Sharing is caring!

godagari photo 14-02-16গোদাগাড়ী  প্রতিনিধি \ রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রত্যন্ত পাড়া গাঁয়ের মধ্যে অবস্থীত পাকড়ী ইউপি উপ-স্বাস্থ্য  কেন্দ্রটি। উপ-স্বাস্থ্য  কেন্দ্রটি থেকে গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্সের দুরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার ও গোদাগাড়ী ৩১ শষ্য হাসপাতালের দুরত্ব প্রায় ৩২ কিলো মিটার। পাকড়ী ইউনিয়নের প্রায় ৩১ হাজার ৮শ’ ৬৪ জন সাধারণ জনগনের একমাত্র সেবাদান কেন্দ্র উপ-¯^াস্থ্য কেন্দ্রটি। বর্তমানে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে ১জন মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার ফারহানা ইয়াসমিন, সাব এ্যসিষ্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ইকবাল হোসেন, ফার্মাসিষ্ট রঞ্জু আহম্মেদ কর্তব্যরত রয়েছেন। এমএলএসএস পদটি বর্তমানে শূণ্য রয়েছে। বর্তমানে তিন জন কর্মরত থাকলেও ২/৩ দিন পরপর  সাব এ্যসিষ্ট্যান্ড কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ইকবাল হোসেন ও ফার্মাসিষ্ট রঞ্জু আহম্মেদ ২/৩ ঘন্টার জন্য উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে আসলেও মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার ফারহানা ইয়াসমিন মাসে ২ থেকে ৩ দিনের বেশী উপস্থিত থাকেন না বলে এলাকার সাধারন জনগনের অভিযোগ। যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারন জনগন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দুর্ভোগও চরমে এলাকাবাসীর। গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় পাকড়ী ইউপি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকল রুমে তালা লাগানো রয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্র এলাকার মধ্যে গরু বাধাঁ রয়েছে এবং চারিদিকে গোবর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দুর থেকে কয়েকজন লোক সাংবাদিকদের দেখে ছুটে আসেন। ছুটে আসা লোকজনের মধ্যে পাকড়ী পশ্চিম পাড়ার মুন্তাজ আলী বুলু (৬৫), সাবিনা বেগম (৩৫), মিলন (৩০)সহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের বলেন সাব এ্যসিষ্ট্যান্ড কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ইকবাল হোসেন ও ফার্মাসিষ্ট রঞ্জু আহম্মেদ ২/১ দিন পর পর সকাল ১১ টার সময় এসে দুপুর ১২ টার পর চলে যান। মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার ফারহানা ইয়াসমিন মাসে ২/১ দিন আসেন। ২/৩ ঘন্টা থাকার পর চলে যান। এলাকার জন সাধারণ ডাক্তার না আসায় কোন চিকিৎসাসেবা পাই না। সাংবাদিক শুনে ছুটে আসেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আয়া সামেনা বেগম (৫০)। তিনি বলেন ডাক্তাররা ৩ জন আমাকে মাসে ৩’শ টাকা বেতন দেন। তাই মাঝে মধ্যে এসে সব কিছু পরিস্কার করি। ৩’শ টাকা বেতনে কি হয়? তিনিও বলেন ডাক্তার ফারহানা ইয়াসমিন মাসে ২/৩ দিন আসেন। ইকবাল হোসেন ও রঞ্জু আহম্মেদ ২/১ দিন পরপর আসেন আমি এসে তালা খুলে দ্ইি। আয়া সামেনা বেগম উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের তালা খুলে দিলে ভিতরে গিয়ে দেখা যায় সিগারেটের অসংখ্য বোটা ও ছাই মেঝেতে পড়ে থাকতে। জানতে চাাইলে সায়েমা বেগম বলেন ২ দিন থেকে পরিস্কার করা হয়নি। এব্যাপারে ডাক্তার ফারহানা ইয়াসমিন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাংবাদিকদের কথা বিশ্বাস করিনা। গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ হোসেন আলী বলেন, সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সকলকে কর্মস্থলে থাকতে হবে। ডাক্তার না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা স্বচিব নেতাদের আত্মীয় হওয়ায় কিছু করতে পারি না। দরিদ্র মানুষের দৌড়গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দেয়ার লক্ষ্যেই সরকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো নির্মান করে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পুরন না হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যবস্থা নেবেন কর্তৃপক্ষ এমনটায় আশা স্থানীয়দের।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *