Sharing is caring!

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি \ গোদাগাড়ী সদরের সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে টিপসই জালিয়াতি করে বিধবা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগি নারী গোদাগাড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পোহাপুর গ্রামের তোহমিনা বেওয়া। তাঁর বহি নং ২২০৮, ব্যাংক হিসাব নম্বর ৩৪০৬৯৪০৪। তোহমিনা  জানায়, সে গত ২৮ মার্চ ভাতা উত্তোলনের জন্য গোদাগাড়ী সোনালী ব্যাংক শাখায় গেলে, ব্যাংকের কর্তব্যরত অফিসার মাহমুদুল আলম ও সারোয়ান হোসেন তাঁর নিকট হতে ভাতাবহিতে টাকার পরিমান ১৫০০ টাকা বসিয়ে টিপসই দিয়ে নেন। পরে তাঁর হিসাব নং দেখে বলেন আপনার টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। এতে সে ¶ুদ্ধ হয়ে বলে আমার টাকা কে নিয়ে গেল? অথচ আমি ৩ বছর হতে নিয়মিত ভাতা উত্তোলন করে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ব্যাংক কর্মকর্তারা সেদিন টাকা না দিয়েই বাড়ী যেতে বললে সে বাড়ী চলে যায়। ২৯ মার্চ বুধবার সে তাঁর ছেলে রবিউল ইসলাম রবিকে নিয়ে ব্যাংকে এসে গোদাগাড়ী সোনালী ব্যাংক শাখার ম্যানেজার মো: মুনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যাংকের কর্তব্যরত অফিসার মাহমুদুল হোসেনকে ডেকে বিষয়টি জানতে চাইলে এই নামের টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে বলে জানান। একজনের টাকা কিভাবে অন্যজন নিয়ে যায়, এমন প্রশ্ন তোহমিনার ছেলে রবি জানতে চাইলে তিনি উপজেলা সমাজ সেবা অফিসকে দোষারোপ করে বলেন সেখান হতে একাধিক বই ইস্যু করে জালিয়াতি করা হয়। এটা তাদেরই দোষ। গোদাগাড়ী উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের সহকারি মো: ইকাবালে সাথে যোগাযোগ করে হলে তিনি তোহমিনার সবকিছু ফাইলপত্র দেখে বলেন তাঁর তালিকায় নাম ঠিকানা ও হিসাব নম্বর ঠিক আছে আর এখানে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। আমাদের বিধবা ভাতাভোগীদের তালিকা ব্যাংকে দেওয়া আছে। কেউ যদি বেশী ভাতা ভোগ করে তাহলে বরাদ্দকৃত টাকার সাথে বেশী উত্তোলনের হিসাব মিলবে না। পরে উপজেলা হিসাব সহকারি মো: ইকবালকে নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হোসেনের কাছে গেলে তিনি সমাজসেবা অফিসের জালিয়াতির প্রমাণ দিতে পারেননি। তাঁর ব্যাংক হতেই টাকা জালিয়াতি করে তোহমিনা নামের অন্য কেউ গত ২২ মার্চ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে বলে জানান। এছাড়াও ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হোসেন বলেন, আরেক জন ব্যাংক কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন দায়িত্বে আছেন তিনি আজ ব্যাংকে আসেন নি, বৃহস্পতিবার ব্যাংকে আসেন বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্যাংক কর্মকর্তা মো: মাহমুদুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেন এখানে অনেক লোককে টাকা দিতে হয়, এতো নিয়ম কানুন দেখে টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। গোদাগাড়ী সোনালী ব্যাংক শাখার ম্যানেজার মো: মুনিরুজ্জামান বলেন আমি বিষয়টি দেখছি, বৃহস্পতিবার ভাতাভোগী তোহমিনাকে আবারও ব্যাংকে ডাকা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *