Sharing is caring!

photo-28-2-16গোদাগাড়ী থেকে সফিকুল ইসলাম \ গোদাগাড়ীতে বাণিজ্যিক ভাবে পেঁয়াজ বীজ চাষে ঝুকছে কৃষকেরা। পেঁয়াজ বীজে ফলন ভাল হওয়ায় লাভবান হচ্ছে কৃষক। শনিবার বিকেলে উপজেলার সাহাব্দিপুের পেঁয়াজ বীজের জমি সরজমিনে পরিদর্শন করেন রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী কৃষি স¤প্রসারণ অফিসার মরিয়ম আহম্মদ, ভাটোপাড়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার, বিদিরপুর ব¬কের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আশরাফুল ইসলাম, কমিউনিটি ফ্যাসিলেটর মাহমুদুল আলম প্রমুখ। পেঁয়াজ চাষে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গাছ ও ফুল ভাল আছে। কৃষকরা জানান, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হওয়া পর্যন্ত এমন আবহাওয়া বিরাজ করলে এবার ভাল ফলন হবে। প্রতি বিঘায় পেঁয়াজ চাষে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও দেড় থেকে দুই মণ ফলনের আশা কৃষকদের। রাজশাহী গোদাগাড়ী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে তাহেরপুরিসহ বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ বীজ চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে এবার চাষ বেশি হয়েছে ৭০০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বিদিরপুর এলাকায় (ব¬ক) পেঁয়াজ বীজ চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এবার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছে কৃষকরা। গত বছর এই এলাকায় চাষ হয়েছিল ১৫০ হেক্টর জমিতে। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার খাদিজা আক্তার পেঁয়াজ বীজ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করলে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই এলাকার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ বীজ চাষে নেমে পড়ে। ৫০ জন কৃষক পেঁয়াজ বীজ চাষে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। উপজেলার সাহাব্দিপুরের কৃষক মোঃ বজলুর রহমান চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছে। প্রতি বিঘায় পেঁয়াজ বীজ চাষে এখন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। কৃষক বজলুর রহমান বলেন, এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খাদিজা আক্তারের সহযোগীতায় গত বছর ৩ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ বীজ চাষ করে। পেঁয়াজ বীজ চাষে ৭৫ হাজার টাকা খরচ হলে লাভ হয়েছে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। পেঁয়াজ বীজ চাষ করে লাভবান হওয়ায় চলতি মৌসুমে বেশি জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছে। এবারও ভাল ফলন পাওয়ার আশা রয়েছে এই কৃষকের। গত ৩ বছর ধরে পেঁয়াজ বীজ চাষ করে লাভবান হয়ে আসছে উপজেলার সাহাব্দিপুর কৃষক এসএম মাসুদ। তিনি গত বছর ৪ বিঘা পেঁয়াজ চাষ করে খরচ হয়েছিল ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সে লাভ করেছে ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছে। এর মধ্যে এক কাঠা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছে। উপজেলার গোপালপুর বীজ ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম গত বছর পেঁয়াজ বীজ ব্যবসায় লোকসান করে। তাই এবার ব্যবসার পাশাপাশি ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছে। জমিতে গাছ ও ফুল ভাল থাকায় প্রতি বিঘায় দুই মণ পেঁয়াজ বীজ ফলনের আশা রয়েছে এই কৃষকের। গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, উপজেলায় ধান, গম চাষের পাশাপাশি কৃষকেরা অর্থকারী ফসল চাষে ঝুকছে বেশি। এসব আগ্রহী কৃষকদের পেঁয়াজ বীজসহ অর্থকারী ফসল চাষে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে দক্ষ চাষী হিসাবে গড়ে তুলছে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর। উপজেলায় পেঁয়াজ বীজ চাষীদেরকে কারিগরি সহযোগীতা ছাড়াও জমিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা। গত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের কৃষকরা পেঁয়াজ বীজ চাষ করে সাবলম্বি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ বীজ চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *