Sharing is caring!

গোঁসাইবাড়ীর সেই দূর্ণীতিবাজ সুপার হাবিবুরের বালুগ্রাম মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের চেষ্টা

♦স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সেই দূর্ণীতিবাজ ও অনিয়মের হোতা, অর্থ লুটপাটকারী সুপার মো. হাবিবুর রহমান আবারও জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বালুগ্রাম আলিম মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ হওয়ার জন্য নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছেন। অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া হিসেবে আগামীকাল ১০ নভেম্বর মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলার বিভিন্নস্থানের মাদ্রাসার যোগ্য শিক্ষকগণ আবেদন করেছেন। আবেদনকৃত মোট ৭জনের মধ্যে দূর্ণীতিবাজ ও প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের রুপকার মো. হাবিবুর রহমানও রয়েছেন বলে মাদ্রাসা সুত্রে জানা গেছে। নিয়োগ বিধি মোতাবেক ডিজি প্রতিনিধি, নিয়োগ কমিটির সভাপতিসহ নিয়োগ বোর্ডের সদস্যগণ সরাসরি উপস্থিত থাকবেন বলেও সুত্রটি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সেই দূর্ণীতিবাজ ও অনিয়মের হোতা, অর্থ লুটেরা সুপার মো. হাবিবুর রহমান গোসাইবাড়ী মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রতিষ্ঠানের কোন হিসাব বুঝিয়ে না দিয়েই অন্য মাদ্রাসায় নিয়োগ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকারীরা, এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সাধারণ মানুষ। এদিকে, গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার লুট করা জমানো অর্থ দিয়ে বালুগ্রাম আলিম মাদ্রাসার সভাপতিসহ নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের ম্যানেজ করে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগও করেছেন একই প্রতিষ্ঠানের (বালুগ্রাম আলিম মাদ্রাসার) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তাঁর কথামতে, মো. হাবিবুর রহমানকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রায় ৮০ ভাগ কথা পাকাপোক্ত হয়েই গেছে। বাকি ২০ ভাগ বাকি আছে, শুধু পরীক্ষাসহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা। ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রাওয়ার জন্য অন্য একজনও চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে মো. হাবিবুর রহমান তদ্বিরে এগিয়ে আছেন। মো. হাবিবুর রহমানের নিয়োগ প্রায় চুড়ান্ত হয়েই গেছে মোটামুটি বলা যায়। প্রক্রিয়ার আগেই নিয়োগের বিষয়টি এমন নিশ্চিত হওয়ার পেছনে অবশ্য অজ্ঞাত কারনও রয়েছে। এব্যাপারে বালুগ্রাম আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এ্যাড. মো. এনামুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বালুগ্রাম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা হবে ১০ নভেম্বর। যোগ্যতা ও পরীক্ষায় মূল্যায়নের মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হবে। কোন প্রকার অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমেই বালুগ্রাম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান, সহ-সুপার আব্দুল মতিন ও সহকারী শিক্ষক মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দূর্ণীতি, স্বেচ্ছাচারীতা, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও গত ১৫ অক্টোবর দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার জমি দাতা এলাকার পোলাডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল বারির ছেলে মো. সেরাজুল ইসলাম। গোঁসাইবাড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাদ্রাসার স্থাপিত উদ্যোক্তা ও সাবেক বিদ্যোৎসাহী হাজী এসারুদ্দিনের ছেলে মো. মাহাতাবউদ্দিন এবং একই এলাকার সন্তান ও মাদ্রাসার সাবেক অভিভাবক সদস্য মৃত সোলেমান মন্ডলের ছেলে মো. গোলাম মোস্তফা। প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে নানা অনিয়ম, দূর্ণীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ লেনদেন, জমি বিক্রি, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কোন হিসাব-নিকাস না থাকা, এলাকার মানুষের মতামতের কোন মূল্য না দেয়া, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ঢাকায় অবস্থান করে প্রতিষ্ঠান চালানো, প্রতিষ্ঠানের প্রতি গুরুত্ব বা দায়িত্ব পালন না করে সভাপতির প্রতিষ্ঠানের সুপারের সকল অবৈধ কাজে সহযোগিতা করা, নিয়ম বহির্ভূতভাবে কমিটি গঠন, প্রতিষ্ঠানে কোন মিটিং এ উপস্থিত না থেকে ঢাকায় বসে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশনসহ সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর করা, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান, সহ-সুপার আব্দুল মতিন ও সহকারী শিক্ষক মজিবুর রহমান এবং পরিচালনা পর্ষদের ক’জন সদস্যকে নিয়ে নিয়োগ বানিজ্য, ৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেয়া, প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষককে হয়রানী ও নির্যাতন করে নাটক সাজিয়ে একই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে চেকের মাধ্যমে সুপারের নামে টাকা উত্তোলন, কোন অনুমোদন ছাড়াই মাসের পর মাস ছুটি কাটানো, মাদ্রাসায় সময় না দেয়া, কোন জবাবদিহিতা না থাকা, এলাকার শিক্ষানুরাগীদের অসম্মান করাসহ পাহাড় পরিমান অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতিকার চেয়ে এলাকার মানুষ স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও কোন ফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। সকল অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেদকের কাছে কোন সঠিক জবাব বা কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান। এসব অভিযোগে বিষয়টি সরজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে এসব বিষয় অস্বীকার করেন গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান। গত ২২ অক্টোবর/১৯ এসব দূর্ণীতি-অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *