Sharing is caring!

গোদাগাড়ীতে নেশাখোর ছেলের হাতুড়ী

পেটায় মায়ের মৃত্যু : আটক খুনি

♦ গোদাগাড়ী প্রতিনিধি

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী পৌরসভায নেশাখোর মাতাল ছেলে পুত্রের হাতুড়ীর আঘাতে মৃত্যু হয়েছে এক মায়ের। রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় গোদাগাড়ী পৌরসভার আরিজপুর মহল্লায় মর্মান্তীক এ ঘটনা ঘটে। নেশার টাকা না দেয়ায় গোদাগাড়ী পৌর এলাকার আব্দুস সালেক নামের এক পাষন্ড যুবক তার মাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। নিহত সেলিনা বেগম (৫০) ঐ মহল্লার মো. শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে আবদুস সালেক (৩২) পলাতক ছিল। সোমবার সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর থানা এলাকা থেকে খুনি সালেক আহমেদ কে আটক করে পুলিশ। এলাকাবাসী জানায়, উচ্চ শিক্ষিত সালেক দীর্ঘদিন ধরেই মাদক সেবন করে। গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। ওসি জানান, রাতে বাড়িতে সালেক ও তার মা সেলিনা বেগম ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তখন নেশা করার জন্য সালেক তার মায়ের কাছে টাকা চাইলে তার মা টাকা দিতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সালেক তার মায়ের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সালেকের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলেই কেবলমাত্র সম্ভব এমন ঘটনার পুনরাবৃতি না ঘটার। শিক্ষা মানুষকে সভ্য করে, অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়। ছেলে মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে মা বাবার সেবা করবে, দেশের সেবায় নিয়োজিত থেকে বাবা মার মুখ উজ্জল করবে, এটায় প্রত্যেক বাবা মায়ের স্বপ্ন। কিন্ত উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার পরেও ছেলে মেয়ে যদি হয় নেশাখোর, আর নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে সে যদি হয় বাবা মায়ের হত্যাকারী বখাটে। এমন ছেলের মৃত্যুদন্ড হয়ে পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ায় ভালো। পাশাপাশি সকল বাবা-মাকে সচেতনও হতে হবে। মঙ্গলবার গোদাগাড়ী থানার (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, সোমবার সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর থানা এলাকা থেকে খুনি সালেক আহমেদ কে আটক করা হয়। গত রোববার রাত পোনে ১০টার দিকে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার আরিজপুর মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শাহাবুদ্দীনের ছেলে সালেক আহমেদ হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে তার মা সেলিনা বেগম(৫০)কে হত্যা করে। এসময় বাড়িতে সালেক ও তার মা সেলিনা বেগম ছাড়া আর কেউ ছিল না। রাতে বাড়ীতে এসে দরজায় তালা ঝুলতে দেখে স্ত্রীকে আশে পাশের বাড়ীতে খুঁজতে থাকে স্বামী শাহাবুদ্দীন মাষ্টার। কোথাও না পেয়ে এক পর্যায়ে তালা ভেঙ্গে বাড়ীতে ঢোকে স্ত্রী রকাক্ত লাশ দেখতে পান। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতুড়ি জব্দ করেছে। ওসি আরও জানান, আত্মহত্যার নাটক সাজাতে গলায় রশি পেঁচিয়ে মায়ের মরদেহ ঝুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে খুনি ছেলে। কিন্ত গলায় ফাঁস লাগানো থাকলেও শরীরের বেশিরভাগ অংশ মেঝেতেই পড়ে ছিল।পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারলেও ধারনা করছে নেশার টাকার কারণেই হত্যা কান্ডটি ঘটতে পারে। শাহাবুদ্দীন মাষ্টারের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল সালেক আহমেদ। অত্যান্ত মেধাবী সালেক আহমেদ এসিআই মটরস এ চাকুরী করতেন। কিন্ত মাদকাসক্তর কারণে চাকুরী হারায় সে। এদিকে ময়না তদন্ত শেষে সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ফাজিলপুর কবরস্থানে নিহত সেলিনা বেগমকে দাফন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *