে পরাজিত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনেও জয় পেয়ে পুনঃরায় সরকার গঠন করে আ.লীগ। শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বের এই ১০ বছরে সরকারি খাতায় অর্থনীতির বেশকিছু সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও রফতানি বেড়েছে, রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে, বৈধ পথে রেমিটেন্স আসার হার বেড়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে, কৃষি, শিল্প বা সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। বিচক্ষণ শেখ হাসিনা উন্নত বিশ্বে দেশের সক্ষমতা প্রমাণে মহাকাশে পাঠিয়েছেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসে তখন মোট দেশীয় উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ শতাংশ। শেখ হাসিনার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার পেরিয়ে যায় ৭ শতাংশের ঘর। এসময় জিডিপি বাড়ার পেছনে বড় উপাদান হিসেবে কাজ করে পদ্মা সেতুসহ সরকারের মেগা প্রজেক্টগুলো।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ যখন শক্তিশালী থাকে তখন সেই দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভাবা হয়। নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতুর তৈরির চিন্তার আগে বিভিন্ন জায়গায় সহযোগিতা চাওয়ার সময় এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেছিল সরকার। প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার নিয়ে ২০০৯ সালের তুলনায় রিজার্ভের আকার বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় গুণ। রফতানি আয় বেড়ে যাওয়া, ব্যাংকিং বা বৈধ পথে রেমিটেন্স আসার হার বাড়ায়, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমায় রিজার্ভ দিনের পর দিন শক্তিশালী হয়েছে।

পদ্মা সেতু তৈরিতে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার পর যখন ঋণ বা সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে গেলে, তখন অনেক প্রকল্প বাদ দিয়েই সেতু তৈরির চিন্তা করে সরকার। অর্থনীতির কথা ভেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন ঋণ পাওয়ার। বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ায় এ প্রকল্পে কেউ এগিয়ে আসেনি।

শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকটা জেদের বসেই ঘোষণা দিলেন, নিজেদের টাকায় সেতু বানাবেন। এখন তা বাস্তবায়নাধীন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ বা ৩৬.৬৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অথচ ১৯৮১-৮২ সালে তা ছিল মাত্র ৭৫ দশমিক ২ কোটি ডলার। প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ বিদেশে কাজ করছেন। তারা প্রতিবছর ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৩ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন।

এছাড়া, ইনফরমাল চ্যানেলে আরও প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে। ফলে, এই ২৩ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স বৈদেশিক বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৩ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। এখন ক্যাপটিভসহ যা ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। ওই সময় বিদ্যুতের সুবিধা পেত ৪৭ ভাগ জনগণ, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ ভাগে।

সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ এসেছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। এর পরিমাণ পাঁচ হাজার ১৪৬ মেগাওয়াট। অন্যদিকে, প্রায় তিন হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে, যা ব্যয়বহুল।

পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও সরকারের উদ্যোগ আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। বর্তমানে তিন মেগাওয়াটের একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

২০০৮ সালের পর থেকে শাকসবজি ও ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে, বাংলাদেশ এখন চাল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। শাকসবজি উৎপাদনে তৃতীয়, পাট উৎপাদনে দ্বিতীয় ও কাঁচা পাট রফতানিতে প্রথম, আলু ও পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, আম উৎপাদনে সপ্তম স্থানে রয়েছে।

মূল্যস্ফীতিও সহনীয় মাত্রায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে শেখ হাসিনার মহাজোট সরকার। সরকারি অফিসগুলোর দুর্নীতি কমিয়ে আনতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনও এক লাফে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।সূত্র: বাংলা আমার

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *