Sharing is caring!

সফিকুল ইসলাম, গোদাগাড়ী থেকে \ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এখন আতংকের নাম রাশেল ভাইপার (চঁন্দ্রবোরা)। সাপের কামড়ে মুত্যু হলেই জনসাধারণ মানুষ মনে করছে রাশেল ভাইপার সাপে কামড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে এ উপজেলায় সাপের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করে আগষ্টের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এ উপজেলায় সাপের কামড়ে ১৪ জন মারা গেছে। তবে এদের মধ্যে আলীপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে কাউসার (১১), পোল্লাকুড়ি পশ্চিম পাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে উকি (৪৮), সমাসপুর গ্রামের আজাদ আলীর ছেলে হাকিম, কাশিমপুরের মিজানুর রহমান, সারাংপুর গ্রামের বেলাল উদ্দিনের স্ত্রী সরজেমা বেগম, দ্বিগ্রামের ফজলুল রহমানের ছেলে মিজান ও বাউড়িপাড়া গ্রামের বিষুসহ কয়েক জন গোদাগাড়ী মেডিকেল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় নিশ্চিত হওয়া গেছে রাসেল ভাইপারের কামড়ে মারা গেছে তারা। তাই সাপের কামড়ে মুত্যু হলেই জনসাধারণের মনে করছে রাশেল ভাইপার সাপে কামড়িয়েছে। এ উপজেলার সাধারণ জনগনের মাঝে এক প্রকার রাশেল ভাইপার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ সাপ এতটা বিষাক্ত যে, মানুষকে কামড় দিলে এর বিষ মানুষের শরীরে দ্রুত সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে রক্ত চলাচল বন্ধ, কামড়ানো স্থান ফুলে যাওয়া এমনকি দ্রুত কিডনি আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যায়। এই উপজেলার জনসাধারণের মাঝে বিশেষ করে উপজেলার মোহনপুর, গোগ্রাম ও দেওপাড়া ইউনিয়নে বিভিন্ন জমিতে সচারচর দেখা যাচ্ছে রাশেল ভাইপার। এতে এ এলাকার সাধারণ জনগন ও কৃষকদের মাঝে একপ্রকার ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে মাঠে কাজ করতে যেতেও ভয় পাচ্ছেন কৃষকরা। গোদাগাড়ী উপজেলার আলীপুর গ্রামের আব্দুল খালেক জনান, আমার ছেলে পটলের ক্ষেতে ঘাস কাটতে গিয়েছিল। পটল ক্ষেতে ছেলে কাউসারের পায়ে সাপে কামড়ায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। ২দিন পর তার মৃত্যু হয়। ডাক্তার জানায় তাকে রাশেল ভাইপার সাপে কামড়িয়েছে। গত ২/৩ বছর থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলায় অনেক বছর পর এ সাপের দেখা মিলে। আগে এ অঞ্চলের জনসাধারণ এ সাপকে চন্দ্রবোরা নামে জানতো। কিন্তু ২/৩ বছর থেকে এ সাপকে রাসেল ভাইপার নামে চিনছে এ অঞ্চলের জনসাধারণ। এ সাপে কামড়ালে কোন ওঝা-কবিরাজ বা কোন গ্রাম্য ডাক্তার রোগী ভালো করতে পারছেনা। কবিরাজ রাশেল ভাইপার (চঁন্দ্রবোরা) সাপের কামড়ের যে কয়েকজন রোগীর চিকিৎসা করেছে তারা সবাই মারা গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার জানাই, রাশেল ভাইপার সাপে কামড়ালে রোগীকে কোন ওঝা-কবিরাজ দ্বারা চিকিৎসা না করিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। হাসপাতালে নিতে দেরী হলে রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে বাচানো অসম্ভব হয়ে পড়ে এমনকি রোগীর মৃত্যু হতে পারে।  বিশেষজ্ঞদের ধারনা রাশেল ভাইপার সাপটি ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এই সাপটি বন্যার পানিতে ভেসে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারা আরো বলেন, রাশেল ভাইপার কামড়ের সঠিক চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব। এই সাপে কামড়ালে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া এই সাপের ভয়ে জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *