Sharing is caring!

গোদাগাড়ী প্রতিনিধিঃ  কৃষি প্রধান খ্যাত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলাতে এমন কোন ফসল নেই যা উৎপাদন করেন না এখানকার চাষিরা। ধান, গম, ভুট্টা, আখ, মসুর, ছোলা, শরিষা, তিল, তিশি, রায়,অড়হইল, যব থেকে মাসকলাই আর টমেটোর রাজধানী হিসাবে খ্যাতো এখন বিশ্বব্যাপি। আর ধানের খ্যাতি সেতো প্রাচীন কথা, কিন্তু একটি ধানের মধ্যে দুটি চাল এমন জাতের ধানের আবাদ কেইবা জানে, সেই কাজটি করেই এবার আলোড়ন সৃষ্টি করল গোদাগাড়ীরই এক কৃষক। এই কৃষক হলো   উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের চোদুয়ার গাধাবাড়ী গ্রামের আসাদুল (৪০)। তার পিতার নাম আইনাল হক। এই ধান ৫ কাঠা জমিতে চাষ করেছেন তিনি। একটি ধানের মধ্যে দুটি চাল হবে এমন ধান চাষের কথা শুনে অনেকেই কৌতুহল বশতঃ ধান দেখা ও কৃষক আসাদুলের সাথে অনেকেই সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কৃষক আসাদুলের বাড়ীর সামনে রাস্তার পাশেই মাত্র ৫ কাঠা জমিতে ওই ধানের চাষ করেছেন। ধানের চারাগুলো প্রায় ৭ ফিটেরও বেশি এবং ধানের আকারও বেশ মোটা আকৃতির। কৃষক আসাদুলের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার জামাই সাদ্দাম হোসেন ঢাকায় কাজ করতে গিয়ে এই ধানের বীজ নিয়ে এসে জমিতে লাগিয়েছেন। তবে ধানের জাতের নাম বলতে পারেন নি। মাত্র ৫ কাঠা জমিতে ধান লাগানোর পর পরিচর্যায় ধানের গাছও বেশ তরতাজা ও উঁচু প্রায় ৭ ফিটের মত বড় হয়েছিলো। কিন্ত হঠাৎ করেই দুই-তিন দিন বৈরী আবহাওয়া হওয়ায় ধানের চারা মাটিতে পড়ে যায় ফলে ধানের ফলন কমে যাবে বলে জানান। আবহাওয়া খারাপ না হলে ধানের ফলন ও চারাও বেশ ভাল হতো বলে জানান। সাদ্দাম হোসেন উপজেলার কাদিপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম আলীর ছেলে। তারসাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি কৃষি কাজের সাথে যুক্ত এবার এইচএসসি পাশ করে ডিগ্রীতে ভর্তি হবো। এক বছর আগে আমি জননী কুরিয়ার সার্ভিসে চাকুরী নিয়ে ঢাকার সদর ঘাটে ছিলাম। সেখানে জানতে পারলাম যে একটি ধানের মধ্যে দুটি চাল হয়। শুধু মাত্র এই কথাটির প্রতি আকর্ষণ হয়ে আমি ধানের বীজ সংগ্রহ করি। তবে কি জাতের ধান তা বলতে পারব না। এই ধান দুইবার লাগিয়েছি কিন্তু সঠিক পরিচর্যার কারনে ধান ভাল করতে পারিনি। তবে এবার আমার শ্বশুর লাগিয়ে ভালোই করে ছিলো। হঠাৎ আবহাওয়া খারাপের কারনেই ফলন কমে গেছে। নতুন এই ধান কৃষি অধিদপÍর হতে সঠিক তদারকি ও কৃষকদের দিক নির্দেশনা দিলে এই ধানের ফলন ভাল হবে বলে মন্তব্য করেন সাদ্দাম হোসেন। এবার মাত্র ৫ কাঠা জমিতে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান। তিনি আরও জানান, এই ধানের চাল খুব সুস্বাদু। পোলাও এর চালের মত সুগন্ধি এবং খেতেও খুব সুস্বাদু। ঢাকার সদরঘাট এলাকায় পোলাও এর চালের বিকল্প হিসেবে খেয়ে থাকে। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি ধানে দুটি চাল হয় এমন ধান আবাদের কথা শুনেছি। কি ভাবে এমন ধানের আবির্ভাব ও ধানের জাতের নাম কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট হতে এমন ধান বের হয়নি বা সন্ধান পাওয়া যাই নি। এটি প্রকৃতিগত ভাবে পরাগায়ন হয়ে ধানটি হঠাৎ হয়ে গেছে। তবে ধানটি ক্রমাগত কয়েকবার চাষ করে দেখলে বোঝা যাবে এই ধানের স্থায়িত্ব কেমন হবে। তবে কৃষি বিভাগ হতে ধানটি ফলাফল কেমন হয় তা পর্যবেক্ষনে রাখবেন বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *