Sharing is caring!

godagari-shalick-birdসফিকুল ইসলাম, গোদাগাড়ী থেকে \ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার সর্বত্র এককালের ঐতিহ্যবাহী শালিক পাখী বিলুপ্ত হতে চলেছে। এক সময় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শালিক পাখীতে ভরপুর ছিল। ভোর হতেই কিঁচিরমিচির কলকাকলীতে এই এলাকার মানুষের ঘুম ভেঙে যেতো। কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় পাখীদের গুঞ্জরণে ঘুম ভাঙার সাথে সাথেই হাল-গরু নিয়ে ছুটতো ক্ষেত খামারে। সারাদিন শেষে আবার প্রতি সন্ধ্যায় গাঁয়ের গাছ-পালা এবং ঝোপঝাড়ে পাখীদের গুঞ্জরণের যেন হাট বসতো। চড়ুই, টিয়ে, গোবরাকানা, দোয়েল, সারস, বাবুই, শালিক, টুনটুনিসহ নানান পাখীর সমাগোমে ভরে থাকতো এই সব এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এর মধ্যে শালিক পাখী উল্লেখযোগ্য। কালের আবর্তে আজ আর শালিক পাখী তেমন চোখে পড়েনা। আমাদের চেনাজানা পাখিগুলোর মধ্যে শালিক পাখী আজ হারাতে বসেছে। শালিক পাখী এক ধরনের কৃষকের প্রিয় বন্ধু হিসেবে পরিচিত এবং তাদের জন্য খুবই উপকারী হিসেবে স্বীকৃত। তারা, ধান-গম, পাট এবং কলাই চাষে কৃষকের অতন্ত্র প্রহরীর কাজ করে দিতো। উঠতি ফসলের ডগায়, পাতায় পাতায় আবওহাওয়া জনিত কারণে বিভিন্ন পোঁকা-মাকড় ফসলে গ্রোথ কমিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতো। শালিক পাখীরা সারাদিন ফসলের জমিতে অতন্ত্র প্রহরী হয়ে পাতায় পাতায় জন্মানো পোঁকা-মাকড় খেয়ে ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে উৎপাদন এবং অধিক ফলন ও ফসলে নিরাপত্তার কাজটি করে থাকতো। আজ আধুনিকতার সুবাধে কৃষকেরা কীট নাশকসহ নানান ঔষধ ব্যবহার করার ফলে ক্ষেতে কোন পোঁকা-মাকড় না থাকায় আর কোথাও কোন পাখীই পরিলক্ষিত হয় না। সেই সাথে শালিক পাখী আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। তাই কৃষক বান্ধব এই পাখিটি বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট মহলকে এগিয়ে আসার আহবান গুণি মহলের।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *