Sharing is caring!

রাত জেগে পালা করে পাহারা \ তবুও থামছেনা চুরি

গোদাগাড়ীতে গরু চুরির হিড়িক \ ৩ মাসে ৩০টি গরু চুরি

♦ গোদাগাড়ী প্রতিনিধি

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ীতে গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। গত ৩ মাসে এই উপজেলার গরু চুরি হয়েছে প্রায় ৩০টি। এ নিয়ে এলাকার মানুষ ঠিকমত ঘুমাতেও পারছেন না। জানা গেছে, রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। পুলিশের সাথে সভাও করেছেন। কিন্তু তারপরেও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ও গোগ্রাম ইউনিয়নে গরু চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। একের পর এক বাড়ি থেকে গরু চুরির ঘটনা ঘটছেই। এতে উদ্বীগ্ন গ্রামবাসী। সর্বশেষ মঙ্গলবার দিবাগত রাতেও গোগ্রাম ইউনিয়নের হরিণবিষ্কা গ্রাম থেকে ২টি গরু চুরি হয়েছে। গরুর মালিকের নাম রেজাউল ইসলাম। তিনি পেশায় একজন হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী। রাতে গরু চুরির পর সকালে রেজাউল রাজশাহীর একটি পশুহাটে গিয়েছেন। কিন্তু তার গরুর খোজ মেলেনি। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে পাশের দেওপাড়া ইউনিয়নের খারিজাগাঁতি মোল্লাপাড়া গ্রামের বজল ঘোষ নামে এক ব্যক্তির প্রায় ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বিদেশি জাতের গাভী চুরি হয়। গাভীটি গর্ভবতী ছিল। এই গাভীর বাচ্চার দাম পাওয়া যায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। রেজাউল করিম বলেন, গোয়াল ঘর বাড়ির বাইরে। রাতে ১টা পর্যন্ত জেগেই ছিলাম। তারপর ঘুমিয়েছি। সকালে দেখি-একটা বাছুর ও একটা বকনা গরু নেই। তারপর ছুটে যায় সিটিহাটে। মনে করি, হাটে চোরেরা বিক্রি করবে। কিন্তু হাটে গিয়েও গরু পাইনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে রেজাউলের বাড়িতে গরু চুরির পর পাশের নিমতলা গ্রামেও গিয়েছিল চোর। প্রায় শতাধিক মানুষ লাঠিশোটা নিয়ে চোরকে ধাওয়া করেন। তবে রাতের অন্ধকারে শেষ পর্যন্ত চোর খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলার খারিজাগাতি, মোল্লাপাড়া, নিমতলা, বিয়ানাবোনা, কানাইডাঙ্গা, নীলবোনা, ছয়ঘাঁটি, চাঁপালসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ গবাদি পশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এসব গ্রামে রয়েছে অসংখ্য গবাদিপশু। তাই চোরেরা এসব গ্রামকেই টার্গেট করে চুরি করতে নেমেছে। গরু চুরি ঠেকাতে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে গ্রামের লোকজন রাত জেগে গরু-মহিষ পাহারা দিচ্ছেন। গরু চুরি ঠেকাতে গত ১৮ জানুয়ারি খারিজাগাঁতি গ্রামেই সামবেশ হয়েছে। তাতে পুলিশ কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে গরু চুরি বন্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়। কিন্ত যে রাতে সমাবেশ হয়, সেই রাতেই উপজেলার সেখেরপাড়া গ্রামের এক বাড়িতে গরু চুরি করতে যায় দুই চোর। রাত দুইটার দিকে দুই চোর বাড়ির বাইরে গোয়াল ঘরের তালা ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এলাকার এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাবার সময় তা দেখে ফেলেন। তিনি ‘চোর’, ‘চোর’ বলে চিৎকার দিলে চোরেরা পালিয়ে যায়। সম্প্রতি এসব গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ি থেকে ৩০টি গরু চুরির খবর পাওয়া গেছে। কোনোভাবে থামছে না গরু চুরি। পুলিশের সঙ্গে সমাবেশে দেওপাড়া ইউপি সদস্য আক্তার উদ্দিন বলেছিলেন, এলাকার মানুষ দাবি করছেন, পুলিশের পোশাক পরেই গ্রামে গরু চোর ঢুকছে। এমনকি পুলিশের গাড়ি যাওয়ার পরেই চোর আসছে। রাজাবাড়িহাট এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, আমি আর আমার স্ত্রী পালা করে রাতে বাড়িতে জেগে থেকে নিজের গরু পাহারা দিচ্ছি। কয়েকটি গ্রামের মানুষও লাঠিশোটা নিয়ে পাহারা দিচ্ছে। তারপরেও গরু চুরি বন্ধ হচ্ছে না। আবার পুলিশ একজন চোরও ধরতে পারেনি, একটি গরুও উদ্ধার হয়নি। জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম বলেন, গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কেউ তো থানায় কোন মামলা করছেন না। এখন মামলা ছাড়া তো হুট করে কোনো মানুষকে ধরে আনা যায় না। মামলা হলে আটক করে রিমান্ডে নেওয়া যেত। রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, গরু চুরি থামছেই না, এটা খুব খারাপ খবর। কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায় তা খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *